শনিবার | ১ আগস্ট ২০২৬ ইং | বাংলা
Logo
ব্রেকিং নিউজঃ

জাতীয়

এনসিপির সমাবেশ ঘিরে গোপালগঞ্জে রণক্ষেত্র, নিহত ৩, কারফিউ। পুলিশ প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করছে না: দাবী আইজিপি-র

উচ্চকন্ঠ   16-Jul-2025   27

Photo

এফএনএস: গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ ঘিরে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। নিহতরা হলেন- গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ভেড়ারবাজার এলাকার আজাদ তালুকদারের ছেলে ইমন তালুকদার (১৮), থানার পাড়ার কামরুল কাজীর ছেলে রমজান কাজী (২২) এবং শহরের উদয়ন রোডের সন্তোষ সাহার ছেলে দীপ্ত সাহা (২৫)। বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, নিহতদের শরীরে গুলিবিদ্ধ ছিল। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শেখ মো. নাবিল। গোপালগঞ্জে সমাবেশ শেষে ফিরে যাওয়ার পথে সড়ক অবরোধ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে হামলা চালায় আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় গোপালগঞ্জ শহর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গোপালগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। বিকেল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জেলায় কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার দুপুর পৌনে ৩টার দিকে জেলা শহরের লঞ্চঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ। রাত আটটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। এসময় অনেক পুলিশ ও সাংবাদিক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাঠে নামে সেনাবাহিনী। গোপালগঞ্জ থেকে অন্যান্য জেলায় যাওয়ার রুটগুলো গাছের গুঁড়ি ফেলে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এদিকে এ ঘটনায় গোপালগঞ্জ জেলা রিপোর্টার্স ফোরামের অফিসে হামলা চালায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ। এতে যমুনা টিভির সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মোজাম্মেল হোসেন মুন্না ও ডিবিসি টেলিভিশনের রিপোর্টার সুব্রত সাহা বাপিসহ অনেক সাংবাদিক আহত হয়েছেন। তাদেরসহ এ ঘটনায় আহত অনেককে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না যে কতজন হতাহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। জানা যায়, এনসিপির নেতারা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অবস্থান নেয়। সারা শহরের সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশের মঞ্চের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে সকালে পুলিশের একটি গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। হামলা চালানো হয় ইউএনওর গাড়িবহরে। বুধবার সদর উপজেলার গান্ধিয়াশুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম রকিবুল হাসান।ইউএনও বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে গোপালগঞ্জ শহরের পৌর পার্কে পদযাত্রা ও পথসভা করার কথা। তাদের কর্মসূচি বানচালের জন্য আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সমর্থকরা প্রথমে পুলিশের ওপর হামলা করে, পরে আমার গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মির মো. সাজেদুর রহমান বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির মাসজুড়ে জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে বুধবার গোপালগঞ্জ শহরের পৌর পার্কে পদযাত্রার কথা রয়েছে তাদের। সেখানে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের আগমনের কথা রয়েছে। তাদের পদযাত্রা বানচালের জন্য আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সমর্থকরা সদর উপজেলার গান্ধিয়াশুর এলাকায় ইউএনওর গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুর করেছে। অন্যদিকে, এর আগে, এনসিপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি জুলাই পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ সদরে পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বুধবার সকালে সদর উপজেলার উলপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মির মো. সাজেদুর রহমান।ওই ঘটনায় পুলিশের তিন সদস্য আহত হন। তারা হলেন সদর উপজেলার গোপীনাথপুর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (আইসি) আহমেদ বিশ্বাস, কনস্টেবল কাওছার ও মিনহাজ। তাদের গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, আমরা এখন পর্যন্ত জানি না। এতে পুলিশের তিন জন সদস্য আহত হয়েছেন এবং একটি গাড়ি পুড়ে গেছে। আহত তিন পুলিশ সদস্যকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে পুলিশ ধৈর্য সহকারে গোপালগঞ্জের পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তিনি বলেন, গোপালগঞ্জে আমরা লিথ্যাল (প্রাণঘাতী অস্ত্র) কোনো কিছু ব্যবহার করিনি, তাই আমাদের একটু সময় লেগেছে। বুধবার বিবিসি বাংলাকে এ কথা বলেন তিনি। আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, উচ্ছৃঙ্খলতা যা হয়েছে, সেটা যতটুকু সম্ভব আমরা ধৈর্যের সঙ্গে প্রশমন করার চেষ্টা করছি। আমরা এখন আরও পুলিশ সদস্য পাঠানো হচ্ছে পুরো জিনিসটা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এএনসিপি) সমাবেশ ঘিরে বুধবার দুপুর থেকে গোপালগঞ্জে উত্তেজনা শুরু হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে যদিও সেনা-পুলিশ পাহারায় এনসিপির নেতাকর্মীদের গোপালগঞ্জ শহর থেকে বের করে আনা হয়েছে।

office@ukantho.com


Photo

১৭ বছর পর নিয়োগের রায় পেলেন ২৭তম বিসিএস-এর ১১৩৭ জন

এফএনএস: ২৭তম বিসিএস পরীক্ষার ১৭ বছর পর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে...

Photo

ঝিনাইদহে একুশে টেলিভিশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে...

Photo

ঝিনাইদহ শহরে ট্রাক চাপায় নৈশ প্রহরীর মৃত্যু

বসির আহমেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহ শহরের হামদহ আলহেরা মোড়ে...

Photo

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম পরিষদ ভুয়া সংগঠন: রিজভী

এফএনএস: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, একটি...

© 2026 উচ্চকন্ঠ কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত