প্রিয় ঝিনাইদহ
কালীগঞ্জ টু কোলা রোডে মাটিখেকোদের রাজত্বে ১ দিনে ৩০ জন আহত
উচ্চকন্ঠ 06-Jun-2026 40
একরামুল ইসলাম তুষার, নিজস্ব প্রতিবেদক: আইন, আদালত, প্রশাসন, সংবাদকর্মী, সবই আছে, কিন্তু নেই শুধু একশ্রেণির ‘মাটিখেকো’ সিন্ডিকেটের থামানোর কেউ! ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার অতি জনগুরুত্বপূর্ণ কোলা রোডটি এখন এটি যেন সাক্ষাৎ এক ‘মরণফাঁদ’।
শনিবার (৬ জুন) সকাল থেকে সামান্য একটু বৃষ্টি হতেই এই সড়কে উন্মোচিত হয়েছে উন্নয়নের পেছনের এক কদর্য রূপ। ড্রাম ট্রাক থেকে পড়া মাটির প্রলেপ বৃষ্টিতে ভিজে রাস্তাটি যেন ‘সাবানের ঘাট’ হয়ে উঠেছিল। আর এই পিচ্ছিল মরণফাঁদে পিছলে পড়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ২৫ থেকে ৩০ জন মোটরসাইকেল আরোহী ও পথচারী হাত-পা ভেঙে রক্তাক্ত হয়েছেন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—কার ইশারায়, কোন খুঁটির জোরে এই মাটিখেকোরা এত শক্তিশালী যে, পুরো উপজেলাবাসীকে জিম্মি করেও তারা পার পেয়ে যাচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কোলা রোড দিয়ে দিন-রাত অবৈধ ড্রাম ট্রাক ও লাইসেন্সবিহীন মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর দিয়ে অবাধে মাটি টানা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী ট্রাকে ত্রিপল ঢাকা দেওয়ার কথা থাকলেও, ক্ষমতার দাপটে বুক ফুলিয়ে খোলা ট্রাকে মাটি নেওয়া হচ্ছিল। ফলে প্রতিনিয়ত সড়কজুড়ে ঝরে পড়েছে মাটি। আজ দুপুরে সামান্য একটু বৃষ্টি নামতেই সেই শুকনো মাটি গলে একাকার হয়ে পিচ্ছিল কাদার স্তরে রূপ নেয়।
এরপরই শুরু হয় বিভীষিকা। কোলা রোড দিয়ে যাওয়ার সময় একের পর এক মোটরসাইকেল ব্রেক করলেই চাকা পিছলে ছিটকে পড়তে থাকে। চোখের পলকে সড়কটি যেন এক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়রা ছুটে এসে একে একে ২৫ থেকে ৩০ জন আহত পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীকে উদ্ধার করেন।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে রাস্তায় চলাচলকারী সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতা কামনা করলেও তাদের কোনো সাড়া বা হেল্প পাওয়া যায়নি। ফলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও ভোগান্তি আরও চরমে পৌঁছায়। ভুক্তভোগীদের আক্ষেপ, "জরুরি বিপদের সময়েও যদি ফায়ার সার্ভিসের মতো সংস্থাকে পাশে না পাওয়া যায়, তবে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?"
এই সড়কে অবৈধ মাটি কাটা নিয়ে সংবাদকর্মীরা এ পর্যন্ত গণমাধ্যমে অসংখ্য সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। প্রশাসনও মাঝে মধ্যে লোকদেখানো ‘মোবাইল কোর্ট’ পরিচালনা করে দু-একটি জরিমানা করেছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। জরিমানা দিয়ে এসে পরের দিন দ্বিগুণ উৎসাহে আবার মাটি কাটা শুরু করে এই মাফিয়া চক্র। তাদের এই দাপট দেখে মনে হচ্ছে, কালীগঞ্জে কোনো আইন-কানুন বা স্থানীয় প্রশাসন বলতে কিছু নেই; বরং পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ এখন এই মাটিখেকোদের পকেটে।
প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর এমন চরম উদাসীনতা ও ব্যর্থতার মুখে কোলা রোডের এই মরণযজ্ঞ থামাতে এবং এলাকাবাসীকে রক্ষা করতে এখন ঝিনাইদহ-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিবের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা আর প্রশাসনের কোনো ‘আশ্বাস’ বা ‘নজরদারির’ ফাঁকা বুলি শুনতে চাই না। সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিবের ওপর আমাদের আস্থা আছে। আমরা আশা করি তিনি এই মাটিখেকো সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ করতে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ফৌজদারি ব্যবস্থা নিতে অবিলম্বে শক্ত নির্দেশ দেবেন
office@ukantho.com