রবিবার | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং | বাংলা
Logo
ব্রেকিং নিউজঃ

অপরাধ

জোবায়েদ হত্যার রহস্য উদঘাটন: মাষ্টার মাইন্ড প্রেমিকা বর্ষা

উচ্চকন্ঠ   21-Oct-2025   76

Photo

এফএনএস: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. জোবায়েদ হোসেন (২৫) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বংশাল থানার সদস্যরা। হত্যাকান্ডে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. মাহির রহমান (১৯), বার্জিস শাবনাম বর্ষা (১৯) ও ফারদীন আহম্মেদ আয়লান (২০)। গত রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বংশাল থানার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের নুর বক্স লেনের ১৫ নম্বর রৌশান ভিলার সিঁড়িঘরে জোবায়েদ হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটে। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস.এন. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, জোবায়েদ হত্যার পুরো হত্যার পরিকল্পনাটি ছিল বর্ষার। বরগুনার মিন্নির ঘটনার সঙ্গে এই ঘটনার অনেক মিল রয়েছে। মেয়েটি কারও সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সাহস দেখাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত সে নিজেই হত্যার পরিকল্পনা করে। জোবায়েদ হত্যাকান্ডের মূল ঘটনাটি মূলত ত্রিভুজ প্রেমের। বর্ষার হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন তার প্রেমিক মাহির রহমান। নিজের অন্তিম সময়ে জোবায়েদ তার প্রেমিকা বর্ষার কাছে নিজেকে রক্ষার আকুতি জানিয়েছিলেন। কিন্তু বর্ষা তাকে বলেন, তুমি না সরলে আমি মাহিরের হতে পারবো না। কিছুক্ষণ পরই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান জোবায়েদ। অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এসএন নজরুল ইসলাম বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জোবায়েদ পুরান ঢাকার বংশাল থানার নূরবক্স লেনের একটি বাসায় ছাত্রীকে পড়াতে গিয়ে হত্যার শিকার হন। নিহত জোবায়েদ বর্ষাকে পড়াতে গিয়ে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। একই সময়ে বর্ষা মাহিরের সঙ্গেও প্রেমের সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিল। এই ত্রিভুজ প্রেমের জট খুলতে বর্ষা নিজেই হত্যার পরিকল্পনা সাজায়। নজরুল ইসলাম আরও বলেন, ছাত্রী বর্ষার প্রথম প্রেমিক মো. মাহির এবং তার বন্ধু ফারদীন আহমেদ আয়লানকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। বর্ষা একই সঙ্গে জোবায়েদ ও মাহির- দুজনের সঙ্গেই সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিল। গত ২৬ সেপ্টেম্বর মাহির বিষয়টি জানতে পেরে বর্ষাকে চাপ প্রয়োগ করলে, সেদিনই সে জোবায়েদকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। পরবর্তীতে মাহির ও আয়লান মিলে ছুরি কিনে নেয়। ১৯ অক্টোবর বিকেলে বর্ষার বাসায় তারা অবস্থান নেয়। বর্ষা নিজেই তার শিক্ষক ও প্রেমিক জোবায়েদকে ডেকে আনে। তিনি আসার পর তাকে বলা হয় বর্ষার জীবন থেকে সরে যেতে। তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে মাহির ব্যাগ থেকে ছুরি বের করে জোবায়েদের গলায় আঘাত করে হত্যা করে। অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, আমরা তদন্তে পেয়েছি, মাহির একই বাসায় ভাড়া থাকত। বর্ষার সঙ্গে তার পরিচয় অনেক দিনের। প্রেমের সম্পর্ক ছিল প্রায় দেড় বছর ধরে। অন্যদিকে, জোবায়েদ এক বছর ধরে বর্ষাকে পড়াতেন। বর্ষা জোবায়েদের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে। মেয়েটার মানসিক অবস্থা ছিল এমন যে, যখন যার কাছে যেত, তাকেই ভালোবাসার কথা বলত। এক পর্যায়ে সে মাহিরকে বলে- জোবায়েদকে না সরাতে পারলে আমি তোমার হতে পারবো না। এরপরই তারা হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। মাহিরের এক আঘাতেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে জোবায়েদের মৃত্যু হয়। মাহিরকে তার মা থানায় হস্তান্তরের বিষয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, আসলে আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের নানা ধরনের কৌশল থাকে। আমরা তার পরিবারের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করে তাকে থানায় আনতে সক্ষম হই। স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ নয়, এটি ছিল পুলিশের পরিকল্পিত কৌশলের অংশ। হত্যাকান্ডে রাজনৈতিক কোনো বিষয় আছে কি না জানতে চাইলে এস.এন. নজরুল বলেন, এখানে কোনো রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নেই। ২৬ সেপ্টেম্বর থেকেই তারা হত্যার পরিকল্পনা করেছিল। এটি নিছক ত্রিভুজ প্রেমেরই ঘটনা। হত্যার সময়কার পরিস্থিতি নিয়ে লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, বর্ষা আমাদের নিশ্চিত করেছে, জোবায়েদ মারা যাওয়ার সময় সে উপস্থিত ছিল। তদন্তে আমরা পেয়েছি, মৃত্যুর আগে জোবায়েদের শেষ কথা ছিল- ‘আমাকে বাঁচাও’। উত্তরে বর্ষা বলে, ‘তুমি না সরলে আমি মাহিরের হবো না।’ তিনি আরও জানান, দোতলার সিঁড়িতে জোবায়েদকে ছুরিকাঘাত করা হয়। সে বাঁচার চেষ্টা করে দোতলার কলিংবেল বাজায় এবং দরজায় ধাক্কা দেয়। সেখান থেকে রক্ত নিচে গড়িয়ে পড়ে। বর্ষাদের বাসা পাঁচতলা হলেও ঘটনাস্থলে সে তখন তিনতলার সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে হত্যাকান্ড প্রত্যক্ষ করছিল।
জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন: এদিকে, হত্যাকান্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার জোবায়দের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষাসহ তিন জনের জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করা হয়েছে। মঙ্গলবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বংশাল থানার উপ-পরিদর্শক মো. আশরাফ হোসেন এ আবেদন করেন। এ বিষয় সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা ও উপ-পরিদর্শক তানভীর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, এই মামলায় তিন আসামি ও একজন সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন- বর্ষার প্রেমিক মো. মাহির রহমান ও মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান। এর আগে সকাল ১০টার দিকে জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে রাজধানীর বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, মো. জোবায়েদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করাতেন। প্রতিদিনের মতো তিনি ১৯ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বংশাল থানাধীন ৩১নং ওয়ার্ডে নুর বক্স লেন এর ১৫ নং হোল্ডিং রৌশান ভিলায় পড়ানোর জন্য যান। একই তারিখে সন্ধ্যা প্রায় ৫টা ৪৮ মিনিটের সময় ওই ছাত্রী জোবায়েদ হোসেনের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট ভাই সৈকতকে ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে জানায় যে, জোবায়েদ স্যার খুন হয়ে গেছে। কে বা কারা জোবায়েদ স্যারকে খুন করে ফেলছে। এ বিষয়টি ওইদিন রাত অনুমান ৭টার সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. কামরুল হাসান ভুক্তভোগী জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেনকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানান। পরে এনায়েত তার শ্যালক শরীফ মোহাম্মদকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থল রৌশান ভিলায় পৌঁছান। ওই ভবনের নিচতলা থেকে ওপরে ওঠার সময় তিনি সিঁড়ি এবং দেয়ালে রক্তের দাগ দেখতে পান। ভবনটির তৃতীয় তলার রুমের পূর্ব পার্শ্বে সিঁড়িতে গেলে সিঁড়ির ওপর জোবায়েদের রক্তাক্ত লাশ উপুড় অবস্থায় দেখতে পান। পরে ময়নাতদন্ত শেষে গত ২০ অক্টোবর জোবায়েদকে কুমিল্লার কৃষ্ণপুর গ্রামে দাফন করা হয়।

office@ukantho.com


Photo

চুয়াডাঙ্গায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা, দিশেহারা অন্তসত্ত্বা স্ত্রী

এফএনএস: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার বদনপুর গ্রামে মাসুদ হাসান রঞ্জু...

Photo

ঘোড়শাল ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামির গণসংযোগ অনুষ্ঠিত

একরামুল ইসলাম তুষার, কালীগঞ্জ প্রতিবেদক: ঝিনাইদহ সদরের ১৪নং ঘোড়শাল...

Photo

অস্ত্রসহ সাবেক ছাত্রদল নেতা ও তার সাত সহযোগী গ্রেপ্তার

এফএনএস: গাজীপুরের শ্রীপুরে অস্ত্রসহ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক...

Photo

ট্রাইব্যুনালে গণহত্যার অভিযোগ দায়ের বিএনপির

এফএনএস: বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সারা দেশে নেতাকর্মী-সমর্থক-আন্দোলনকারী...

© 2026 উচ্চকন্ঠ কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত