অপরাধ
নড়াইলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ
উচ্চকন্ঠ 23-Oct-2025 75
কাজী আতিকুর রহমান, নড়াইল জেলা প্রতিবেদক: নড়াইল সদর উপজেলায় মাইজপাড়া ইউনিয়নের কালুখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার শিক্ষক মো. তরিকুল ইসলামকে একমাত্র অভিযুক্ত করে থানায় ধর্ষণ চেষ্টা মামলা করেছন।
মামলায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের দাবি, চলতি মাসের ১৫ তারিখ বিকালে নড়াইল সদরের মাগুরা কালুখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ছুটির পর একটি শ্রেণির ৪ জন শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে প্রাইভেট পড়াচ্ছিলেন বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. তরিকুল ইসলাম। একজন ছাত্রী মায়ের ডাকে সাড়া দিয়ে বাহিরে গেলেন, আর শিক্ষক কৌশলে দুই ছাত্রকে পাঠালেন জাতীয় পতাকা খুলতে। এই ফাঁকে কোমলমতি ছাত্রীকে একা পেয়ে রুমের দরজা চাপিয়ে দিয়ে শিক্ষার্থীর স্পর্শকাতর স্থানে খারাপ ভাবে স্পর্শ করে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এসময় শিক্ষার্থীর চিৎকার ও কান্নার শব্দে তার অন্য সহপাঠীরা ছুটে এসে দরজা ধাক্কা দিয়ে খোলেন। এসময় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে তড়িঘড়ি করে ওই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে ছেড়ে দিতে দেখেন তার সহপাঠীরা।
শিক্ষকের এমন কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীরা দেখে ফেলায় তাদেরকে আবেগাপ্লুত করে কাউকে না জানানোর অনুরোধ করেন অভিযুক্ত ওই শিক্ষক। শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে তার মাকে জানালে, সামাজিক অবস্থান ও সম্মানহানির ভয়ে চুপ থাকেন সকলে। ঘটনার তিনদিন পর ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের পুরুষ সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন। এ বিষয়টিকে ধামাচাপা দিতে ও ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে অভিযুক্ত শিক্ষক স্থানীয় পর্যায়ে তদবির চালান। পরে ভুক্তভোগীর পরিবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে অভিযুক্ত করে ২১ অক্টোবর(মঙ্গলবার) রাতে সদর থানায় ধর্ষণ চেষ্টা মামলা দাযের করেন।
শিশু শিক্ষার্থীর ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে খোদ শিশুরাই নেমেছেন পথে। আর তাদের সাথে যোগ দেন অভিভাবক সহ বিদ্যালয়টির শিক্ষকরা।
জানা যায়, ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ১৬ অক্টোবর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক ৭ দিনের ছুটি নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করেন। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার মামলা দায়ের করলে ওই শিক্ষক গা ঢাকা দিয়ে পালিয়ে যান।
অভিযুক্ত শিক্ষক মো.তরিকুল ইসলাম কালুখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর যোগদান করেন৷ আর চলতি বছরের আগস্ট মাস থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বাড়ি নড়াইল সদরের মাইজপাড়া ইউনিয়নের বোড়ামারা গ্রামে।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমার বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে একটি মহল ষড়যন্ত্র করে আসছেন। সেটার ফল হিসাবে আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের মিথ্যা, বানোয়াট অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকালে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
office@ukantho.com