জাতীয়
জুলাই সনদ সারা পৃথিবীর জন্য বড় রকমের উদাহরণ হয়ে থাকবে: ড. ইউনূস
উচ্চকন্ঠ 17-Oct-2025 85
এফএনএস: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষরের দিনটি শুধু জাতির জন্য না, সারা পৃথিবীর জন্য একটা বড় রকমের উদাহরণ হয়ে থাকবে। বহু জায়গায় এটা পাঠ্যপুস্তকে থাকবে, ক্লাস রুমে আলোচনা হবে। বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদদের মধ্যে আলোচনা হবে, কোনটা সঠিক কোনটা বেঠিক, তারা কি বললো, আমরা কি চাই। তারা চেষ্টা করে দেখবে তাদের দেশে সেটা সম্ভব কি না। শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন আয়োজিত জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন ড. ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যে উদাহরণ আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা সৃষ্টি করেছেন সেটা দেশের জন্য তো বটেই, সারা পৃথিবীর জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। দেশকে তারা বহু উচ্চে নিয়ে গেছেন। ড. ইউনূস আরও বলেন,জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা জুলাই সনদ প্রণয়ন ও স্বাক্ষরের মাধ্যমে অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। তাদের নাম ইতিহাসে অক্ষয় হয়ে থাকবে। লোকে চিন্তা করবে কীভাবে এটা তারা করেছেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, জুলাই সনদ স্বাক্ষরের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের সূচনা হলো। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আজ যে সনদ স্বাক্ষর করা হলো, এটা থেকে বহু দেশ শিখতে আসবে- এটা আমি গ্যারান্টি দিয়ে আপনাদের বলে রাখলাম। একটা উদাহরণ সৃষ্টি করলেন, এরকম বহু উদাহরণ আরও সৃষ্টি করতে পারবেন-সেই পথে যেন আমরা যাই। আমরা নির্বাচনের কথা বলেছি। এই সুর-যে সুর আমরা আজকে এখানে বাজালাম-সেই সুর নিয়ে আমরা নির্বাচনের দিকে যাব। ঐক্যের সুর, ঐক্যের সুর নিয়ে নির্বাচনের দিকে যাব। ফেব্রæয়ারিতে নির্বাচন হবে এবং এই ঐক্য যেন বজায় থাকে। আজকে ঐক্যমতের মতো আমরা যেমন সনদ করলাম, নির্বাচনের ব্যাপারেও আপনারা রাজনৈতিক নেতারা বসে, বিভিন্ন দলের নেতারা বসে একটা সনদ করেন- কীভাবে নির্বাচন করবেন। তিনি বলেন, যেমন তেমন করে নির্বাচন করলে তো আবার পুরনো জায়গায় ফিরে যাওয়া-কিন্তু লাভটা কী হলো? একথা লিখে লাভ কী হলো, কথা লিখলাম কথা মানলাম না, কাজের মধ্যে গিয়ে মানলাম না। কাজেই আমার অনুরোধ, আপনারা আবার ঐকমত্য কমিশন বলুন, কমিটি বলুন-নিজেরা বসুন, নির্বাচনটা কীভাবে সুন্দরভাবে করবেন, উৎসবমুখর করে করবেন, ইতিহাসের স্মরণীয় করে করবেন- যে সনদ রচয়িতা এই নির্বাচন করেছে, এই সনদ তৈরি করেছে, তাদের হাতেই এই নির্বাচন সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ এসে কেন সেখানে ধাক্কাধাক্কি করবে? নিজেদের নির্বাচন নিজেরা করব আমরা। কারো এসে আমাদের সোজা করতে হবে না, আমাদেরকে দেখিয়ে দিতে হবে না, ধাক্কাধাক্কি করতে হবে না। আমরা কি জানি না কীভাবে নির্বাচন সুন্দরভাবে করতে হয়? সেটা যেন একটা উদাহরণ হয়। সেটা জাতির জন্য উদাহরণ, বিশ্বের জন্য একটা উদাহরণ হিসেবে আমরা সে নির্বাচনটা করতে চাই। আমরা ইনশাআল্লাহ পারব, আজকে সেই পাড়ার একটা চিহ্ন আমরা এখানে রেখে গেলাম। এই চিহ্নটা ধরে আমরা পথে অগ্রসর হব। আল্লাহ আমাদের সেই সামর্থ্য দিন। যারা আজকে শুনছেন, দূরে দূরে আছেন, মন ঠিক করুন- এই যে ঐকমত্যের মাধ্যমে যে কঠিন কঠিন কাজ সমাধা করা যায়, আমরা যে বর্বরতা থেকে সভ্যতায় এসেছি তার প্রমাণ রাখা যায়, কাগজে আমরা প্রমাণ করলাম- সে সভ্যতায় আমরা নিয়ে আসলাম। এখন কাজে প্রমাণ করতে হবে যে আমরা সেই সভ্যতা অর্জন করেছি। তিনি বলেন, আমাদের রাজনৈতিক নেতারা সেই পথ দেখিয়েছেন। আমরা তাদের কাছে মাথা নত করছি যে তারা আমাদের এই পথ দেখানোর জন্য। পরবর্তীতেও তারা যেন সুন্দরভাবে করেন, নির্বাচনটাও সেরকম যেন আমরা বাহবা দিতে পারি। সবাই মিলে এমনভাবে নির্বাচন করব- দুনিয়ার কেউ এসে বলতে পারবে না যে এখানে ঘাটতি আছে, এখানে গোলমাল হয়েছে- এ কথা যেন কেউ এসে বলতে না পারে। বাইরের লোক কেন এসে আমাদের বলবে তোমরা এটা ঠিক করো নাই, ওটা ঠিক করো নাই? আমরা কি জাতি হলাম যে বাইরের কথার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে? আমরা যারা এই সনদ তৈরি করতে পারি, সেই ক্ষমতা কি দুনিয়ার কারো থেকে কম মনে হয়েছে আপনাদের কাছে? এই আলোচনা কি কারো কাছে কম মনে হয়েছে আপনাদের কাছে? যে রাজনীতিবিদরা এখানে অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের বিদ্যা, তাদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা অন্য দেশের কোনো রাজনীতিকের থেকে কম মনে হয়েছে আপনাদের কাছে? মোটেই মনে হয়নি। তাহলে কেন আমরা এটা পারব না? আপনারা দোয়া করুন- সবাই মিলে যাতে আমরা নির্বাচনটাকে সুন্দরভাবে করতে পারি। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের জন্য আজ নবজন্ম। জুলাই জাতীয় সনদ সইয়ের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশের সূচনা করলাম। যে তরুণরা এই দিনটিকে সম্ভব করেছে, বাংলাদেশের পরিবর্তনের জন্য যারা জীবন দিয়েছে তারাই আবার বাংলাদেশ গড়বে। এই আলোকে এই চিন্তাধারার আলোকে তারা এই দেশের নেতৃত্ব দেবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আমরা আজ যে কাজটা করলাম, এখানে সই করলাম সবাই মিলে। সেটা দিয়ে আমার বাংলাদেশ পরিবর্তন হবে। এই পরিবর্তন সম্ভব হলো, ওই গণঅভ্যুত্থানের কারণে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কারণে। সেটার দ্বিতীয় অংশ হলো জুলাই জাতীয় সনদ। তারা অভ্যুত্থান ঘটিয়েছিল বলেই আজ আমরা সুযোগ পেলাম। এই পরিবর্তন এখন আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, আমরা সেই পথে অগ্রসর হবো। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশ গঠনের দায়িত্ব আগামী সরকারকে দিতে হবে, পরবর্তী সরকারগুলোকে নিতে হবে। সেটার জন্য প্রস্তুতি হচ্ছে, আমাদের সন্তান... এই সনদের মাধ্যমে আমরা আরেকটা বড় কাজ করলাম। আমরা বর্বরতা থেকে সভ্যতায় আসলাম। আমরা এক বর্বর জগতে ছিলাম। যেখানে আইন-কানুন ছিল না, মানুষের ইচ্ছায় যা ইচ্ছা তা করতে পারতো। এখন আমরা সভ্যতায় আসলাম এবং এমন সভ্যতা আমরা গড়ে তুলবো, মানুষ ঈর্ষার চোখে আমাদের দেখবে। তিনি বলেন, আজ যেটা আমরা বুঝতে পারলাম, আমরা যদি একমত হই, যেভাবে আমরা হতে পেরেছি, অন্য সবদিকে যদি আমরা একমত হই, একমতে চলি, তাহলে আমাদের দেশ একটি অনন্য দেশে পরিণত হবে। আমাদের দেশের সেই শক্তি আছে।
office@ukantho.com