বুধবার | ৪ নভেম্বর ২০২৬ ইং | বাংলা
Logo
ব্রেকিং নিউজঃ

প্রিয় ঝিনাইদহ

প্রতি কেজি চিনি উৎপাদনে লস ৪১৭ টাকা, লুটপাটে জর্জরিত মোচিক

উচ্চকন্ঠ   08-Sep-2025   34

Photo

জামির হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক: মিলটিতে এক কেজি চিনি উৎপাদনে খরচ হয়েছে ৫৪২ টাকা। আর প্রতি কেজি বিক্রি করেছে মাত্র ১২৫ টাকা। সে হিসাবে প্রতি কেজিতে লোকসান হয় ৪১৭ টাকা। এভাবেই শত শত কোটি টাকা লোকসানের রেকর্ড সৃষ্টি করেছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে অবস্থিত দক্ষিনাঞ্চলের একমাত্র ভারী শিল্প প্রতিষ্টান মোবারকগঞ্জ চিনিকল লিঃ। গত ২০২৪ মাড়াই মৌসুমে মিলটিতে লোকসান হয়েছে ৭০ কোটি টাকা। তার আগের বছর ২০২৩ মাড়াই মৌসুমে লোকসান হয়েছে ৩৪ কোটি টাকা। এভাবে বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকা লোকসান গোনাসহ প্রায় সাড়ে তিন শত কোটি টাকা ব্যাংকের দেনা মাথায় নিয়ে মিলটি জর্জরিত। গত মাড়াই মৌসুমে চিনিকলটি ৭০ হাজার টন আখ মাড়াই করে চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৯২০ মেট্রিক টন। চিনির আহরনের হার ধার্ষ্য ছিল ৫.৬ ভাগ। কিন্তু নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা আর লুটপাটের মহড়ায় মিলটি তার কাঙ্খিত লক্ষে পৌছাতে পারেনি। যে কারনেই লোকসানের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে।
মিল সুত্রে জানা যায়, বিগত দিনের শত শত কোটি টাকা দেনা মাথায় নিয়ে ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর মিলটির ৫৮তম আখ মাড়াই মৌসুম উদ্বোধন করা হয়েছিল। এ মাড়াই মৌসুমে মিলটি ২৫শত মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের বিপরিতে উৎপাদন করেছিল মাত্র ১৮শত ৭১ মেট্রিক টন। এবছরে মিলটিতে মোট ৭০ কোটি টাকা লোকসানের মধ্যে ছিল অপারেশনাল খাতে লস ৩৪ কোটি এবং ব্যাংক ঋণের (৩৫০ কোটি টাকার) সুদ বাবদ ৩৬ কোটি টাকা। মিলটিতে প্রতি বছরই বিপুল পরিমান লোকসানের পেছনে উল্লেখযোগ্য দিকগুলির মধ্যে রয়েছে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা আর নানা খাতে লুটপাটের মহড়া। মিলের কারখানা, গ্যারেজ পরিবহন রিপিয়ারিং ও ক্রয় বিক্রয় সহ হেন কোন খাত নেই যেখানে অনিয়ম থেমে আছে। এছাড়াও শ্রমিকদের অনেকেই কাজ না করে বেতন ভাতা ও অতিরিক্ত ওভার টাইম উত্তোলনসহ অদক্ষ জনবলে মিলটি ডুবে আছে। সব মিলিয়েই লুটপাটের মহোৎসব আর লাগামহীন অনিয়মের কবলে মিলটি লোকসান দিতে দিতে আজ দেনায় জর্জরিত।
জানা যায়, ১৯৬৫ সালে নেদারল্যান্ডস সরকারের সহযোগিতায় ৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যায়ে কালীগঞ্জ শহর সংলগ্ন ২০৭ দশমিক ৯৩ একর জমির ওপর মোবারকগঞ্জ চিনিকলটি স্থাপিত হয়। মিলটির ২০ দশমিক ৬২ একর জমিতে কারখানা, ১০৭ একরে ইক্ষু খামার, ৩৮ দশমিক ২২ একরে কর্মকর্তা ও শ্রমিক-কর্মচারীদের আবাসিক কলোনি, ১৮ দশমিক ১২ একরে সাবজোন অফিস ও আখ ক্রয় কেন্দ্র এবং ২৩ দশমিক ৯৮ একর জমিতে পুকুর রয়েছে। মিলটি প্রতিষ্টার পর ১৯৬৭-৬৮ সাল থেকে উৎপাদন কার্ষ্যক্রম শুরু করে। এরপর বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭২ সালে মিলটি রাষ্টায়াত্ত প্রতিষ্ঠানের হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
চিনিকলটিতে ১১শ ৮৪ জন কর্মকর্তা কর্মচারীর পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন ৬৫৮ জন। দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ জনবল সংকটে ভুগছে মিলটি। আর বরাবরই কাচামাল হিসাবে আখের সংকট তো আছেই। প্রতি বছরে মিলটি ৬ মাস চালু থাকার কথা থাকলেও মাত্র দুই বা আড়াই মাস মিলের উৎপাদন কার্যক্রম চলে। এ অবস্থায় শ্রমিকদের ১২ মাসের বেতন ভাতা দিতেও মোটা অংকের টাকা গুনতে হয়।
মিল ম্যানেজমেন্ট ও শ্রমিকদের ভাষ্য, বৃটিশ আমলে মিলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজো আধুনিকায়নের মুখ দেখেনি। পুরনো আমলের যন্ত্রপাতি দিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম চলাতে প্রতি বছরই জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়ছে। এছাড়াও সরকারের ভ্যাট এবং ব্যাংক ঋণের সুদ পরিশোধে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়। এসব কারনেই মিলটি লোকসানে পড়ছে বলে তাদের ভাষ্য।
চিনিকলের আওতাধিন ঝিনাইদহের ছয় উপজেলা ও যশোরের দুটি উপজেলাসহ চিনিকলের ৮টি জোনের কৃষকদের অভিযোগ, মিলের কর্মকর্তা ও সিবিএ নেতাদের লাগামহীন দুর্নীতি, কর্তব্য অবহেলা ও অদক্ষ শ্রমিক কর্মচারিদের কারণে মিলটির তার ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলেছে। কালীগঞ্জ উপজেলার পুকুরিয়া গ্রামের আমিরুল ইসলাম ও মহেশ্বরচাঁদা গ্রামের আখ চাষী আজগার আলী জানান, বর্তমানে অন্নান্য ফসলের তুলনায় আখের মূল্য একেবারেই কম। মিলটি আখের মূল্য নির্ধারন করেছে মাত্র ৬ টাকা কেজি। উচ্চ মূল্যের এই বাজারে কোন কৃষি উৎপাদিত পণ্যরই এমন মূল্য নেই। তাই বেশির ভাগ কষকের আখ চাষে অনিহা রয়েছে। তারা বলেন, আখের নার্ষ্য মূল্য বৃদ্ধি এবং চিনি সমৃদ্ধ আখের জাত নির্ধারণ করে কৃষকদের সহায়তা করতে হবে। তাহলে আখের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
এসব বিষয়ে চিনিকলটির মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) গৌতম কুমার বলেন, এক সময়ে এ অঞ্চলে অনেক চাষিই আখ চাষের সাথে যুক্ত ছিল। এটি এক বছর মেয়াদী আবাদ। বর্তমানে খন্ডকালীন অনেক ফসলের আবাদ হওয়াতে অনেক চাষীই ওই আবাদে ঝুকে পড়েছে। এতেই মিলটি কাচামাল সংকটে পড়ে। তিনি বলেন, নিচু জমিতে উৎপাদিত আখে চিনির রিকোভারী কম হয়। এছাড়াও কিছু অসাধু আখচাষি ওজন বৃদ্ধি করতে জমিতে সেচ ও সার প্রয়োগ করাতেও চিনি উৎপাদন কমে যায়। যে কারনে মিলের উৎপাদন কম হয়ে লোকসানে পড়তে হয়।
বাংলাদেশ চিনিকল শ্রমিক ফেডারেশন সভাপতি ও মোচিক শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি শফিকুর রহমান রিঙ্কু বলেন, চিনিকলটির সাথে এ অঞ্চলের অনেক আখ চাষী ও শ্রমিক কর্মকর্তার জীবন জীবিকা জড়িত। বৃটিশ আমলের যন্ত্রপাতি দিয়ে চালিত এ মিলটি প্রায়ই বন্ধ হয়ে পড়ে। এটি আধুনিকায়ন করা হলে মিলটি তার সাবেক যৌবন ফিরে পাবে। মিলটিকে বাচিয়ে রাখতে সরকারের আশু হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আ.ন.ম জোবায়ের বলেন, মিলের প্রধান কাচামাল উৎপাদনকারী আখচাষীদের আখের মূল্য বৃদ্ধি করতে চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনে আবেদন করা হয়েছে। সেই সাখেই চিনিকলটি লোকসানের কবল থেকে রক্ষা ও লাভজনক পর্ষায়ে নিয়ে যেতে নানা সুপারিশ মন্ত্রনালয়ে অবহিত করা হয়েছে বলে যোগ করেন তিনি।

office@ukantho.com


Photo

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস উদযাপন

হাবিব ওসমান, নিজস্ব প্রতিবেদক: আপনার চোঁখকে ভালোবাসুন এই প্রতিপাদ্য...

Photo

মালয়েশিয়ায় খুন হওয়া কালীগঞ্জের সেই যুবকের লাশ ফিরল দেশে, বাড়িতে শোকের মাতম

বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: মালয়েশিয়ায় হত্যাকাণ্ডের শিকার ঝিনাইদহের...

Photo

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে ছাত্রদল নেতা নিহত, আহত ২০

এফএনএস: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড়ে আধিপত্য বিস্তারকে...

Photo

অর্থের বিনিময়ে হাসিনার ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের বিষয়ে অনুসন্ধান করবে দুদক

এফএনএস: অর্থের বিনিময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডক্টরেট ডিগ্রি...

© 2026 উচ্চকন্ঠ কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত