প্রিয় ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহ জেলা জুড়ে ভুয়া ফেসবুক আইডির বেপরোয়া তৎপরতা: নিজ দলের ভিতরে বাড়ছে দূরত্ব
উচ্চকন্ঠ 19-Nov-2025 154
হাবিব ওসমান, নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহ জেলার ছয়টি উপজেলাজুড়ে (ঝিনাইদহ সদর, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, মহেশপুর, শৈলকূপা ও হরিণাকুন্ডু) ফেসবুকে ভুয়া আইডির তৎপরতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নাম, ছবি ও পরিচয় চুরি করে সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নামে গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানো এখন প্রায় নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে।
এই সব ভুয়া আইডি সিন্ডিকেটের প্রধান লক্ষ্য আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনী মাঠ উত্তপ্ত করা।
সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের নামে একের পর এক ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে নানা ধরনের বিতর্কিত পোস্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলেন, জেলার ৪ টি সংসদীয় আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক গ্রুপগুলোকে ঘায়েল করতে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য প্রচারের প্রবণতা মারাত্মকভাবে বেড়েছে। এতে পারিবারিক বিরোধ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সবকিছুই এক মুহূর্তে জ্বলে ওঠার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
গবেষকদের পর্যবেক্ষণ ঝিনাইদহ-৪ আসনে সবচেয়ে বেশি ভুয়া আইডি সক্রিয়। কালীগঞ্জ উপজেলায় ভুয়া আইডির কার্যক্রম সবচেয়ে বেশি সক্রিয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নামে এসব ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হচ্ছে।
জেলা জুড়ে ভুয়া আইডির টার্গেট মূলত সমাজের সুধীজন, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় নেতৃত্ব। এমন সব পোস্ট ছড়ানো হচ্ছে যা জনমনে ভুল ধারণা তৈরি করছে।
একজন ব্যবসায়ী বলেন, নামের পাশে এসব মিথ্যা অপপ্রচার পোষ্ট আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জীবনকেও অসহ্য করে তুলছে। গুজব ছড়ানোর প্রবণতায় সাধারণ মানুষের জীবনে অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করছে।
সাইবার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছাড়াও এখানে ভিন্নমতের মানুষকে বিভ্রান্ত করা এবং সামাজিক উত্তেজনা ছড়ানোর জন্যও ভুয়া আইডি ব্যবহার করা হচ্ছে।
নির্বাচনী মাঠ জমে ওঠার সাথে সাথে ভুয়া আইডির তৎপরতাও হু হু করে বাড়ছে।
ব্যক্তিত্বহানিকর পোস্ট দিয়ে বিভিন্ন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করা হচ্ছে।
একজন রাজনৈতিকবিদ বলেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই নতুন নতুন ভুয়া আইডি তৈরি হচ্ছে। উদ্দেশ্য খুব স্পষ্ট পরিস্থিতি অস্থির করে দেওয়া।
এ জেলায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। নামে বে-নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে এমন সব মন্তব্য ছড়ানো হচ্ছে যা তাদের পেশাগত বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এতে সাংবাদিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জেলা জুড়ে ছড়ানো আতঙ্ক, এভাবে চলতে থাকলে বড় ধরনের ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একটি সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক নির্বাচনকে ঘিরে জনমত প্রভাবিত করতে, সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াতে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী নেতাদের অসম্মানিত করতে এই ভুয়া আইডিগুলো ব্যবহার করছে।
তারা সতর্ক করে বলেন, এই অপপ্রচার রোধ করা না গেলে ভুল বোঝাবুঝির জেরে বড় ধরনের সংঘর্ষ কিংবা জীবনহানির মতো পরিস্থিতি ঘটতে পারে।
ভুক্তভোগী রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, প্রযুক্তিভিত্তিক নজরদারি, আইনি পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক উদ্যোগের সমন্বয় ঘটলে এই ডিজিটাল মহামারি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
জেলা প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হচ্ছে। অভিযোগ পেলেই তদন্ত শুরু হবে। নির্বাচনের আগে ভুয়া আইডি শনাক্তে বিশেষ টিম কাজ করবে। সাইবার অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
office@ukantho.com