মঙ্গলবার | ২৮ জুলাই ২০২৬ ইং | বাংলা
Logo
ব্রেকিং নিউজঃ

রাজনীতি

ক্ষমতায় গেলে জনগণের সম্পদে হাত দেবো না: জামায়াত আমির

উচ্চকন্ঠ   26-Jan-2026   52

Photo

এফএনএস: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় গেলে জনগণের সম্পদের ওপর কোনোভাবেই হাত দেওয়া হবে না। দেশ পরিচালনায় জামায়াতের নীতি হবে সততা, জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। গতকাল সোমবার দুপুরে মেহেরপুর সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের শিকার। আমরা ক্ষমতায় গেলে এই অপসংস্কৃতির অবসান ঘটাব। জনগণের আমানত জনগণের কাছেই থাকবে। তিনি আরও বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে বেকার সমস্যা সমাধানে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। শিল্প, কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান বিস্তারের অঙ্গীকার করেন তিনি। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। আমিরে জামায়াত বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে আইনের শাসন থাকবে, মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে এবং রাষ্ট্র জনগণের কল্যাণে কাজ করবে। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি আসন্ন নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন এবং চলমান গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। দুপুর আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে জনসভাস্থলের মঞ্চে পৌঁছান ডা. শফিকুর রহমান। তাকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য শেষে তিনি চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এদিকে, গতকাল সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫৪ বছর ধরে যখন যে ক্ষমতায় এসেছে, এ দেশকে খাবলে খামচে একেবারে তছনছ করে দিয়েছে। আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও চরিত্র পরিবর্তন না হলে দেশের জন্য ভালো কিছুই করতে পারবে না। এসময় তিনি আফসোস করে বলেন, সাড়ে ১৫ বছর পর যখন একটা পরিবর্তন এলো, আমরা দেখলাম পুলিশ নাই, বিজিবি নাই, আনসারের ছায়াও নাই। নিভু নিভু অবস্থায় আমাদের সেনাবাহিনী জান দিয়ে চেষ্টা করছে কিছু করার, তারা পারছে না। তাদের পাশে মজবুত হয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম। এ দেশ আমাদের দেশ। এত মজলুম একটা সংগঠন, এর নেতৃবৃন্দকে খুন করা হলো, ফাঁসি দেওয়া হলো। দফায় দফায় জেলে পোরা হলো, অফিস বন্ধ করে রাখা হলো। ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হলো। আমাদের নিবন্ধন কেড়ে নেওয়া হলো। শেষপর্যন্ত বেদিশা সরকার বেহুঁশ হয়ে আমাদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করলো। এরপর আর হুঁশ ফিরে পায়নি। ওই বেহুঁশ অবস্থায় দেশ ছেড়ে তারা চলে গেছে। কুষ্টিয়ার সমস্যার দিকে দৃষ্টি ফিরিয়ে আমির শফিকুর রহমান বলেন, এখানে আপনাদের অনেকগুলো সমস্যা আছে। আমরা যখন আসছিলাম, ওপর থেকে দেখছিলাম পদ্মা-গড়াই নদী নয়, যেন মরুভূমি। এটা যখন মরুভূমি হয়ে গিয়েছে, তখন ওপর থেকে যখন ঢলের পানি আসে তখন আর নদীতে থাকে না। দুই কূল উপচে পড়ে, দুই কূল ভাসিয়ে সবকিছুকে তছনছ করে দেয়। বছরের পর বছর নদী ভাঙনের কবলে পড়ে বহু মানুষের জীবনের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। অনেক মানুষ সর্বস্বান্ত। কেন এমনটা হলো? নদী তো আল্লাহর নিয়ামত। তিনি বলেন, আমাদের দেশে আল্লাহর এই নিয়ামতগুলোকে তিলে তিলে খুন করা হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে। এই নদী খননের জন্য প্রত্যেক বছর বাজেট থাকে। নদী খননের সমস্ত টাকা মুখ দিয়ে ঢুকে, পেটের ভেতরে চলে যায়; নদীর বালি আর ওঠে না। খননও হয় না। উন্নয়নের নামে ৫৪ বছর কমবেশি যারাই ক্ষমতায় গিয়েছে, এই একই কাজ তারা করেছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ চালের মোকাম কুষ্টিয়ায়। এখানে খাজনার নামে চাঁদা তোলা হয় অভিযোগ তুলে আমির বলেন, এখান থেকে চাল বোঝাই করে ট্রাক রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যায়। সেখানে প্রতিটি ট্রাক থেকে বেসরকারি খাজনা আদায় করা হয়। চাঁদা বললে মানুষ একটু লজ্জা পায়, এইজন্য বললাম বেসরকারি খাজনা। রেটও ভালো। প্রতি ট্রাকে ৫০০০ টাকা। ট্রাকের মালিকরা অতিষ্ঠ, ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ। তিনি বলেন, আমরা নিজেরা খাওয়ার জন্য রাজনীতি করি না এবং দলীয় কর্মীদের পেট ভরানোর জন্য আমরা রাজনীতি করি না। বরঞ্চ এদেশের দুঃখী ভুখা নাঙ্গা মানুষের মুখে একটু খাবার তুলে দিতে পারি, আর পিঠে একটু কাপড় তুলে দিতে পারি সেই রাজনীতি করি। এটাই হবে আমাদের সংগ্রাম, ইনশাআল্লাহ। সকাল ৯টায় কুষ্টিয়ার আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে শুরু হয় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি জনসভা। ভোর থেকেই দলটির নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে। স্বেচ্ছাসেবকরা শহরের বিভিন্ন মোড়ে অবস্থান নিয়ে জনসভাস্থলের পথ সুগম রাখার চেষ্টা চালান। সকাল ১০টার মধ্যে জামায়াত আমিরের জনসভাস্থলে পৌঁছানোর কথা থাকলেও কুয়াশায় বিলম্বিত হয় তার যাত্রা। জনসভাস্থলে পৌঁছান প্রায় ১২টার দিকে। জনসভায় ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির ও কুষ্টিয়া-২ আসনের দলীয় প্রার্থী আব্দুল গফুর, সেক্রেটারি সুজা উদ্দিন জোয়ার্দ্দার, কুষ্টিয়া-৩ আসনের প্রার্থী আমির হামজা, কুষ্টিয়া-১ আসনের প্রার্থী বেলাল উদ্দিন, কুষ্টিয়া-৪ আসনের প্রার্থী আফজাল হোসাইন ও কুষ্টিয়া শহর জামায়াতে ইসলামীর আমির এনামুল হক।

office@ukantho.com


Photo

রংপুরে মায়ের হাতে ৫ মাসের শিশু হত্যা

এফএনএস: রংপুরের তারাগঞ্জে ৫ মাস বয়সী শিশুকন্যাকে জবাই করে হত্যা করা...

Photo

সিলেট সীমান্তে বিএসএফ-বিজিবি গোলাগুলি

এফএনএস: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনারহাট সীমান্ত এলাকায় ভারতীয়...

Photo

ঝিনাইদহে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিজয় র‌্যালিতে জনতার ঢল

বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝিনাইদহ: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি...

Photo

ঝিনাইদহে ইজিবাইক ছিনতাই চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার, লুন্ঠিত ইজিবাইক ও মোবাইল উদ্ধার

বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহে ইজিবাইক ও মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের...

© 2026 উচ্চকন্ঠ কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত