জাতীয়
পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের অপেক্ষায়: আইজিপি
উচ্চকন্ঠ 28-Apr-2025 27
এফএনএস: পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. বাহারুল আলম। তিনি বলেন, আমরাও চাই পুলিশ সংস্কার বাস্তবায়ন হোক। পুলিশ একটি স্বতন্ত্র কমিশনের মাধ্যমে পরিচালিত হোক। অনেকেই বলছেন, এই সরকারের সময় বাস্তবায়ন না হলে, আর কখনও হবে না। সোমবার বিকালে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৫’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। আইজিপি বলেন, পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে আমরা আশাবাদী। পুলিশ বাহিনীকে সরাসরি নির্বাহী বিভাগের অধীনে না রেখে একটি স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে পরিচালনার প্রস্তাবসহ কয়েকটি বিষয়ে মতামত দেওয়া হয়। এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে। আমরা চাচ্ছি, পুলিশ যেন কোনও অন্যায় চাপের মুখে না পড়ে।
মিথ্যা মামলা ও তদন্ত নিয়ে আইজিপির বক্তব্য: একটি চক্র মিথ্যা মামলা দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করছে এমন প্রশ্নে আইজিপি বলেন, আইনের বাধ্যবাধকতার কারণে যে কেউ লিখিত অভিযোগ নিয়ে এলে তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করতে হয়। পরে তদন্তে সত্য-মিথ্যা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, ৫ আগস্টের পর অনেক মামলায় প্রকৃত অপরাধীদের পাশাপাশি নিরীহ ব্যক্তিদের নাম দেওয়া হয়। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন নির্দোষ কাউকে হয়রানি বা গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। মিথ্যা মামলার বাদীদের বিরুদ্ধেও তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যানবাহন সংকট ও পদক প্রসঙ্গ: পুলিশ বাহিনীর যানবাহন সংকট প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, ৫ আগস্টের ঘটনায় আমাদের প্রায় ৫০০ গাড়ি পুড়ে গেছে। এখনও নতুন গাড়ি হাতে আসেনি। ২০০ পিকআপ কেনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে। এবার ৬২ জন পুলিশ সদস্য সাহসিকতা ও সেবার জন্য পদক পাচ্ছেন বলে জানান আইজিপি। উল্লেখযোগ্যভাবে, ছিনতাইকারীকে দমন করতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নেওয়া পুলিশ সদস্য এবং ৬ আগস্ট রাজারবাগ পুলিশ লাইনে উত্থাপিত পরিস্থিতিতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা কর্মকর্তারা এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন।
পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: আইজিপি বলেন, ৫ আগস্টের পরে পুলিশের মনোবল এবং কাঠামো ভেঙে পড়ে। সেখান থেকে আমরা নতুন করে যাত্রা শুরু করেছি। জনগণের আস্থা অর্জন এবং পুলিশকে সেবামুখী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ চলছে। তিনি আরও বলেন, কঠোর পুলিশ থেকে সেবাদানকারী পুলিশে রূপান্তর করা কঠিন কাজ। তবে আমরা সেই লক্ষ্যে এগোচ্ছি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গ: বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আইজিপি বলেন, একটি শ্রেণি বিভিন্নভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে আমরা তা সফলভাবে মোকাবিলা করছি। দেশে জঙ্গিবাদ আছে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, দেশে জঙ্গি নেই, এমন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না। তবে আমরা সজাগ আছি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিভিন্ন সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে। যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা আমাদের আছে।
এবারের পুলিশ সপ্তাহ আনুষ্ঠানিক নয়, কার্যকর করতে চাই: এবারের পুলিশ সপ্তাহে আড়ম্বর বা আনুষ্ঠানিকতা থাকছে না বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. বাহারুল আলম। তিনি বলেছেন, এবারের পুলিশ সপ্তাহ আনুষ্ঠানিক নয়, কার্যকর করতে চাই। আইজিপি বলেন, এবার পুলিশ সপ্তাহ অনাড়ম্বরভাবে পালন করা হবে। এখানে কোনও উৎসব-আনন্দ থাকবে না। পেশাগত বিষয়ে কার্যকর সেশন, বিগত দিনের কর্মকান্ড বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যতের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণেই আমরা ব্যস্ত থাকবো। এবারের প্রতিপাদ্য ‘আমার পুলিশ আমার দেশ, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ’ দেশের মানুষের মনে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, যেন তারা মনে করে— বৈষম্যহীন বাংলাদেশের পুলিশ তাদের নিজেদের পুলিশ। তিনি জানান, পুলিশ সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার এবং সদর দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। আলোচনায় থাকবে- আগামী দিনে আরও উন্নত পুলিশিসেবা নিশ্চিত করা, আসন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশল এবং মাঠ পর্যায়ের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সরাসরি পরিকল্পনা ও কর্মপন্থা শোনা হবে। আইজিপি আরও বলেন, গত ১৭ এপ্রিল প্রধান উপদেষ্টা মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সুপার এবং মেট্রোপলিটন কমিশনারদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এবার পুলিশ সপ্তাহে সেই দিকনির্দেশনার বাস্তবায়ন কৌশল নিয়েও আলোচনা হবে। তিনি জানান, এবারের পুলিশ সপ্তাহে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের (সাংবাদিক, সাহিত্যিক, শিক্ষক, গীতিকার, ক্রীড়াবিদ ও ছাত্র প্রতিনিধি) সঙ্গে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত শোনা হবে, যাতে পুলিশিংয়ের উন্নতি করা যায়। আইজিপি আরও জানান, বরাবরের মতো এবারও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পদক প্রদান করা হবে। প্রধান উপদেষ্টা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে পদক প্রদান করবেন।
অন্যায় আবদার না করার আহ্বান: পুলিশের বদলি, পদোন্নতি ও ছাড়পত্রের মতো বিভিন্ন অন্যায় আবদারে জর্জরিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. বাহারুল আলম। এসব অন্যায় আবদার না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে বিধি-বিধান মেনে পুলিশ বাহিনী পরিচালনার সুযোগ চেয়েছেন আইজিপি। আইজিপি বলেন, আমরা পুলিশ, জনগণের সেবক। আপনারা (সাংবাদিকরা) দেশবাসীকে বলুন– আমাদের ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে দিতে। তিনি আরও বলেন, আমি প্রায়ই অন্যায় আবদারের মুখোমুখি হই। অমুককে বদলি করে দিন, অমুককে ছেড়ে দিন, অমুককে পদক দিন- এমন আবদার আসে। আমি দেশবাসীর কাছে বিনীত অনুরোধ জানাই, আমাকে যেন বিধি-বিধান মেনে পুলিশ বাহিনী পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়। অন্যায় আবদার যতটুকু সম্ভব কমানো হোক। এর আগে, পুলিশ সপ্তাহ-২০২৫ সংক্রান্ত পরিকল্পনা তুলে ধরেন আইজিপি। এছাড়া সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এ সময় আরও ছিলেন– প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার, এআইজি (মিডিয়া) এনামুল হক সাগর এবং পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা এ কে এম কামরুল আহসান।
office@ukantho.com