শনিবার | ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ইং | বাংলা
Logo
ব্রেকিং নিউজঃ

প্রিয় ঝিনাইদহ

জনবল সংকটে দশ বছর ধরে বন্ধ ঝিনাইদহের শৈলকুপার মিনি মৎস্য হ্যাচারী

উচ্চকন্ঠ   09-Dec-2025   78

Photo

বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: জনবল সংকটে দশ বছর ধরে বন্ধ ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মিনি মৎস্য হ্যাচারী। ঐ উপজেলার কোর্টপাড়ায় ১৯৮২ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল মিনি মৎস্য হ্যাচারী। প্রায় চার দশক আগে প্রতিষ্ঠিত এই হ্যাচারীটি এক সময় এলাকায় মাছের রেণু উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এখন তা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। শুরুর দিকে স্বল্পপর্যায়ে রেণু উৎপাদন হলেও মান নিয়ে চাষিদের অভিযোগ বাড়তে থাকায় ধীরে ধীরে কমে আসে এর চাহিদা। ১৯৮৬ সালের দিকে পুরো হ্যাচারীটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০১৫ সালে মৎস্য বিভাগ আবারো কিছুদিনের জন্য রেণু উৎপাদন কার্যক্রম চালু করে। কিন্তু জনবল সংকট ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনার অভাবে একই বছরের শেষ দিকে হ্যাচারীটি আবারো বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকে অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দিনদিন। তাই এটা দ্রুত চালুর দাবি এলাকাবাসীর।
উপজেলা মৎস্য অফিসের দেওয়া তথ্য মতে, হ্যাচারীটি চালু থাকলে প্রতি মৌসুমে অন্তত ৪০ কেজি রেণু উৎপাদন করা সম্ভব। যা থেকে পোনা মাছ উৎপাদন হবে প্রায় ৪০ লাখের বেশি।
স্থানীয় মাছ চাষিরা বলছেন, হ্যাচারীটি বন্ধ থাকায় তারা বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছেন। এখন তাদের দূরদূরান্ত থেকে বাড়তি দামে রেণু সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
মাছচাষি ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘হ্যাচারীটা বন্ধ পড়ে থাকায় এলাকার চাষিরা বঞ্চিত হচ্ছে। সরকার যদি আবারো এটি চালু করত,তাহলে স্থানীয়ভাবে ভালো মানের পোনা পাওয়া যেত। এতে উৎপাদনও বাড়ত।’
স্থানীয়রা জানান, হ্যাচারীটি দীর্ঘদিন অচল থাকায় ভবন, ট্যাংক এবং যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কোনো উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে এটি পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়বে।
আরেক মাছচাষি মশিয়ার রহমান বলেন, ‘এখানে যদি আগের মতো রেণু পাওয়া যেত,তাহলে আমাদের খরচ অর্ধেক কমে যেত। এখন ঝিনাইদহ শহর বা পাশের জেলা থেকে রেণু আনতে বাড়তি টাকা লাগছে, সময়ও নষ্ট হচ্ছে।’
মাছ চাষি শিহাব উদ্দিন বলেন, সরকার যদি আবারো হ্যাচারীটি চালু করত, তাহলে স্থানীয়ভাবে ভালো মানের পোনা পাওয়া যেত। এতে উৎপাদনও বাড়ত।’
স্থানীয় বাসীন্দা দেলোয়ার হোসেন জানান, হ্যাচারীটি দীর্ঘদিন অচল থাকায় ভবন, ট্যাংক এবং যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কোনো উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে এটি পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়বে। অপরদিকে ‘হ্যাচারীটা বন্ধ পড়ে থাকায় এলাকার চাষিরা বঞ্চিত হচ্ছে।
চাষিদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে হ্যাচারীটি সংস্কার করে নিয়মিত উৎপাদন শুরু করলে এলাকায় মাছ চাষ আরও বেগবান হবে এবং অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হবেন তারা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এই মিনি হ্যাচারীটি পুনরায় চালু হলে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।
শৈলকুপা উপজেলা মৎস কর্মকর্তা মোঃ ইমরান হোসেন বলেন, ‘পর্যাপ্ত জনবল ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় হ্যাচারীটি পরিত্যক্ত ছিল। ২০২৪ সালে একটি বরাদ্দের মাধ্যমে হ্যাচারীটি পু:সংস্কার করা হয়েছে। এবছর থেকেই রেণূ উৎপাদন করা হবে বলে আশা করছি।’

office@ukantho.com


Photo

টাঙ্গাইলে শিশুকে ধর্ষণ, সালিশে জরিমানা দেড় লাখ টাকা

এফএনএস: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নানির বাড়ি বেড়াতে গিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে...

Photo

ঝিনাইদহে নিখোঁজের সাড়ে পাঁচ মাস পরেও খোঁজ মেলেনি স্কুলছাত্রী নিঝুমের

বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার...

Photo

যেখানে আওয়ামী লীগ সেখানেই মাইর: হামীম

এফএনএস: দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর আওয়ামী লীগের হয়রানিমূলক ও আক্রমণাত্মক...

Photo

শৈলকুপায় মেছোবাঘ পিটিয়ে হত্যা

বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় একটি মেছোবাঘকে...

© 2026 উচ্চকন্ঠ কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত