প্রিয় ঝিনাইদহ
খালেদা জিয়ার নাম থাকায় মৃতপ্রায় ঝিনাইদহের সাত সরকারি প্রতিষ্ঠান
উচ্চকন্ঠ 03-Jun-2026 35
বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর আমলে নির্মিত ও উদ্বোধন হওয়া শত কোটি টাকার ৭টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ দুই দশক ধরে অবহেলা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে কার্যত মৃতপ্রায় অবস্থায় পড়ে আছে। পূর্ণাঙ্গ জনবল নিয়োগ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং প্রশাসনিক সহায়তার অভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই জনসেবা ও শিক্ষা কার্যক্রমে কাক্সিক্ষত ভূমিকা রাখতে পারছে না।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৯৩ ও ২০০১ সালের বিভিন্ন সময়ে নেওয়া এসব মেগা প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় হলেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অদৃশ্য রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর করা হয়নি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ভবনের ফলক ও প্রকল্পের সঙ্গে বিএনপির অবদান এবং খালেদা জিয়ার নাম জড়িত থাকায় দীর্ঘদিন এগুলো অবহেলিত ছিল।
এর মধ্যে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত “ঝিনাইদহ সরকারি খাবার স্যালাইন ফ্যাক্টরি” দীর্ঘদিন অচল পড়ে থাকার পর শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। একইভাবে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে আজও চালু হয়নি।
২০০৫ সালে উদ্বোধন হওয়া দেশের একমাত্র ২৫ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি শিশু হাসপাতালটিও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও পর্যাপ্ত জনবল সংকটে কাক্সিক্ষত স্বাস্থ্যসেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। রোগীদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধার অভাবে অনেক শিশুকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য জেলায় পাঠাতে হচ্ছে।
ঝিনাইদহ মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস)-এর পরিস্থিতি আরও নাজুক। অনুমোদিত ১০৪টি পদের সবকটিই বর্তমানে শূন্য রয়েছে। কোনো সরকারি বেতন-ভাতা ছাড়াই মাত্র দুইজন অতিথি শিক্ষক দিয়ে ১৫৬ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। চরম সংকটের কারণে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে।
একই অবস্থা ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি)-তেও। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ৮টি পদ খালি রয়েছে। এছাড়া রেডিওলজি ও রেডিও থেরাপি বিভাগের ল্যাব স্থাপন করা হলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
হরিণাকুন্ডু নার্সিং ইনস্টিটিউট ও আঞ্চলিক নার্সিং ইনস্টিটিউটেও দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট বিরাজ করছে। অন্যদিকে ৯ বিঘা জমির ওপর নির্মিত খুলনা বিভাগের একমাত্র মুক ও বধির আবাসিক স্কুলটিতে ৯টি স্থায়ী পদের মধ্যে ৬টিই শূন্য। ধার করা শিক্ষক এবং অনিয়মিত বেতন পাওয়া আউটসোর্সিং কর্মচারীদের দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কোনোমতে পরিচালিত হচ্ছে।
ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল মজিদ বলেন, রাজনৈতিক সংকীর্ণতার কারণে রাষ্ট্রীয় সম্পদের এমন অপচয় অত্যন্ত দুঃখজনক। জনগণের কল্যাণে দ্রুত এসব প্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. কামরুজ্জামান সোহেল বলেন, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর চালুর পর প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ম্যাটস ও আইএইচটি-সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সংকটে পড়ে। তবে শিশু হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউট সীমিত জনবল নিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া স্যালাইন ফ্যাক্টরি ও সিসিইউ চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
office@ukantho.com