প্রিয় ঝিনাইদহ
কোটচাঁদপুরে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ: চালকের বিরুদ্ধে তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস
উচ্চকন্ঠ 07-Aug-2026 42
বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবাকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, রশিদ না দেওয়া এবং সরকারি অ্যাম্বুলেন্সকে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযোগে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মী (সুইপার) হিসেবে কর্মরত জনিত কুমার দাস ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকায় কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভারপ্রাপ্ত চালকের দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ও তার ছেলে এম.ডি. শুভ মিলে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবাকে কেন্দ্র করে একটি অনিয়মের চক্র গড়ে তুলেছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকারি নির্ধারিত ভাড়ায় অ্যাম্বুলেন্স চাইলে বিভিন্ন অজুহাতে সেবা দিতে অপারগতা প্রকাশ করা হয়। কখনও গাড়ি নষ্ট, কখনও বাইরে থাকার কথা বলে রোগীর স্বজনদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তাদের হাতে এম.ডি. শুভর নামে ছাপানো একটি ভিজিটিং কার্ড তুলে দিয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়। শেষ পর্যন্ত রোগীর স্বজনরা বাধ্য হয়ে একই সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যান। তবে এ ক্ষেত্রে কোনো রশিদ দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী সলেমানপুর গ্রামের গৌতম ঘোষ জানান, গত ২৯ তারিখে অসুস্থ স্ত্রী তীথি ঘোষকে যশোরে নিতে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করেন। চালক তাদের কাছ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করেন। পরে তিনি ২ হাজার ২০০ টাকা পরিশোধ করলেও কোনো রশিদ পাননি।
বিদ্যাধরপুর গ্রামের মাসুদ জানান, তার দাদি আনোয়ারাকে যশোরে নেওয়ার সময় চালক রশিদ ছাড়াই ১ হাজার ৮০০ টাকা ভাড়া নেন।
একই অভিযোগ করেন কোটচাঁদপুর মেইন বাসস্ট্যান্ড এলাকার মাহফুজ। তিনি বলেন, অসুস্থ বাবা আব্দুল মজিদকে যশোরে নিতে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করে রশিদ ছাড়াই ১ হাজার ৮০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে যশোর পর্যন্ত সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের নির্ধারিত ভাড়া ৯০০ টাকা। কিন্তু অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে অসহায় রোগী ও তাদের পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এছাড়া সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের জ্বালানি তেল আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জনিত কুমার দাস। তিনি বলেন, আমি ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কর্মরত। গাড়ি চালানোর দক্ষতা ও ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকায় আমাকে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভারপ্রাপ্ত চালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তার ছেলে এম.ডি. শুভ বলেন, আমাদের নিজস্ব কোনো অ্যাম্বুলেন্স নেই। আমি বাবার সঙ্গে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে সহকারী হিসেবে থাকি। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।
কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আশরাফুল ইসলাম বলেন, কোটচাঁদপুর থেকে যশোর পর্যন্ত সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের নির্ধারিত ভাড়া ৯০০ টাকা এবং তা রশিদের মাধ্যমে গ্রহণ করার নিয়ম। হাসপাতালে স্থায়ী চালক না থাকায় সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জনিত কুমার দাসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি মূল চালক নন—এ তথ্য আমার জানা আছে। অনিয়মের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, জনিত কুমার দাস মূলত আমাদের কার্যালয়ের পরিচ্ছন্নতা কর্মী। তার বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকায় সাময়িকভাবে কোটচাঁদপুর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে সেখান থেকে প্রত্যাহার করা হবে।
office@ukantho.com