প্রিয় ঝিনাইদহ
তিন দিবসে ব্যস্ত ঝিনাইদহের ফুল চাষিরা, ৩১৮ হেক্টর জমিতে ফুলের আবাদ, বাজার মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা
উচ্চকন্ঠ 09-Feb-2026 39
বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: দরজায় কড়া নাড়ছে বসন্ত আর বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। তার কিছুদিন পর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এই তিনটি দিবসের বাজার ধরতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ঝিনাইদহের ফুলচাষীরা। এই তিন দিবস উপলক্ষে ফুল বিক্রি করে সারা বছরের লাভ-লোকসানের হিসাব কষবেন তারা। তাইতো বেড়েছে ব্যস্ততা। এদিকে ভালো ফলন পেতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের দেওয়া হচ্ছে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা।
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার তালিনা গ্রামের দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ যেন রূপকথার হলুদ ক্যানভাস। যতদূর চোখ যায় শত শত বিঘা জমি জুড়ে রোদে ঝিলমিল করছে গাদা ফুলের উজ্জ্বল হলুদ আভা। সবুজ পাতার ফাঁক দিয়ে মাথা তুলে থাকা গোল গোল ফুলগুলো যেন সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে।
একইভাবে জেলার কালীগঞ্জ, মহেশপুর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠজুড়ে শোভা পাচ্ছে গোলাপ, গ্লাডিওলাস, জারবেরা ও রজনীগন্ধাসহ নানা রঙের ফুল। এসব মাঠে ভালো ফলন ও কুঁড়ি ধরে রাখতে চলছে পরিচর্যা। কোথাও কীটনাশক স্প্রে, আবার কোথাও আগাছা দমনে ব্যস্ত কৃষকরা।
বসন্ত, ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সামনে রেখে তিন দিনের বাজার ধরার লক্ষ্য তাদের। দাম ভালো পেলে গত বছরের মতো এবারও লাভের মুখ দেখবেন এমন প্রত্যাশা চাষিদের। তবে এবার নির্বাচনে প্রভাব পড়তে পারে ফুলের দামে।
তালিনা গ্রামের ফুল চাষি আব্দুর রাজ্জাক জানান, বসন্ত, ভালোবাসা ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ফুলের চাহিদা থাকে বেশি। তবে সঠিক সময়ে যদি ফুল তুলে বাজার ধরতে পারি তাহলে এবার ভালো দাম পাব বলে আমি আশা করছি।
অপর ফুল চাষি হরেন্দ্রনাথ জানান, আন্দলনের করেনে গত বছর আমাদের যে ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে চলতি বছর লাভের মুখ দেখবো এমনটিই আশা করছি।
জাকারি আলম জানান, আমি ফুলের বাগানে কাজ করি দীর্ঘদিন ধরে। তবে এই তিনটি দিবস একই মাসে হওয়াই আমার ব্যস্ততা এতটাই বেড়ে যাই যে আমি কারও সাথে ঠিক মত কথাই বলতে পারি না। এমন কি আমি সময় মত খাবার খেতেও পারি না।
ফুল ব্যবসায়ী জাহিদ হাসান জানান, বর্তমানে বাজারে গোলাপ ফুলের সংকট দেখা দিয়েছে কারণ সামনে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। আর ভালোবাসা দিবসের দিন একটি গোলাপ ৪০ থেকে ৫০ টাকা বিক্রি হবে বলে আশা করছি।
ঝিনাইদহের ফুলনগরী হিসাবে ক্ষ্যাত কালীগঞ্জ উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক হাফিজুর রহমান জানান, ফেব্রুয়ারি মাসে তিনটি দিবসকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলের ফুল চাষিরা লক্ষ লক্ষ টাকা লাভের স্বপ্ন দেখছেন। চলতি বছর ১৫ শতক জমিতে গাঁদা ফুলেরলের চাষ করেছি। শেষ পর্যন্ত ফুল ধরে রাখতে নিড়ানি, আগাছা নিধন, স্প্রে করা, কীটনাশক দেয়া থেকে শুরু করে সবই করছি। বর্তমানে ৩’শ-৪’শ টাকা করে গাঁদা ফুলের ঝোপা বিক্রি হচ্ছে। যা আগে ছিল ১’শ-দেড় শত টাকা।
কবির হোসেন জানান, আমি গোলাপ বাগান করেছি প্রায় দুই বিঘা জমিতে। এ মাসের শুরু থেকেই ভালো দাম পেতে শুরু করেছি। আশায় বুক বেঁধেছি সব লোকসান কাটিয়ে উঠে ৩ দিবসে ফুল বিক্রির মাধ্যমে। শ্রমিকের সাথে নিজে থেকে ক্ষেত ও ফুলের জমি পরিচর্যায় খুব ব্যস্ত সময় পার করছি। বর্তমানে ৩’শ-৪’শ টাকা করে গাঁদা ফুলের ঝোপা বিক্রি হচ্ছে। যা আগে ছিল ১’শ-দেড় শত টাকা।
ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর উপ-পরিচালক মোঃ কামরুজ্জামান জানান, ফুল চাষ ও সংরক্ষণে চাষীদের প্রযুক্তিগত নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য মতে এ বছরের জেলার ৬ উপজেলায় ৩’শ ৯৮ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে নানা জাতের ফুলের। যা বিক্রি করে আয় হবে প্রায় ৩ কোটি টাকা।
office@ukantho.com