অপরাধ
নড়াইলে দু-পক্ষের সংঘর্ষে পিতা-পুত্রসহ ৫ জন নিহত
উচ্চকন্ঠ 23-Feb-2026 41
কাজী আতিকুর রহমান, নড়াইল জেলা প্রতিবেদক: নড়াইল সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারের জেরে সিংগোশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের গ্রুপ এবং খলিল গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় বাবা-ছেলেসহ উভয় পক্ষের মোট ৫ জন নিহত হয়েছেন। এতে অন্তত ৬ থেকে ৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার বড়কুলা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নড়াইলের পুলিশ সুপার আম মামুন শিকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন- উপজেলার বড়কুলা গ্রামের খলিল গ্রুপের খলিল রহমান, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন, একই গ্রুপের ফেরদৌস হোসেন ও তার ছেলে মুন্না শেখ এবং সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের গ্রুপের ওসিবুর মিয়া। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার সিংগোশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের ও খলিলের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে সোমবার ভোরে বড়কুলা এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই খলিল গ্রুপের রহমান খলিল, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন ও একই পক্ষের ফেরদৌস হোসেন ও তার ছেলে মুন্না শেখ মারা যান। এসময় গুরুতর আহত সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের গ্রুপের ওসিবুরকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নড়াইলের পুলিশ সুপার আল মামুন শিকদার বলেন, এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শিঙ্গাশোল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. খায়রুজ্জামান ওরফে খয়ের মোল্লার পক্ষের রহমত হোসেনের লোকজনের সঙ্গে খলিল শেখের দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলে আসছিল। নিহতরা তারাপুর গ্রামের বাসিন্দা হলেও ৯-১০ বছর আগে গ্রাম্য মারামারি এড়িয়ে থাকতে পার্শ্ববর্তী বড়কুলা গ্রামে এসে বসবাস শুরু করেন। তারপরও এখানে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলছিল। নিহত খলিল শেখের স্ত্রী মঞ্জুরা বেগম (৬৫) বলেন, সোমবার ভোর রাতে সেহেরি খেয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তারাপুর গ্রাম থেকে সাবেক চেয়ারম্যান মো. খায়রুজ্জামান ওরফে খায়ের মোল্লার ৫০-৫৫ জন লোক দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা আমার স্বামী খলিল ও ছেলে তাহাজ্জতকে “কথা আছে” বলে ঘর থেকে বের করে নিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এ ছাড়া আমাদের পক্ষের ফেরদাউসকেও একইভাবে কুপিয়ে হত্যা করে বীরদর্পে চলে যায়। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ গ্রুপের আহত ওসিকুর ফকিরকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তির পর তিনি মারা যান। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশ এ ব্যাপারে কাজ করছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
office@ukantho.com