অপরাধ
ঘরের আড়াই ঝুঁলছিল যুবকের মরদেহ, স্ত্রীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ!
উচ্চকন্ঠ 17-Feb-2025 45
বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডুু উপজেলার শড়াতলা গ্রাম থেকে রানা মন্ডল (৩৫) নামের এক যুবকের গলাই ফাঁস দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করা করেছে পুলিশ। রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার শড়াতলা গ্রামের নিজ ঘরের আড়া থেকে গলাই গামছা পেঁচানো অবস্থায় পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। রানা ওই গ্রামের মঈনুদ্দিন মন্ডলের ছেলে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ রানার স্ত্রী শম্পা খাতুনকে আটক করেছে।
ওই যুবকের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, বনিবনা না হওয়ায় স্ত্রী শম্পা খাতুন বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে ঘরের আড়াই গলাই ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে।
সদর মন্ডল নামে এক প্রতিবেশি জানান, রানা এলাকায় ভালো ছেলে হিসেবে পরিচিত। গ্রামে একটি চায়ের দোকান ছিল তার। এছাড়াও সে কৃষিকাজ করতো। স্ত্রীর সাথে বেশকিছুদিন ধরে বনিবনা হচ্ছিল না। গ্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়াবিবাদ হতো। তার স্ত্রী হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখেছে বলে তাদের ধারণা।
ওই যুবকের মা পারভিনা খাতুনের ভাষ্য, কয়েকদিন ধরে পুত্রবধূর সাথে ছেলের মনোমালিন্য চলছিল। সে বাড়িতে খাওয়া দাওয়া ঠিকমতো করত না। রোববার দুপুরের আগে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছে। পরে ছেলে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে থাকার সময় তার স্ত্রী শম্পা খাতুন বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে মরদেহ ঘরের আড়াই ঝুঁলিয়ে রাখে।
একইরকম দাবি করেন রানার বাবা মাঈনুদ্দিন মন্ডল। তার দাবি, ছেলেকে পুত্রবধূই হত্যা করেছে। ছেলে হত্যার বিচার চাই।
তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে ওই যুবকের স্ত্রী শম্পা খাতুন দাবি করেন, তিনি রান্নাঘরে রান্না করছিলেন। পরে খবর পেয়ে অন্যদের সাথে ঘরে গিয়ে মরদেহ আড়াই ঝুঁলে থাকতে দেখেন।
হরিণাকুন্ডুু থানার ওসি এম এ রউফ খান বলেন, খবর পেয়ে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে হত্যার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত করে এবং পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। এরপর আইনআনুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।
office@ukantho.com