অপরাধ
টাকার বিনিময়ে ছেলেকে হত্যার অনুমতি দেন মা
উচ্চকন্ঠ 07-Nov-2025 69
এফএনএস: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে টাকার বিনিময়ে নিজের ছেলেকেই নির্মমভাবে হত্যার অনুমতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। হত্যার উদ্দেশ্যে মায়ের কাছ থেকে ভিকটিম সিরাজুলকে দেড় লাখ টাকায় কিনে নেওয়া হয়। নিহত সিরাজুল উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মৃত শাহাদৎ হোসেন মন্ডলের ছেলে। গত ২৮ অক্টোবর সিরাজুল ইসলাম মন্ডল (২৫) নামে এক মাদকাসক্ত যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এর আটদিনেই রহস্য উদঘাটন করেছে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে পাঁচজনকে। তাদের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নির্মম এ তথ্য জানান বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই শারফুল ইসলাম। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- পূর্ব চর কৈজুরী গ্রামের মৃত ওয়াজেদ আলী মন্ডলের ছেলে মো. আল আমীন মন্ডল (৩৮), একই গ্রামের সানোয়ার মন্ডলের ছেলে মো. সেলিম মন্ডল (৩২), মো. শহিদ আলী মন্ডলের ছেলে মো. আমিরুল ইসলাম (৩৩), মৃত ইয়াছিন প্রামাণিকের ছেলে মো. ওমর ফারুক (৩৮) ও মৃত আজগর প্রামাণিকের ছেলে মো. আব্দুল গফুর প্রামাণিক (৫৫)। গত বৃহস্পতিবার রাতে এসআই শারফুল জানান, গত ২৮ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় সিরাজুলকে বেড়ানোর কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান মো. ওমর আলীসহ কয়েক যুবক। রাতে সিরাজুল বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন ওমর আলীসহ অন্যান্যদের বাড়িতে খোঁজ নেন। কিন্তু তাদেরও বাড়িতে পাওয়া যায় না। পরদিন ২৯ অক্টোবর ভোরে পূর্ব চর কৈজুরী গ্রামের রাস্তায় সিরাজুলের ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়। সকালে শাহজাদপুর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের মা শেফালী খাতুন বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের চুন্নু মেম্বার ও খোকন মাস্টার গোষ্ঠীর লোকজনকে আসামি করে মামলা করেন। এ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে গঠিত তদন্ত টিম তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত ৩ নভম্বের গভীর রাতে শাহজাদপুর থানা এলাকা থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন শাহজাদপুর চৌকি আদালত আসামিদের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এসআই শারফুল আরও বলেন, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে লোমহর্ষক বর্ণনা দেন আসামিরা। বুধবার আসামিদের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আসামিদের জবানবন্দি থেকে জানা যায়, পূর্ব চর কৈজুরী গ্রামের মুসা মন্ডল ও গফুর প্রামাণিক গোষ্ঠীর সঙ্গে একই এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন খোকন মাস্টার ও চুন্নু মেম্বার গোষ্ঠীর শত্রæতা রয়েছে। ২০২১ সালে দুই গোষ্ঠীর মারামারির ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মুসা মন্ডল ও গফুর প্রামাণিক গোষ্ঠীর লোকজনের নামে হত্যা মামলা হয়। পরে ওই হত্যা মামলায় বাদীর সঙ্গে আসামিরা ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় মীমাংসা করে নেন। আপসের পাঁচ লাখ টাকা ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন খোকন মাস্টারের হাতে জমা দেয় প্রতিপক্ষ। বাকি টাকা যাতে না দিতে হয় এবং বাদীপক্ষের লোকজনে ফাঁসানোর জন্য মাদকাসক্ত সিরাজুলকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ভিকটিম সিরাজুল মাদকাসক্ত হওয়ায় তার পরিবারও অতিষ্ঠ ছিল। পরিকল্পনা মোতাবেক আসামিদের একজন ভিকটিম সিরাজুলের মায়ের কাছে গিয়ে সিরাজুলকে মেরে ফেলার কথা জানান। এ হত্যাকান্ডের জন্য দুই লাখ টাকাও লেনদেন হয়। যার মধ্যে দেড় লাখ টাকা ভিকটিমের মাকে দেওয়া হয়। জবানবন্দিতে আসামিরা আরও জানান, ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় সিরাজুলকে নিয়ে এক বাড়িতে আটকে রাখা হয়। রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
office@ukantho.com