অপরাধ
নড়াইলে নিখোঁজের এক মাস পর গৃহবধূর গলিত লাশ উদ্ধার
উচ্চকন্ঠ 28-Jan-2026 56
এফএনএস: নিখোঁজের এক মাস আট দিন পর নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় এক গৃহবধূর গলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্বামী আল-আমীনের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বাবরা-হাচলা ইউনিয়ন কমিউনিটি ক্লিনিকের সেপটিক ট্যাংক থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী আল-আমীন মন্ডল ওরফে ইরানুরকে (৪২) আটক করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কালিয়া থানা পুলিশ ওই লাশ উদ্ধার করে। নিহতের নাম সুমি ওরফে আলপনা (৩৫)। তিনি কালিয়া উপজেলার শুক্তগ্রাম (পূর্ব পাড়া) এলাকার বাসিন্দা এবং আল-আমীন মন্ডলের স্ত্রী। সুমি লোহাগড়া উপজেলার কুমড়ি গ্রামের আজমল মোল্যার মেয়ে। পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার পর সুমি শ্বশুরবাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। পরদিন তার ভাই সাকিব কালিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির পর পুলিশ ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সুমির নিখোঁজে স্বামী আল-আমীনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে। গত মঙ্গলবার বিকেলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে থানা হেফাজতে নেওয়া হলে তিনি পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে লাশ গুম করতে বাড়ির পাশের কমিউনিটি ক্লিনিকের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখার তথ্য দেন। তার দেখানো স্থান থেকেই রাতে লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, আল-আমীন কোনো কাজ না করে সুমির জমানো টাকায় চলতেন এবং বিভিন্ন নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। এসব নিয়ে দাম্পত্য কলহ চলছিল এবং সুমি প্রতিবাদ করায় নির্যাতনের শিকার হতেন। তারা এই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। কালিয়া থানার ওসি ইদ্রিস আলী জানান, জিডির পর ছায়া তদন্তে স্বামীর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং তার দেখানো স্থান থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের তথ্য মিলেছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
office@ukantho.com