প্রিয় ঝিনাইদহ
আনোয়ারনামা: ভূমি অফিসে করনিক পদে চাকুরী করে কিনেছেন ২৫ বিঘা জমি, জেলা শহরে বানিয়েছেন দুইতলা আলিশান বাড়ি
উচ্চকন্ঠ 11-Feb-2025 26
বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: আনোয়ার হোসেন। কাজ করেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের করনিক পদে। ১৯৮৯ সালে উপজেলা ভূমি অফিসের পিয়ন পদে যোগদান করেন। পদোন্নতি পেয়ে এখন অফিস করনিক। পদোন্নতি পেয়ে ২০১৬ সালে কালীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে আসেন। বর্তমানে কালীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে দ্বায়িত্ব পালন করছেন। চাকরীকালীন ৩৫ বছরে তার গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের করাতিপাড়া ও খড়াশুনির মাঠে প্রায় ২৫ বিঘা জমি কিনেছেন। ঝিনাইদহ শহরের হাকিয়েছেন দুইতলা একটি বাড়ি। পৈত্রিক সূত্রে সামান্য জমিজমার মালিক আনোয়ার হোসেন পিয়ন থেকে করনিকের চাকরী করে কিভাবে ২৫ বিঘা জমি ও বাড়ির মালিক তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এসব নিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা একাধিক ভূমি মালিক। অভিযোগকারীরা বলছেন, সেবা দেওয়ার নামে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়েও নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে।
বিগত ২০১০ সালে কোটচাঁদপুর ভূমি অফিসে নাজিরের দ্বায়িত্বে থাকাকালীন ডিপি মামলা হয়। যদিও পরে উচ্চ মহলের দেনদরবারে সে মামলা নিষ্পত্তি হয়। ২০১৭-১৮ সালে কালীগঞ্জ থাকাকালীন ডিসিআর এর ৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। যা বিভাগীয় তদন্তে উঠে আসে। ২০১৮ সালে আনোয়ার হোসেন ও সার্ভেয়ার মরতুজ আলি ও অফিস সহকারী তপন তিনজন যোগসাজস করে ভূমি অফিসের ১২ টি সরকারী গাছ কেটে বাসার আসবাবপত্র তৈরি করেন। একই সময়ে টাকার বিনিময়ে অবৈধ নামজারি রেজিষ্ট্রেশন করে একদিনে নামপত্তন করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও সাবেক সার্ভেয়ার মরতুজ, অফিস সহকারী তপন ও নাইট গার্ড শহিদ দীর্ঘ ৮ বছর ধরে দূর্নীতির রাজত্ব কায়েম করেছিল। যদিও বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিন আলম যোগ দেওয়ার পর তাদের অবৈধ রাজত্বে ভাটা পড়ে। ইতোমধ্যে সার্ভেয়ার মরতুজ অন্যত্র বদলি হয়েছেন।
কালীগঞ্জ উপজেলার খালকুলা গ্রামের অচিন্ত মন্ডলের ছেলে লিটন কুমার জানান, ২০২৪ সালের জুনে তার এক দাগে কেনা সম্পত্তির নামপত্তনের জন্য আবেদন করি। সরকার নির্ধারিত ফি থেকে অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন ভূমি অফিসের করনিক আনোয়ার হোসেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় প্রথম দিকে নথি হারিয়ে গেছে এমন অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। এরপর আমি বাধ্য হয়ে ৪ হাজার টাকা তার হাতে তুলে দিই্। তবে ৬ মাস পার হয়ে গেলেও আমার সে নামপত্তনের কাজ এখনো হয়নি। এখন জিজ্ঞেস করলেই বলে হয়ে যাবে।
উপজেলার সিংদহ গ্রামের এনামুল নামে এক ভূমি মালিক ০১৭৩৪১২৯৭৭৯ জানান, ২০১৯ সালে কালীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের করনিক আনোয়ার হোসেন আমার ফুফুদের জমি জাল স্বাক্ষর করে দলিল ও নামপত্তন করে দেন। যা একটা ঝামেলা হয়েছিল, পরে তা ঠিক হয়ে গেছে।
একই সময়ে নরদহী গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে নজরুল ইসলামের একটি মিস কেস সংশোধনের কথা বলে ৪০ হাজার টাকা আদায় করেন বলেও জানা গেছে। এভাবেই ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারন মানুষকে বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা তার কাজ। এছাড়া সরকারি চাকরির নিয়মে এক অফিসে তিন বছরের বেশি থাকার নিয়ম না থাকলেও এতদিন কিভাবে আছেন তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযুক্ত কালীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের করনিক আনোয়ার হোসেনের ০১৭১৯-৮১৮৬৮৯ নাম্বার মোবাইলে কথা বললে জানান, সত্য কথা বলতে আগে কাজ করতে গিয়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা নিতাম এখন আর কোন টাকা নিই না। জমি ও বাড়ি সম্পর্কে তিনি বলেন, ৩০ বছরের অধিক সময় চাকরী করছি একটি বাড়ি করতেই পারি। সবারই স্বপ্ন থাকে একটি বাড়ি করা। তাছাড়া পৈত্রিক সূত্রে আমার কিছু জমি আছে। যার সাথে অল্প অল্প করে আমি আরো জমি কিনেছি। তবে কত পরিমাণ জমি কিনেছেন তা তিনি বলেননি।
কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহিন আলম বলেন, আমি কালীগঞ্জ আসার পর স্বচ্ছভাবে জনগণের সেবা প্রদানের চেষ্টা করে যাচ্ছি। তার অভিযোগ বিষয়ে আমার জানা নেই বা এ বিষয়ে কেউ আমার কাছে অভিযোগও করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
office@ukantho.com