অন্যান্য
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও পদ্মায় ডুবে গেল বাস
উচ্চকন্ঠ 05-Jun-2026 8
এফএনএস: রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আবারও পদ্মায় ডুবে গেছে বাস। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাটে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা এসবি সুপার ডিলাক্স নামে বাসটি ফেরি থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। তবে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ফেরিতে বাস ও অন্যান্য যানবাহন ওঠানোর আগে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়ার বিধান অনুসরণ করায় দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে গতকাল শুক্রবার বাস নদীতে পড়ে গেলেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। এক তথ্য বিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী এসবি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস গতকাল শুক্রবার সকালে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরি কবরীতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কনভেনশন পকেট দিয়ে প্রবেশ করে ফেরির বিপরীত পাশের র্যাম ভেঙে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। যাত্রী নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করে ফেরিতে ওঠার আগে বাসটির সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ার ফলে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা দ্রুত অভিযান চালিয়ে নদীতে পড়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। বাসের চালক ও সহকারীকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। উদ্ধার কার্যক্রমে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি, নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে অংশগ্রহণ করেন। নৌপরিবহন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পড়ে যাওয়া বাসটির উদ্ধার অভিযান নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন ও নিরাপত্তা বিধানে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। ফেরিঘাটে দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধানবালি (ফেরিতে ওঠার বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা, ফেরিতে ওঠার আগে সব যাত্রী নামানো, যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত পথ দিয়ে ফেরিতে ওঠা) অনুসরণ নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং ওই বাসের যাত্রী আব্দুস সালাম বলেন, আমি ও আমার পরিবার গতকাল শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে এসবি পরিবহনের ওই বাসে উঠি। যদিও বাসটি তার নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় ২০ মিনিট দেরিতে ছেড়েছিল। দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছানোর পর নিয়ম অনুযায়ী আমাদের সব যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। আমি মনে করি, আল্লাহ স্বয়ং পুলিশ পাঠিয়েছেন, আমাদের বাস থেকে নামিয়ে দিতে। আমরা নামার ২০ সেকেন্ডের মধ্যেই চোখের সামনে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মার পানিতে তলিয়ে যায়। ২০ সেকেন্ড দেরি হলে সবাই শেষ হয়ে যেতাম। ৩৭ জন যাত্রী ছিলাম। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা বেঁচে গেছি, কারণ ওই সময় বাসে চালক ছাড়া কোনো যাত্রী ছিল না। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাট থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এসবি পরিবহনের ওই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেরির রেলিং ভেঙে নদীতে পড়ে ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। করবী অক্সফাম নামে একটি ছোট ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি থেকে সব যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হয় বলে ঘাট সংশ্লিষ্টরা জানান। বাসটিতে থাকা সহকারী (হেলপার) সাকিব হোসেন (২৭) দুর্ঘটনার বিষয়টি বুঝতে পেরে লাফিয়ে ফেরির পন্টুনের ওপর পড়ে যান। এতে তিনি কিছুটা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। কিন্তু চালক ঝন্টু আলী (৪৭) বাসটিসহ নদীতে পড়ে যান। তবে তিনি বাসের জানালা দিয়ে বেরিয়ে সাঁতরে ওপরে উঠতে সক্ষম হন। তাদের দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর বেলা পৌনে ১২টার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা বাসটিকে ওপরে তুলতে সক্ষম হয়। প্রত্যক্ষদর্শী শুভ সেন জানান, তিনি ফেরি ঘাট দিয়ে লুজ যাত্রীদের পারাপারে নিয়োজিত মারুফ বিল্ডার্সের ম্যানেজার। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি ৭ নম্বর ঘাটের পন্টুনে দাঁড়িয়ে একজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় দেখতে পান, এসবি পরিবহনের ওই বাসটি ফেরিতে ওঠার জন্য অ্যাপ্রোচ সড়কের দিকে আসছে। তবে সেখানে নিয়োজিত নৌ-পুলিশ ও অন্যান্যরা বাসটি হতে যাত্রীদের নেমে যেতে বলেন। যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পর চালক বাসটি নিয়ে সোজা ফেরিতে উঠে যান। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি সোজা গিয়ে ফেরির রেম বা ডালায় গিয়ে আঘাত করে। এতে ডালার তার ছিড়ে গিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। বাসটির সুপার ভাইজার আজমল হোসেন জানান, বাসটিতে ৪০ জন টিকিট কাটলেও যাত্রী ওঠেন ৩৭ জন। তাদের নিয়েই ঢাকা যাচ্ছিলাম। তবে আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে সব যাত্রী নেমে যাওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানির হাত থেকে আমরা বেঁচে যাই। এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এ সময় গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস, সহকারী কমিশনার ভূমি মো. মুনতাসির হাসান খান, গোয়ালন্দ ঘাট থানা ওসি শফিকুল ইসলাম, দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ওসি ত্রিনাথ সাহা, বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিনসহ অন্য কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন জানান, প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে যাত্রীদের আগেই নামিয়ে দেওয়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আমরা পরিবহন সংশ্লিষ্টসহ সব যাত্রীদের কাছে অনুরোধ করবো এভাবেই ফেরিতে উঠার আগে বাস থেকে সবাই নেমে যাবেন। বেলা পৌনে ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরিদের সহায়তায় ডুবে যাওয়া বাসটিকে টেনে ওপরে তুলতে সক্ষম হয়। তবে এর ভেতরে কোনো মানুষ ছিল না বলে দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা নিশ্চিত করেন। উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরি ঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ডুবিতে ২৬ জনের মৃত্যু হয়।
office@ukantho.com