প্রিয় ঝিনাইদহ
কালীগঞ্জে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ
উচ্চকন্ঠ 14-Jun-2025 49
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে কালীগঞ্জ থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগ করা হয়েছে। উপজেলার বারবাজারের শাহ আসাদুজ্জামান নামে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে শারীরিক নির্যাতন ও ২ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের এ অভিযোগটি করা হয়। এ ঘটনায় শুক্রবার আটজনের নাম উল্লেখ করে কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগি শাহ আসাদুজ্জামানের শ্যালক মো. সৌরভ। অভিযোগে উল্লেখিত আটজনের মধ্যে তানভির রনি ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি। অন্যরা যুব দলের স্থানীয় নেতা। তবে সবাই ঝিনাইদহ-৪ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের অনুসারী বলে জানা যায়।
অপহরণের ঘটনাটি ঘটেছে ১১ জুন মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে উপজেলার বাদেডিহি গ্রামে। অপহৃত শাহ আসাদুজ্জামান ফরিদপুর জেলার মধুখালী থানার ডুমাইন গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ব্যবসার সুবাদে কালীগঞ্জ উপজেলার বাদেডিহী এলাকার সাবেক সেনা সদস্য আসাদের বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস করে আসছেন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগী গত ১১ জুন রাত সাড়ে ৮ টার দিকে উপজেলার বারবাজারের বাদেডিহি গ্রামের তার ভাড়া বাসার সামনের রাস্তার উপর অবস্থানকালে বাদেডিহী গ্রামের মৃত আনিসুর রহমানের ছেলে আঃ করিম এবং বাদুরগাছা গ্রামের আয়ুব হোসেনের ছেলে সবুজ একটি মটরসাইকেলে এসে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক শাহ্ আসাদুজ্জামানকে মটরসাইকেলে তুলে ঠিকডাঙ্গা দাসপাড়া মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকে উপস্থিত থাকা পিরোজপুর গ্রামের মৃত ভোলা জর্দ্দারের ছেলে শরিফুল, মিঠাপুকুর গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান ফিজুরের ছেলে তানভির রনি, বাদুরগাছা গ্রামের মৃত নান্নুর ছেলে রিয়াজ, ঠিকডাঙ্গা গ্রামের স্বপন, পিরোজপুর গ্রামের ইয়াছিন ও হামিদ ড্রাইভারসহ অজ্ঞাত ৩/৪ জন শাহ্ আসাদুজ্জামানকে নির্যাতন করে। এসময় তারা ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
রাতেই অপহরণকারীদের দাবি অনুযায়ি বিকাশ নম্বর ০১৮৩০০৪৮৩৫১, ০১৯১৫২৮০১৫১, ০১৮১১১৯৯৪৪৩, ০১৭১২০২৭৭৭৬, ০১৭১১৯৭২৩৩৫ ও ০১৮২০৬৩২৯১২ তে ২ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এরপর তারা উপজেলার রঘুনাথপুর বাজারের বিকে ষ্টোর থেকে ০১৭৭৫৩০১০৮৫ নম্বর এজেন্ট বিকাশ থেকে ক্যাশ আউট করে নেয়। টাকা পাওয়ার পর ওই রাতেই তারা এ বিষয়ে কাউকে কিছু বললে খুন করা হবে মর্মে হুমকি দিয়ে আসাদুজ্জামানকে উপজেলার ঠিকডাঙ্গা দাসপাড়া ফাঁকা মাঠের মধ্যে ফেলে রেখে যায়।
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তানভির রনি (০১৭১২ ১২১১৯৩) জানান, শাহ আসাদুজ্জামান ফরিদপুর মধুখালী আওয়ামীলীগের একজন চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং হত্যা মামলার আসামি। ৫ আগষ্টের পর তিনি গা-ঢাকা দিয়ে বারোবাজার এসে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা মিথ্যা।
এ ঘটনায় ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক মুশফিকুর রহমান মানিক (০১৯১৪ ৯৯৮৪৭৪) জানান, তানভির রনি জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি, তবে অপহরণের ঘটনাটি আমার জানা নেই। অপহরণ ও মুক্তিপন আদায়ের ঘটনা যদি সত্য হয় তাহলে আবশ্যই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, এই বিষয়ে আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি স্থানীয় বারোবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাকারিয়া মাসুদকে তদন্তের দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখিত নম্বরগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যদি প্রমানিত হয় তাহলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
বারোবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাকারিয়া মাসুদ জানান, আমি অভিযোগটি হাতে পেয়েছি। তদন্ত চলমান আছে। তদন্ত শেষে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হবে। তখন তারা আইনি ব্যবস্থা নেবেন।
office@ukantho.com