রাজনীতি
আগে একাত্তর নিয়ে মাফ চান, পরে ভোট চান: মির্জা ফখরুল
উচ্চকন্ঠ 29-Jan-2026 61
এফএনএস: নির্বাচনী প্রতিপক্ষের উদ্দেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী অনেক অত্যাচার করেছে। বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। পেট্রোল পাম্প ট্যাংক সবই নিয়ে গিয়েছিল। পাক সেনাদের কারা সহযোগিতা করেছিল- এটাও আমরা জানি। আগে একাত্তর সালের জন্য মাফ চান, তারপর ভোট চান। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের চন্ডিপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী গণসংযোগে এসব মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপির মহাসচিব বলেন, হাসিনার আমলে আমরা কাজ করতে পারিনি। পালানোর পর আমরা উন্নয়নের কাজ শুরু করেছি। আগে ১০০ টাকা আয় হতো, এখন ২০০ টাকা আয় করাকে উন্নয়ন বলে। কর্মসংস্থান হলে মানুষের উন্নয়ন হবে। যদি কৃষির উন্নতি হয়, তাহলে আমাদের উন্নতি হবে। মির্জা ফখরুল বলেন, আগামী ভোটে সঠিক সিদ্ধান্ত না নিলে আমরা ভুল করব। বিএনপি আগামীতে সরকার গঠন করবে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন। তারেক জিয়াকে দেশে আসতে দেয়নি ১৮ বছর। যেদিন প্রথম এলেন, সেদিন লোকে লোকারণ্য হয়ে গেল। প্রথম দিন স্টেজে উঠে বললেন, আমার একটি পরিকল্পনা আছে। পরিকল্পনা হলো উন্নয়নের পরিকল্পনা। তিনি আমাদের মায়েদের উন্নতি করতে চান। সেটা হলো ফ্যামিলি কার্ড। এ কার্ডের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য সুবিধা পাবেন। কৃষি কার্ডের মাধ্যমে সার-বীজ পাওয়া যাবে। তিনি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবেন। এসময় দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে সালন্দর ইউনিয়নের কালীতলা এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগে আলমগীর বলেন, নির্বাচনে সততা পালিয়ে গেছে। আমরা চেষ্টা করছি সততা ধরে রাখতে। আপনার ভোট বড় আমানত। সেটা আমাকে দেবেন। কারণ আমি আপনাদের চেনা লোক। মহাসচিব বলেন, আমরা ভিক্ষা আর দয়ায় বাঁচতে চাই না, কাজ করে বাঁচতে চাই। সেজন্য প্রশিক্ষণ নিতে হবে। আমাদের ছেলেগুলো শুধু পড়াশোনা করে এমএ-বিএ পাশ করতে চায়, কিন্তু পাশ করে চাকরি মিলেনা। প্রশিক্ষণ নিয়ে বাইরের দেশে গিয়ে ভালো আয় করা সম্ভব। ছাত্রদের ওইদিকে মনযোগী করতে হবে। সঠিক পথে যেতে হবে। এতে আমাদের উন্নতি হবে। তিনি আরও বলেন, ১৫ বছর এসব কথা আমরা বলতে পারি নাই। আমাদের শুধু পিটিয়েছে আর মামলা দিয়েছে। এখন আমরা কাজ করতে চায়। আপনারা সংগঠন গড়ে তুলবেন। সংগঠনের মাধ্যমে আমরা কাজ করতে চাই। সবজি রাখার জন্য কোল্ড স্টোরেজ করা হবে। নারীদের কুটির শিল্পে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। মির্জা ফখরুল বলেন, ঠাকুরগাঁও আমার জন্মস্থান। আমার বাবা, আমি ও আমার ছোট ভাই পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলাম। আওয়ামী লীগের আমলে ছোট ভাই চেয়ারম্যান থাকা সত্বেও তাকে কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয় নাই। আমরা কাজ করতে পারি নাই। সরকার চলে যাওয়ায় পর আমরা শহরের রাস্তার কাজগুলো নিয়ে এসেছি। আপনারা অতীতে ভোট দিয়েছেন এবারও দেবেন। আমরা রাজনীতি করে ব্যবসা করি না। বাপের জমিজমা বিক্রি করে রাজনীতি করি। বাপের জমিজমা যা ছিল অর্ধেক শেষ। এটাই আমার শেষ নির্বাচন, আপনারা আমাকে সুযোগ করে দেবেন। এসময় দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।
office@ukantho.com