প্রিয় ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহে ৫০ বিঘা নদীর জমি অবৈধভাবে দখলে রেখেছে আ. লীগ নেতা ও তার পরিবার, প্রশাসনের রহস্যজনক নিরবতা
উচ্চকন্ঠ 28-Oct-2025 72
বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ভৈরব নদী এখন আর কোন জলপ্রবাহ নয়, এটি এখন রীতিমতো একটি দখলদার চক্রের লুটকৃত সম্পদে পরিণত হয়েছে। উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শমসের এবং তার দুই ভাই শফিকুল শমসের ও তরিকুল শমসের দীর্ঘদিন ধরে অর্ধশত বিঘারও বেশি নদীর জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দখলদারিত্ব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কৃষকদের নদীতে নামতে পর্যন্ত বাধা দেওয়া হচ্ছে। নদীর পাড় ঘেঁষে তৈরি করা হয়েছে পাকা প্রাচীর, যাতে সাধারণ মানুষ নদীমুখীই হতে না পারে। এলাকার মানুষের ভাষ্য, এটা কোনো সাধারণ জমি দখল নয়, বরং এটি একটি সংঘবদ্ধ ও রাজনৈতিকভাবে পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটের প্রকাশ্য তান্ডব।
সরেজমিন দেখা যায়, ঘোপপাড়া ও সাদিকপুর গ্রামের নদীর দুই পাড়জুড়ে শস্যক্ষেত। কিন্তু তা কোনো কৃষকের নয়, বরং প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের কব্জায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, আ. লীগ সরকারের আমলে রাশেদ শমসের ও তার ভাইয়েরা বছরের পর বছর ধরে এই জমিগুলো দখল করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। প্রতিবাদ করলেই দেওয়া হতো হুমকি, মামলা, করা হতো হয়রানি।
স্থানীয় কৃষক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, নদীর দুই পাড় পুরো দখলে। আমরা নদীতে নামতেই পারি না। ব্রিজের পাশে দেয়াল তুলে দিয়েছে, যেন কৃষকরা একফোঁটা পানিও না পায়।
অন্য এক স্থানীয় বাসিন্দা, জাহাঙ্গীর আলম সর্দার বলেন, তারা শেখ মুজিবের মুর্যাল বানিয়ে, কলেজের নাম ব্যবহার করে নদী ও সরকারি জমি দখল করে নিয়েছে। শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর এখন আবার নতুন করে দখল শুরু করেছে শফিকুল শমসের। এমনকি সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত জমিও রেহাই পাচ্ছে না এই চক্রের হাত থেকে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, আমার কেনা জমির নিচে নদীর জায়গা ছিল। সেটি দখল করে তাতে ছাতা স্থাপন করেছে শফিকুল। এখন সে আমার জমিতেও প্রাচীর তুলছে। আমি আদালতে গিয়েছি, ১৪৪ ধারা জারি হয়েছে, তবু কাজ থামেনি। এটাই কি আইনের শাসন?
অভিযোগের বিষয়ে রাশেদ শমসেরের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও শফিকুল শমসের ছাতা নির্মাণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। যদিও তিনি দাবি করেছেন, এটা স্থায়ী কিছু না। চাইলে ভেঙে দেবো। নজরুল ইসলামের জমি দখলের অভিযোগ তিনি মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেন।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কুমার দাস বলেন, নদীর জায়গা দখল করে চাষাবাদ করার কোন সুযোগ নেই। আমরা দ্রুতই লোক পাঠিয়ে তালিকা করব। যদি দখল হয় তা উচ্ছেদে ব্যবস্থা নিব।
office@ukantho.com