জাতীয়
ছোট অপরাধ বেড়েছে, দ্রুতই কমার আশা উপদেষ্টা আসিফের
উচ্চকন্ঠ 26-Feb-2025 27
এফএনএস: গত অগাস্ট-সেপ্টেম্বরের তুলনায় খুন-ডাকাতির মত বড় অপরাধ ‘কমলেও’ ছিনতাইয়ের মত ছোট অপরাধ ‘বেড়েছে’ বলে মনে করছেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভ‚ঁইয়া। আওয়ামী লীগের দিকে ইংগিত করে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেছেন, দেশের পরিস্থিতি ‘বিঘিœত করার’ চেষ্টা করলে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ঢাকায় পুলিশের নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। ঢাকার বিজয়সরণি এলাকার তল্লাশিচৌকি পরিদর্শন শেষে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে জনগণের মনে এক ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোরাল এখনও আগের অবস্থায় পৌঁছায়নি। এটা একটা দীর্ঘ মেয়াদী প্রক্রিয়া। আমরা ল এনফোর্সমেন্ট এজেন্সিকে ঠিক করার জন্য নতুন নিয়োগ থেকে শুরু করে ট্রেনিংৃএবং এই বিষয়গুলো প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। আশা করি এর ফলাফল পাওয়া যাবে। “সাম্প্রতিক সময়ের পরিস্থিতি নিয়ে গত পরশুই আমাদের কোর কমিটির মিটিং ছিল। সেখানে ঢাকার সকল দায়িত্বশীলদের নিয়ে, সেনাবাহিনী পুলিশসহ যারা আছে সবাইকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে টহলের পরিমাণ বাড়ানো এবং অলিতে গলিতে টহল থেকে শুরু করে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে।” তিনি বলেন, “গত এক ঘণ্টা ঢাকার মোড়ে মোড়ে ঘুরে দেখলাম। প্রত্যেকটা মোড়ে পুলিশের টহল গাড়ি আছে, পুলিশের উপস্থিতি আছে, অন্যান্য ল এনফোর্সমেন্ট বাহিনীর উপস্থিতি আছে। আশা করি যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, জনমনে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, সেটা থেকে খুব দ্রæতই উত্তরণ সম্ভব হবে।” ছিনতাইপ্রবণ এলাকায় টহল বাড়ানো এবং জড়িতদের আটকের মাধ্যমে দ্রæত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি ‘নিয়ন্ত্রণে আসার’ আশা প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, “গত অগাস্ট-সেপ্টেম্বরে হত্যা বা ডাকাতির মত বড় ধরনের যে অপরাধ ছিল, সেটা কিন্তু সিগনিফিক্যান্টলি রিডিউসড হয়েছে। তবে ছোট ধরনের অপরাধ, ছিনতাইয়ের মত ঘটনাগুলো ইদানিং একটু বাড়ছে। “এটাকেও সরকার অ্যাড্রেস করছে, আমাদের ল এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি অ্যাড্রেস করছে, আশা করি খুব দ্রæতই সুফল পাওয়া যাবে এবং এ ধরনের ঘটনাগুলো যত দ্রæত সম্ভব কমে আসবে।” অপরাধ নেই- এমন কোনো সমাজ বা দেশ নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, “অপরাধ থাকবে, তবে সেটাকে যথাসম্ভব নিয়ন্ত্রণে রাখা, সেটা যেন জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি না করে, প্যানিক সৃস্টি না করে। একটা ঘটনা ভাইরাল হলে এটাকে কেন্দ্র করে একধরনের প্যানিক সৃষ্টি হয়ে যায়। প্যানিক সৃষ্টি হলে মনে হয় অনেক অপরাধ হচ্ছে। তবে আমাদের সবসময় স্ট্যাটিসটিকসের ওপর নির্ভর করা উচিৎ। এগুলো দেখলে প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায়। গত ৬ মাসে যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। ছোটখাট অপরাধও যেহেতু ল এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি অ্যাড্রেস করছে, এটাও কমে আসবে।” এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে আমরা দেখেছি, প্রত্যেকটা সেক্টরে চাঁদাবাজি হচ্ছে। আগে যারা কালেকশন করত, তাদের জায়গায় নতুন লোক চলে এসেছে। তাদের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধনও আছে। সরকারের কাছে এ তথ্যগুলো আসে, কে কীভাবে কোথায় কী করছে? তবে আমাদের আহŸান থাকবে রাজনৈতিক বা সামাজিক নেতৃবৃন্দ যারাই আছেন, চাঁদাবাজিকে যেন কোনোভাবে প্রশ্রয় দেওয়া না হয়। এটাও একটা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়। আমরা দেখেছি অনেক রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী অস্ত্র হাতে ঘোষণা দিয়ে চাঁদাবাজি করছে। এগুলো বাকিদের উদ্বুদ্ধ করে। রাজনৈতিক জায়গা থেকে যদি হয়, সেখানে সরকারের কন্ট্রোল করা টাফ।”
বর্তমান সরকারের সময়ে জামিনে মুক্তি পাওয়া ‘শীর্ষ সন্ত্রাসীদের’ বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “দেখুন জামিনের বিষয়টা আদালতের। যারা আগে এ ধরনের কাজে সম্পৃক্ত ছিল, তাদেরতো নিজস্ব লোক আছে। তারা বের হয়ে হয়ত আবার সংগঠিত করার চেষ্টা করছে। তবে তাদেরকে মনিটর করে প্রয়োজনে আবারও গ্রেপ্তার করার ব্যবস্থা করবে আইনশৃঙ্খল বাহিনী।” তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রচেষ্টাও আছে দেশের পরিস্থিতি খারাপ করার জন্য। মাঝে মধ্যে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রæপের কিংবা বিভিন্ন মিটিংয়ের স্ক্রিনশট আপনারা দেখবেন। যেখানে মিটিংয়ের রেজুলেশন আমরা পাই, সেখানে শেখ হাসিনা মিটিং করে তার নেতাকর্মীদের কী কী নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশনাগুলো এরকম যে সরকারকে উৎখাত করতে হবে, দেশের পরিস্থিতি খারাপ করতে হবে। মানুষকে বোঝাতে হবে যে, শেখ হাসিনাই ভালো ছিল। এ ধরনের কাজগুলো যখন ওদিক থেকে চেষ্টা করা হয়, তখনতো স্বাভাবিকভাবেই তারা কিছুটা অ্যাকটিভ হওয়ার চেষ্টা করে। অপারেশন ডেভিল হান্টের মাধ্যমে তাদের এই প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করা হয়েছে। ডিএমপিতে ১৬০০ প্লাস গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই, দেশের পরিস্থিতিকে বিঘিœত করার জন্য, দেশের ক্রান্তিলগ্নে কেউ যদি জনগণের নিরাপত্তা বিঘিœত করার চেষ্টা করে, সেটা রাজনৈতিক হোক কিংবা নিতান্তই চাঁদাবাজি ছিনতাইয়ের মত ঘটনা হোক, সেটা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। সেক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর থেকে কঠোরতর ব্যবস্থা নেবে।
office@ukantho.com