জাতীয়
সাংবাদিককে বেধড়ক মারধর বিএনপি নেতার। বললেন-পেটানো কম হয়ে গেছে! অতঃপর দল থেকে বহিষ্কার
উচ্চকন্ঠ 26-Feb-2025 25
এফএনএস: ঠাকুরগাঁওয়ে চাঁদাবাজি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকের ওপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার আখানগর ইউনিয়নের কালিবাড়ি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিএনপি নেতা যুবাইদুর চৌধুরী আখানগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি। মারধরে আহত সাংবাদিক মামুন অর রশীদ দৈনিক দেশ বাংলার প্রতিনিধি। তাকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় রুহিয়া থানায় অভিযোগ করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় বাজারে চায়ের দোকানে অবস্থান করছিলেন মামুন। কিছুক্ষণ পর যুবাইদুর চৌধুরী তার দলবল নিয়ে অতর্কিত হামলা চালান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মামুনকে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার অÐকোষে লাথি দিলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। প্রায় আধা ঘণ্টা তাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে জেলার গণমাধ্যমকর্মীরা তাৎক্ষণিক হাসপাতালের সামনে এক ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তারা হামলাকারীদের দ্রæত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। আহত সাংবাদিক মামুন অর রশিদ বলেন, ‘কয়েক মাস আগে আমি তাকে নিয়ে চাঁদাবাজির একটি রিপোর্ট করেছিলাম। এরপর থেকে সে আমাকে মুঠোফোনে হুমকি দিতো। ঘটনার দিন তিনি পরিকল্পিতভাবে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছেন। হায়াৎ ছিল বলে প্রাণে বেঁচে ফিরেছি। আমি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’ অভিযুক্ত বিএনপি নেতা যুবাইদুর চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক আমার বিরুদ্ধে লিখেছে তাকে পিটাবে না তো কী করবো? পেটানো কম হয়ে গেছে।’ এই বলে তিনি ফোন কেটে দেন। তানভীর হাসান তানু নামের এক গণমাধ্যমকর্মী বলেন, ‘সাংবাদিকরা নিরপেক্ষভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেন। কোনো রিপোর্ট বা লেখার কারণে তাদের ওপর হামলা হলে তা গণতন্ত্রের জন্য ভয়ানক সংকেত। আমরা মামুনের পাশে আছি।’ রবিউল এহসান রিপন নামের আরেক গণমাধ্যমকর্মী বলেন, ‘এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলার মাধ্যমে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করবোই। প্রশাসনের উচিত দ্রæত সময়ে হামলাকারীদের গ্রেফতার করা।’ রুহিয়া থানা প্রেসক্লাবের সভাপতি বাদল মিয়া বলেন, ‘একজন সাংবাদিকের ওপর এমন বর্বর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দোষীদের দ্রæত আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।’ ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠু বলেন, ‘এমন হামলা স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর আঘাত। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’ ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা রকিবুল ইসলাম চয়ন বলেন, ‘মামুনের শরীরে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে গলা ও অÐকোষে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে।’ এ বিষয়ে রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জব্বার বলেন, ‘মামুন একজন ভালো ছেলে। তার ওপর হামলার ঘটনা দুঃখজনক। আমরা এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’ রুহিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম নাজমুল কাদের বলেন, ‘হামলার বিষয়টি শুনেছি। অভিযোগ পেয়েছি। দ্রæত অভিযুক্তকে আইেেন আওতায় আনা হবে।’
এ ঘটনায় উক্ত আস্ফালনকারী ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জুবাইদুল হক চৌধুরীকে দলীয় সমস্ত পদ থেকে বহিষ্কার করেছে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি। গতকাল বুধবার দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ পদক্ষেপের কথা জানান জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মির্জা ফয়সাল আমীন।
ঘটনার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আখানগর ইউনিয়নের কালিবাড়ি বাজারে চায়ের দোকানে অবস্থান করছিলেন মামুন। কিছুক্ষণ পরে আখানগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি জবাইদুল হক চৌধুরী তার সন্ত্রাসীবাহিনী নিয়ে মামুনের ওপরে অতর্কিত হামলা চালান। তাকে নির্মমভাবে মারধর করেন এবং হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরেন। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে চলে বর্বর শারীরিক নির্যাতন। হামলার কারণ জানতে চাইলে আহত সাংবাদিক মামুন অর রশিদ বলেন, ‘কয়েক মাস আগে তাকে (জুবাইদুর) নিয়ে চাঁদাবাজির একটি রিপোর্ট করেছিলাম। তিনি প্রায় মোবাইল ফোনে আমাকে হুমকি-ধমকি দিতেন। আজকে (মঙ্গলবার) আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করেন। প্রাণে বেঁচে ফিরেছি। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’ মোবাইলে হামলার বিষয়টি স্বীকার করে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা জুবাইদুর চৌধুরী বলেন, ‘সে (মামুন) আমাকে নিয়ে একটা লেখা লিখেছিল ফেসবুকে। তারপর থেকে তাকে দেখা করতে বলেছিলাম। সে দেখা করেনি। আজকে তাকে বাজারে পেয়েছি, পেটানো হয়েছে। তবে তার মাইর কম হয়েছে।’ সাংবাদিক নেতারা বলছেন, ‘এই চাঁদাবাজের এমন আস্ফালনে অবাক হতে হয়। দোষীদের দ্রæত আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। একই সঙ্গে এরকম দুর্নীতিবাজ সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নিতে আমরা বিএনপি নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সাংবাদিকের ওপর হামলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। অপরাধী যেই হোক দ্রæত আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে।’ রুহিয়া থানা বিএনপির সভাপতি জব্বার বলেন, ‘মামুন ভালো ছেলে। তার ওপর হামলার ঘটনা দুঃখজনক। আমরা এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবো।’ এদিকে, জেলার সাংবাদিকদের প্রতিবাদের মুখে জেলা বিএনপি বুধবারের এক সভায় জুবাইদুল হক চৌধুরীকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সমস্ত পদ থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। গতকাল বুধবার দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জানান ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মির্জা ফয়সাল আমীন।
office@ukantho.com