বৃহস্পতিবার | ৩০ জুলাই ২০২৬ ইং | বাংলা
Logo
ব্রেকিং নিউজঃ

প্রিয় ঝিনাইদহ

ঝিনাইদহে নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষকের তালিকায় থাকা অফিসে বিউটি পার্লার

উচ্চকন্ঠ   22-Oct-2025   65

Photo

বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষক সংস্থার তালিকায় এবারও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাম এসেছে নাম সর্বস্ব তিনটি প্রতিষ্ঠানের। যার কোনটির অস্বিত্বই মেলেনি, কোনটি আবার দুই কক্ষের অফিসের একটি বিউটি পার্লার একটি অফিস হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে। এমন প্রতিষ্ঠানের তালিকায় নাম আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঝিনাইদহ জেলার সর্বস্তরের মানুষ।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য গত ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে ৭৩টি স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রকাশিত তালিকায় ঝিনাইদহ সদর উপজেলার তিনটি সংস্থার নাম রয়েছে। যার কোনোটির অস্তিত্বই নেই।
তবে সম্প্রতি প্রকাশিত পর্যবেক্ষণ সংস্থার তালিকায় নাম এসেছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার তিনটি সংস্থার নাম। তবে এ তিনটি সংস্থার মধ্যে কোনোটির অস্তিত্বই পাওয়া যাইনি। যার একটি সদর উপজেলার বিষয়খালী’র খড়িখালী এলাকার আলোকিত সমাজ কল্যাণ সংস্থা, জেলা শহরের চাকলাপাড়া এলাকার এসোসিয়েশন ফর সোসিও ইকোনোমিক এ্যাডভান্সমেন্ট (এসিয়া) এবং একই এলাকার হেভেন সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা। আর এই তিনটি সংস্থার অফিস ঘুরে মিলেছে নানা অসংগতি।
সদর উপজেলার বিষয়খালীর খড়িখালী এলাকায় গিয়ে জানা যায়, বিগত ২০০১ সালে বাজারের শফিউদ্দিন নামের এক মালিকের একটি আবাসিক ভবনে আলোকিত সমাজ কল্যাণ সংস্থার যাত্রা শুরু হয়। পরে লোকসানে পড়ে সংস্থাটি ২০০৯ সালের দিকে মালিকানা বিক্রি করে দেওয়া হয় কালীগঞ্জের এক আওয়ামীলীগ নেতার কাছে। এরপর আর বাজারটিতে সংস্থার কোন কার্যক্রম চোখে পড়েনি। বিষয়খালী বাজার, খড়িখালী, ছোট-খড়িখালী কোন গ্রামে গিয়েই পাওয়া যায়নি এই সংস্থার অফিস।
এমনকি নির্বাচন কমিশনের তালিকায় সংস্থার নির্বাহী প্রধান রোখসানা খাতুনের এলাকার কোন খোঁজ মেলেনি। এই এলাকার অনেক মানুষই জানেনা ঠিক কবে কার্যক্রম ছিল সংস্থাটির, বা আদৌ ছিল কি না।
অপর দিকে শহরের চাকলাপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, একটি আবাসিক ভবনের নিচ তলায় ঝুলছে এসোসিয়েশন ফর সোসিও ইকোনোমিক এ্যাডভান্সমেন্ট (এসিয়া) এর সাইনবোর্ড, অপরপাশে বিউটি পার্লারের সাইনবোর্ড। নিচতলার দুটি কক্ষের একটিতে বসে আছেন সংস্থার নির্বাহী প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন। এই দুটি কক্ষকেই অফিস দাবি করলেও গত এক বছর একটি কক্ষ ব্যবহার হচ্ছে বিউটি পার্লার হিসাবে।
নির্বাহী প্রধানের নিজ মালিকানাধীন ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে হেভেন সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার অফিস হিসাবে ব্যবহার হয়। এই সংস্থারও নির্বাহী প্রধান ও সভাপতি আনোয়ার হোসেন নিজেই। কক্ষটি বন্ধ ছিল, সাংবাদিক দেখে তিনি অফিস খুলে দেখান। দুটি অফিসের মধ্যে শুধু এসিয়া অফিসের একটি কক্ষে আনোয়ার হোসেনকে বসে থাকতে দেখা গেছে। তবে তার পরিচালিত দুটি অফিসের একটিতেও অন্য কোন সদস্যকে পাওয়া যায়নি। টেবিলে কম্পিউটার আর কিছু ফাইল দেখা যায়।
এসিয়া ও হেবেন এই দুই সংস্থার নির্বাহী প্রধান আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি নিজেই দুটি প্রতিষ্ঠান চালায়। আমাদের সদস্য ২৮ জন। তবে আমি ছাড়া আমার প্রতিষ্ঠানের আর কারো নির্বাচন পর্যবেক্ষণের কোন অভিজ্ঞতা নেই। অভিজ্ঞতা ছাড়া তারা কিভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন আর নিজের মালিকানাধীন দুটি প্রতিষ্ঠান পর্যবেক্ষকের তালিকায় স্থান পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে কমিশন থেকে প্রশিক্ষণ দেবে, তাতেই চলবে। তখন আমার সদস্যরা শিখে নেবে। আর কমিশন তালিকা চেয়েছিল আমরা আবেদন করে সেই তালিকায় স্থান পেয়েছি। সময় হলে সব ঠিক হয়ে যাবে।
অপরদিকে বিষয়খালী বাজারের ব্যবসায়ী বাশার হোসেন ও খড়িখালী গ্রামের সবুজ হোসেন জানান, বাজারের একটি আবাসিক ভবনে আলোকিত সমাজ কল্যাণ সংস্থার কার্যালয় ছিল। যা প্রায় ১৭ বছর আগে বন্ধ হয়ে গেছে। আর গ্রামেও এই সংস্থার কাজ আছে বলে শুনিনি, তাদের সংস্থাও দেখিনি।
আলোকিত সমাজ কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ইমদাদুল হক পিন্টু বলেন, লোকসানে পড়ে আমি আমার সংস্থা বন্ধ করে দিয়েছিলাম। এরপরে আর কোন কার্যক্রম আছে বলে আমার জানা নেই।
মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খুরশিদ আলম বলেন,‘অনেক আগে আলোকিত সমাজ কল্যাণ সংস্থার কার্যক্রম ছিল। ঋণদানের কাজ হতো। বহু বছর তাদের কোন কাজ আমার চোঁখে পড়েনি।
তবে এই জনপ্রতিনিধি বলেন, নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষক তালিকায় এমন নাম সর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নাম আসা খুবই দু:খজনক। তারা নিজেরাই কোন দিন পর্যবেক্ষন করেনি। তাহলে তাদের দিয়ে কতটুকু কাজ আশা করা যায়।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জুয়েল আহমেদ বলেন, নির্বাচন কমিশন ঢাকা থেকে পর্যবেক্ষণ সংস্থার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়। সেই ভাবেই সংস্থাগুলো আবেদন করে। তবে এবিষয়ে কিছুই জানিনা। এখানে ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন অফিসের কোন ভূমিকা নেই।

office@ukantho.com


Photo

নুরকে প্রধান উপদেষ্টার ফোন, তদন্তের আশ্বাস

এফএনএস:প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফোন করে গণঅধিকার পরিষদের...

Photo

জাকসুর ভিপি জিতু, জিএস মাজহারুল

এফএনএস: অবশেষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু)...

Photo

যশোরে ফুটবল খেলার সময় বজ্রপাতে স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু

এফএনএস: যশোরে ফুটবল খেলার সময় বজ্রপাতে মিশকাত রহমান সুলতান (১২) নামে...

Photo

ঐতিহ্যবাহী ভোলপাড়া জামে মসজিদের সভাপতি হলেন আনোয়ারুল ইসলাম রবি

ইয়াসিন আরাফাত, নিজস্ব প্রতিবেদক: শত বছরের পুরাতন ঐতিহ্যবাহী ভোলপাড়া...

© 2026 উচ্চকন্ঠ কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত