প্রিয় ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহে ভ্রাম্যমাণ আদালত থেকে অভিযোগকারীকে ছিনিয়ে নিয়ে পেটালেন বাস কাউন্টার শ্রমিকরা
উচ্চকন্ঠ 05-Apr-2025 29
বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝিনাইদহ:ঈদযাত্রায় ফিরতি টিকিটের দাম বেশি নেওয়ার অভিযোগ করেন এক যাত্রী। অভিযোগ পেয়ে বাস টার্মিনালের কাউন্টারে অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযোগকারী যাত্রীকে ছিনিয়ে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামনে বেধড়ক মারধর করেন পরিবহন শ্রমিকরা। এমনই ঘটনা ঘটেছে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যাত্রীকে মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।এ ঘটনায় পুলিশ ও প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে সাধারণ যাত্রীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ঢাকাগামী যাত্রী নুসরাত শাম্মী বলেন, যাত্রীরা পরিবহন শ্রমিকদের কাছে জিম্মি। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলেও যাত্রীরা জিম্মি ছিল, এখনো আছে। আজ কয়েকজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখের সামনে এক যাত্রীকে মারধর করেছে। আমাদের নিরাপত্তা কোথায়?’
তালহা জুবায়ের নামের আরেক যাত্রী বলেন, বেশি ভাড়া নেওয়ায় পূর্বাশা পরিবহনের ঝিনাইদহ কাউন্টারের নামে অভিযোগ করেন এক যাত্রী। অভিযোগ পেয়ে প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত বসালে পরিবহন শ্রমিকরা অভিযোগকারী যাত্রীকে লাঞ্ছিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এক যাত্রী জরুরি সেবা হটলাইনে ফোন করে পূর্বাশা পরিবহনের ঝিনাইদহ কাউন্টারে বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।
অভিযোগ পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজল কুমার দাসের নেতৃত্বে ওই কাউন্টারে অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। বিকেল ৫টার দিকে অভিযান শুরু হলে অন্যান্য বাস কাউন্টারের কর্মীরা ধর্মঘট শুরু করেন। এসময় তারা ভ্রাম্যমাণ আদালতকে অবরুদ্ধ করে অভিযোগকারী যাত্রীকে ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করেন।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ থেকে ঢাকা নির্ধারিত বাস ভাড়া ৬৫০ টাকা হলেও কাউন্টারের শ্রমিক নেতারা ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা ভাড়া নিচ্ছেন। এ নিয়ে যাত্রীদের মাঝেও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শ্রমিক বলেন, রমজান মাসে পরিবহন খাতে কোনো ব্যবসা ছিল না। তখন কেউ খোঁজ রাখেনি। পরিবহন শ্রমিকরা কষ্টে দিন পার করেছেন। ঈদ উপলক্ষে ৫০-১০০ টাকা বেশি নিলেও যাত্রীরা আপত্তি করে না। উদ্দেশ্যমূলকভাবে আজ একজন অভিযোগ করেছে।
ঝিনাইদহ জেলা পরিবহন ও বাস মালিক সমিতির সভাপতি রোকনুজ্জামান রানু বলেন, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। অভিযান পরিচালনার সময় সমিতির ঊর্ধ্বতন লোকজন ভ্রাম্যমাণ আদালতের সঙ্গে উপস্থিত থাকলে এই ঘটনা ঘটতো না। যাত্রীদের সেবায় আমাদের শ্রমিক ভাইয়েরা রাতদিন কাজ করে যাচ্ছেন। যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, তা আমরা সবাই মিলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করবো।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজল কুমার দাস বলেন, শ্রমিকরা ভ্রাম্যমাণ আদালতকে অবরুদ্ধ করে ও যাত্রীকে মারধর করে চরম ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। প্রশাসনিকভাবে পরবর্তী করণীয় বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করছি।
office@ukantho.com