প্রিয় ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ বাফার গুদামে জমাট বাধা সার নিয়ে চলছে রমরমা অর্থ বানিজ্য: দেখার কি কেউ নেই?
উচ্চকন্ঠ 14-Jul-2025 44
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে বাফার সার গুদামে হ্যান্ডলিং ঠিকাদার, শ্রমিক ও বাফার ইনচার্জের যোগসাজশে জমাট বাঁধা ইউরিয়া সার ডেলিভারির নামে ডিলারদের জিম্মি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে জমাট র্বাঁধা ইউরিয়া নিতে ডিলারদের বাধ্য করায় এ সার কৃষক পর্যায়ে ব্যবহার করলে উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়ে কৃষক চরম ক্ষতির সম্মুখিন হবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, বাফার গুদামের এসব অনিয়ম দূর্নীতির ঘটনা ঘটলেও দেখার কি কেউ নেই?
জানাগেছে, বাফার গুদাম কর্মকর্তাদের অবহেলায় প্রায় বৎসরাধিক কাল ধরে গুদামে মজুদ ইউরিয়া সারের বস্তা জমাট বেঁধে গেছে। এসব সারের কার্যক্ষমতাও অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। যে সার ব্যবহার করলে কৃষকরা নিশ্চিত ক্ষতির মুখে পড়বে। সে কারণে ডিলাররা ঐ জমাটবাঁধা ইউরিয়া সার গ্রহণে অনিহা প্রকাশ করছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাদের কথায় কান না দিয়ে এক প্রকার জোর করেই জমাট বাঁধা সার নিতে বাধ্য করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বাফার গুদামে যে পরিমাণ সার মজুদ আছে তার অর্ধেকের বেশিই জমাট বাঁধা। যে ডিলাররা জমাটবাঁধা সার নিতে আগ্রহী হচ্ছে না তাদের কাছ থেকে গোপন চুক্তিতে গাড়ি প্রতি দেড় থেকে দুই হাজার টাকা নিয়ে ফ্রেস সার প্রদান করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কোন ডিলার বা ডিলারের প্রতিনিধি প্রতিবাদ জানালে লেবাররা তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছে। ফলে ডিলার বা ডিলারের প্রতিনিধিরা মুখ বুজে সবকিছু হজম করে চলেছে। অথচ সরকারি নিয়মে ছেড়া, কাটা, ফাঁটা বস্তা ও জমাটবাঁধা সার সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কর্তৃপক্ষ জোর করে জমাটবাঁধা সার নিতে ডিলারদের বাধ্য করছে। ভুক্তভোগী ডিলাররা জানিয়েছেন, বর্তমানে বাফার গুদামে অনিয়ম ও লুটপাটের রামরাজত্ব চলছে। সেখানে ট্রাক লোড-আনলোড থেকে শুরু করে কোথাও টাকা ছাড়া সার মেলেনা। লেবার, অফিস ও হ্যান্ডলিং ঠিকাদার সহ ঘাটে ঘাটে টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন ডিলাররা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কতিপয় ট্রাক ড্রাইভার জানান, সারের গাড়ি লোড-আনলোড করলে বাফার কর্মকর্তাকে ৫শ ও লেবারদের ১ হাজার টাকা দিতে হয়। এছাড়া তারা গাড়ি লোড-আনলোড করেনা। অথচ সরকারি খরচেই সার ডেলিভারী ও লোড-আনলোড করার কথা। কিন্তু বাফার ইনচার্জের মদদে প্রতিনিয়ত ট্রাক ড্রাইভাররা লোড-আনলোডে টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এছাড়া ঘোড়াশাল থেকে বিআরটিসির গাড়িতে যে ইউরিয়া আসে সেসব গাড়ি সরাসরি ডিলারদের গুদামে ডেসপাস করার বিধান না থাকলেও বাফার ইনচার্জ ঐসব গাড়ি থেকে গাড়ি প্রতি ১ হাজার টাকা নিয়ে ডেসপাস দিয়ে থাকেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। জমাট বাঁধা সার ডিলারদের মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে পৌছালে ফসলের উৎপাদন ব্যাহতসহ কৃষকরা চরম ক্ষতির সম্মুখিন হবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, বাফার গুদামে লাগামহীন দূর্নীতি, অনিয়ম ও লুটপাটের ঘটনা সম্প্রতি জেলা সারবীজ মনিটারিং কমিটির সভায় উত্থাপিত হলে ঘটনা তদন্তে ইতিমধ্যে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। খুব শিঘ্রই তারা ঘটনা সমূহ তদন্তের কাজ শুরু করবেন বলে জানা গেছে। বাফার গুদামের এসব অনিয়ম ও দূর্নীতি রোধ ও নষ্ট জমাটবাঁধা সার প্রদান বন্ধে ডিলারসহ ভুক্তভোগীরা দ্রæত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
office@ukantho.com