প্রিয় ঝিনাইদহ
দারিদ্র্যের সঙ্গে আজীবন লড়াই করেও সততায় অটল এক কিংবদন্তি ৬৬ বছর আলো ছড়িয়ে বিদায় নিলেন ৯০ বছরের প্রবীণ হকার মোহাম্মদ আলী
উচ্চকন্ঠ 11-Oct-2026 15
বসির আহমেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রতিটি ভোরে যখন ঝিনাইদহ শহর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকত, তখন রোদ-বৃষ্টি-ঝড় উপেক্ষা করে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে সংবাদের আলো পৌঁছে দেওয়া সেই পরিচিত মুখটি আর কোনোদিন আসবে না। ঝিনাইদহের প্রবীণতম সংবাদপত্র বিতরণকারী (হকার) মোহাম্মদ আলী আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল ৪টায় নিজ বাসভবনে ৯০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন সততা ও নিষ্ঠার প্রতীক এই কর্মবীর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও সহকর্মী রেখে গেছেন।
১৯৩৬ সালে জন্মগ্রহণ করা মরহুম মোহাম্মদ আলী ঝিনাইদহ পৌরসভার কালিকাপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর বাবার নাম মরহুম আইনুদ্দীন কাজী।
ষাটের দশকে ঝিনাইদহের সংবাদপত্র বিতরণের ইতিহাসে যখন সদ্য নতুন অধ্যায় সূচনা হচ্ছিল, ঠিক তখনই—১৯৬০ সালে—ঝিনাইদহের প্রথম সংবাদপত্র এজেন্ট মাহবুবুর রহমানের হাত ধরে এই পেশায় যুক্ত হন তিনি। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ৬৬টি বছর। জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত তিনি সংবাদপত্র বিক্রির এই মহান পেশায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।
আজীবন দারিদ্র্যের চরম কষাঘাতের মুখোমুখি হলেও লোভ-লালসা তাঁকে বিন্দুমাত্র স্পর্শ করতে পারেনি। সততা, সময়ানুবর্তিতা ও মিষ্টি হাসির জন্য পুরো শহরের পত্রিকা পাঠকদের কাছে তিনি ছিলেন পরম শ্রদ্ধেয় ও ভালোবাসার এক নাম।
তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে ঝিনাইদহ সংবাদপত্র বহুমুখী সমবায় সমিতির নেতা আব্দুল ওয়াহেদ গভীর শোক ব্যক্ত করেন। প্রবীণ এই হকারের প্রয়াণে ঝিনাইদহের হকার্স সমিতির নেতা মিজানুর রহমান বাদশা ও হাফিজুর রহমান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
এদিকে ঝিনাইদহের সংবাদপত্র শিল্পের অভিভাবকতুল্য এই প্রবীণ বিতরণকারীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটন এবং সাবেক সভাপতি আসিফ কাজল।
শোকবার্তায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, “মোহাম্মদ আলী শুধু একজন সংবাদপত্র বিতরণকারী ছিলেন না, তিনি ছিলেন ঝিনাইদহের গণমাধ্যম ইতিহাসের এক জীবন্ত সাক্ষী। দীর্ঘ ৬৬ বছর ধরে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে তিনি সংবাদপত্র ও পাঠকের মধ্যে সেতু হয়ে কাজ করেছেন। তাঁর সততা ও কাজের প্রতি নিষ্ঠা আমাদের কাছে চিরকাল অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।”
শনিবার এশার নামাজ শেষে কালিকাপুর জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবীণ এই খেটে খাওয়া মানুষের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে কালিকাপুর গোরস্থানে স্বজন, সহকর্মী ও শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে তাঁকে দাফন করা হয়।
office@ukantho.com