প্রিয় ঝিনাইদহ
বাল্য বিবাহের বিরুদ্ধে হরিনাকুন্ডু ইউএনও’র জিহাদ ঘোষণা: সাত মাসে একুশটি বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ
উচ্চকন্ঠ 15-Jul-2025 52
বসির আহম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডুতে গত সাত মাসে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের সহযোগিতায় একুশটি বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বি. এম তারিক-উজ-জামান। হরিনাকুন্ডু উপজেলাতে যোগদানের পর তিনি বাল্য বিবাহকে লালকার্ড দেখিয়েছেন। বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে ইতি মধ্যে ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার এই কাজে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মুন্সি ফিরোজা সুলতানা। তার এই উদ্যেককে স্বাগত জানিয়েছেন হরিনাকুন্ডুবাসী। ইতি মধ্যে বাল্য বিবাহ অনেকটা কমে গেছে হরিনাকুন্ডু উপজেলায়।
জানাযায়, ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর হরিনাকুন্ডু উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেন বি.এম. তারিক উজ-জামান। প্রশাসনিক অন্য কাজের পাশাপাশি তিনি বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতামুলক কাজ, বাল্য বিবাহ বন্ধ, উঠান বৈঠক করছেন। একই সাথে তিনি আত্মহত্যা প্রবন হরিনাকুন্ডুতে আত্মহত্যা প্রতিরোধেও সভা সেমিনার, সামাজিক নানান কাজ করছেন। এই উপজেলাতে যুক্ত হবার পর তিনি সরকারি অন্যান্যা কাজের পাশাপাশি এই সামাজিক কাজ করছেন।
হরিনাকুন্ডু উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মুন্সি ফিলোজা সুলাতানা জানান, নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসবি. এম তারিক-উজ-জামান এই উপজেলায় যোগদানের পর থেকে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে কাজ করছেন। ইতিমধ্যে গত সাত মাসে প্রায় একুশটি বাল্য বিবাহ বন্ধ করা হয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে। এছাড়াও ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে মতবিনিময় সভা করা হয়েছে। এছাড়াও বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে মহিলা অধিদপ্তরের আয়োজনে ১৮টি উঠান বৈঠকে আলোচনা করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বি. এম তারিক-উজ-জামান বলেন, বাল্য বিবাহ গৃহকেন্দ্রীক নারী নির্যাতনের অন্যতম কারণ এবং বাল্য বিবাহ নারীর ক্ষমতায়নের পথে অন্যতম অন্তরায়। তাই র্বতমানে বাল্য বিবাহ বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাল্য বিবাহের কারণে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয় যা আত্মহত্যা প্রবনতা বাড়ায়। হরিনাকুন্ডুতে আমরা বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে অত্যন্ত সোচ্চার। ইতোমধ্যে উপজেলা র্পযায়ে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে বিশেষ সভা করা হয়েছে। যেখানে উপজেলা বাল্য বিবাহ নিরোধ কমিটির সদস্য ছাড়াও সমাজের নানা শ্রেণী-পেশার প্রতনিধিগিণ উপস্থতি ছিলেন। উক্ত বিশেষ সভায় উপজেলার আটটি ইউনিয়নের আটজন ও পৌরসভার দুই জন কাজীকে বাল্য বিবাহ বন্ধে আরও সক্রিয় ভুমিকা পালনের জন্য বিশেষ ভাবে নিদের্শনা প্রদাণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি আশা করি সকলের সক্রিয় ভুমিকায় খুব দ্রুতই হরিনাকুন্ডু উপজেলা বাল্য বিবাহ সন্তোষজনক পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।
office@ukantho.com