প্রিয় ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহে স্কুলের পাশেই তামাক বাইন সেন্টার ও ইটভাটা: দূষণে অসুস্থ ২১৬ শিক্ষার্থী
উচ্চকন্ঠ 04-May-2026 52
বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহ শহরের সার্কিট হাউজ রোডের ১২৬ নং গিলাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়—যে আঙিনায় শিশুদের হাসি-আনন্দে মুখরিত থাকার কথা, সেখানে এখন ভেসে বেড়াচ্ছে তামাক পাতার তীব্র গন্ধ ও ইটভাটার কালো ধোঁয়া। এতে করে বিদ্যালয়ের ২১৬ জন শিক্ষার্থী ও ৬ জন শিক্ষক নিয়মিত অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ঘেঁষেই গড়ে উঠেছে আবুল খায়ের গ্রুপের একটি তামাক বাইন (ক্রয় ও প্রক্রিয়াজাত) সেন্টার। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে কৃষকদের কাছ থেকে তামাক সংগ্রহ করে এখানে শুকানো ও প্রক্রিয়াজাত করা হয়। অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের বিপরীত পাশে রয়েছে “মেসার্স নাহার ব্রিকস” নামে একটি ইটভাটা, যেখান থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া পরিবেশকে আরও দূষিত করে তুলছে।
ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনই শ্বাস নিচ্ছে বিষাক্ত বাতাস। যে বয়সে তাদের পাঠ্যবইয়ের গন্ধ নেওয়ার কথা, সেই বয়সেই তারা বাধ্য হচ্ছে তামাক ও ধোঁয়ার দূষণ সহ্য করতে। এতে তারা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে চলছে এই তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম। কোনো ধরনের নিয়মনীতি মানা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আবুল খায়ের গ্রুপের বাইন সেন্টারের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার কনক চন্দ্র সরকার বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। আপনি প্রথম জানালেন।” তবে তিনি প্রতিষ্ঠানটির বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
চিকিৎসকদের মতে, তামাকের প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান না হলেও ধীরে ধীরে শরীরের ভেতরে ক্ষতি করে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মিথিলা ইসলাম জানান, তামাক পাতায় থাকা নিকোটিন ত্বকের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করতে পারে, যা ‘গ্রিন টোব্যাকো সিকনেস’ নামে পরিচিত। এতে বমি, মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা দেখা দেয়। কম বয়সে এ ধরনের দূষণের সংস্পর্শে এলে শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুস্তাসির রহমান বলেন, “আবুল খায়ের গ্রুপের বাইন সেন্টারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে এবং এর একটি অনুলিপি জেলা প্রশাসকের কাছেও পাঠানো হবে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।”
এদিকে, স্থানীয় অভিভাবকরা প্রশ্ন তুলেছেন—আইন অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে এ ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে বিদ্যালয়ের দেয়াল ঘেঁষে এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলো? স্থানীয় এক নারী ইউপি সদস্য বলেন, “শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশের ক্ষতি সবারই জানা, কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।”
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারেক হাসান বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
office@ukantho.com