জাতীয়
ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঠেকানোর সাধ্য কারো নেই: প্রেস সচিব
উচ্চকন্ঠ 07-Nov-2025 65
এফএনএস: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেউ ঠেকাতে পারবে না। ঠেকানোর সাধ্য কারো নেই। আমরা মধ্য ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন করবো। সারাদেশে নির্বাচনের উৎসব শুরু হয়ে গেছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে, আর এবারের নির্বাচন হবে দেশের শ্রেষ্ঠ নির্বাচন। রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী বাছাই থেকে শুরু করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছে। তিনি বলেন, যারা এখনো নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্ত বক্তব্য দিচ্ছেন, নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন, তারা পতিত স্বৈরাচারী সরকারের দোসর। কোনো কোনো মিডিয়া টক শো গরম করার জন্য কাউকে কাউকে ডেকে এনে মিথ্যাচার করছে। মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। নেত্রকোনা সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে শুক্রবার সকাল নয়টায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এসব কথা বলেন তিনি। এসময় তিনি আরও বলেন, এ সরকারই নির্বাচনী সরকার হিসেবে কাজ করবে। শফিকুল আলম বলেন, ক্ষমতায় রাজনৈতিক দলগুলোই থাকবে, আর নির্বাচনের মাধ্যমেই তারা আসবে। রাজনীতিতে গণতন্ত্রই হচ্ছে সলিড ফাউন্ডেশন। প্রেস সচিব বলেন, আগে দেশে মব ভায়োলেন্স ছিল, এখন নেই। তা দৃঢ়ভাবে দমন করা হয়েছে। দেশের সবখানে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে। সব দল প্রার্থীর নাম ঘোষণা করছে, মিছিল-মিটিং করছে। কেউ নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না। নির্বাচনের তফসিল বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, তফসিল কবে হবে- সেটা নির্বাচন কমিশনই ভালো বলতে পারবে। তবে ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এতে কোনো আশঙ্কা নেই। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান প্রেস সচিব। ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রিয়াজ ৮৩ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন- এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা পতিত সরকারের প্রপাগান্ডা। যারা পতিত সরকারের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন, তারাই এসব ভুয়া কথা প্রচার করছেন। কিছু মিডিয়া এসব অসত্য বক্তব্যও প্রচার করছে। শফিকুল আলম বলেন, সবাই এখন ইলেকশনের জন্যে অধীর আগ্রহে আছেন, অনেকেই ক্যাম্পেইন করছেন, অনেকেই ঢাকা থেকে এলাকায় চলে গেছেন, গ্রামে চলে গেছেন। প্রচার-প্রচারণা করছেন। আমরাতো সবাইকে দেখছি। পুরো জাতি এখন নির্বাচনের জন্যে অধীর আগ্রহে আছেন। এমন কোনো জায়গা নেই যে সেখানে ক্যাম্পেইনিং হচ্ছে না। সব জায়গায় হচ্ছে। নেত্রকোণা, নোয়াখালী, মাগুরায় দেখেছি; সব জায়গায় দেখেছি। পোস্টারে, ব্যানারে ছেয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের মতামতকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি নিশ্চিত করতেই প্রধান উপদেষ্টার সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসাবে উল্লেখ করে মোহাম্মদ শফিকুল আলম আরও বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডে গণমাধ্যম আমাদের অন্যতম সহযোগী শক্তি। জনগণের কাছে সরকারের কার্যক্রমের সঠিক ও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সরকারের সঙ্গে গণমাধ্যমের পারস্পরিক আস্থা ও বোঝাপড়া আরও দৃঢ় করতে হবে। জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে সভায় সংবাদকর্মীরা স্থানীয় সমস্যা, সম্ভাবনা ও পেশাগত চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন এবং পেশার মানোন্নয়ন নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।
ডিপ্লোমা ইন লাইভস্টক শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি: এদিকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নিয়োগ বিধিমালা ২০২৩ এর সব টেকনিক্যাল পদসমূহে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন ও দ্রুত নিয়োগের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার সকালে নেত্রকোণা সার্কিট হাউজে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলমের কাছে এই স্মারকলিপি দেন ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (আইএলএসটি), নেত্রকোণার শিক্ষার্থীরা। সেখানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ জামান, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান বলেন, আইএলএসটি শিক্ষার্থীরা চার বছর মেয়াদী শিক্ষা ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে কর্মদক্ষতা অর্জন করছে। তবে অত্যন্ত দুঃখজনক যে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নিয়োগ বিধিমালা ২০২৩ ডিপ্লোমা ইন লাইফ স্টক ডিগ্রিধারীদের জন্য কোনো নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়নি। বর্তমানে দুইটি প্রাথমিক প্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ সাতটি ব্যাচের ডিপ্লোমাধারী শিক্ষার্থীরা বেকার অবস্থায় রয়েছে। স্মারকলিপি গ্রহণ করে প্রেসসচিব শফিকুল আলম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য বলেন, দাবিনামার স্মারকলিপি নিয়ে গেলাম। ঢাকায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপিটি পৌঁছে দেব।
office@ukantho.com