রাজনীতি
ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত
উচ্চকন্ঠ 09-Sep-2025 37
এফএনএস: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে (ডাকসু) ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টায় শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। এরপর শুরু হয় ভোট গণনা। বিভিন্ন পক্ষের কিছু অভিযোগ থাকলেও অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা ঘটেনি। ডাকসুতে এবার মোট ভোটার ৩৯ হাজার ৮৭৪। এর মধ্যে পাঁচটি ছাত্রী হলে ১৮ হাজার ৯৫৯ আর ১৩টি ছাত্র হলে ভোটার ২০ হাজার ৯১৫ জন। এবারের নির্বাচনে ডাকসুতে ২৮টি পদের বিপরীতে ৪৭১ জন প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেন। তাদের মধ্যে বিভিন্ন পদে ছাত্রী ৬২ জন। এছাড়া প্রতি হল সংসদে ১৩টি করে ১৮টি হলে মোট পদের সংখ্যা ২৩৪টি। এসব পদে ভোটে লড়েছেন এক হাজার ৩৫ জন। আটটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে, ডাকসু নির্বাচনের ভোট গণনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কারচুপি করছে বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রদলসহ বিভিন্ন প্রার্থীরা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একটি মিছিলও করেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা টিএসসিতে আসেন। তারা কেন্দ্রের ভোট গণনা দেখতে ভেতরে ঢুকতে চান। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের ভেতরে প্রবেশে বাধা দেয়। তখন তারা সেখানে অবস্থান নিয়ে শ্লোগান দিতে থাকেন, ভোট চোর ভোট চোর, শিবির ভোট চোর, প্রহসনের নির্বাচন মানি না, মানবো না। ছাত্রদল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, টিএসসি কেন্দ্রে ভোট গণনা দেখানোর এলইডি স্ক্রিনে ব্যালট বাক্স দেখানো হচ্ছে না। তাই তারা ভোট গণনা দেখতে ভেতরে যেতে চান। কিন্তু প্রশাসন তাদের ভেতরে যেতে দিতে বাধা দেয়। স্বতন্ত্র এজিএস প্রার্থী হাসিবুল বলেন, শিবিরে প্রার্থীদের ভোট গণনার সময় ভেতরে যেতে দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের সময় বাধা দেওয়া হয়। টিএসসির এলইডি স্ক্রিনে আমরা দীর্ঘ সময় ব্যালট বাক্স দেখছি না। শিবিরকে জেতানোর জন্য ব্যালট বাক্স লুকানো ও কারচুপি করা হচ্ছে।পরে দীর্ঘ আধাঘণ্টা অবস্থানের পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রশাসন তাদের ভেতরে প্রবেশের জন্য গেট খুলে দেয়। তখন অবস্থানকারীরা তাদের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে চলে যান। পরবর্তীতে মিছিল করেন। টিএসসি থেকে বের হয়ে আবিদুল ইসলাম বলেন, প্রশাসন তাদের কারচুপি লুকিয়ে আমাদের ভেতরে যেতে দিচ্ছে। তাই আমরা ভেতরে যাইনি। আমরা এই প্রহসনের নির্বাচন মানি না। এ ঘটনার পর থেকে টিএসসিতে এলইডি স্ক্রিন বন্ধ ছিল। এদিকে ডাকসু নির্বাচন স্বচ্ছ হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। মঙ্গলবার বিকেলে ক্যাম্পাসের তিনটি কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সিনেট ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। নির্বাচন স্বচ্ছ হয়েছে দাবি করেন উপাচার্য। তিন বলেন, নির্বাচনে স্বচ্ছতার ঘাটতি নেই। কার্জন হল কেন্দ্রের অভিযোগ প্রসঙ্গে অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, কার্জন হলে ভুলক্রমে ছোট একটি সমস্যা হয়েছে। তার জন্য আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছি। তবুও এ ঘটনার আমরা পুনরায় তদন্ত করে কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেবো। ছাত্রদল নেতারা উপাচার্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতি প্রশাসন আখ্যা দেওয়ার পর নিজে কোনো দলের নন এবং কখনো রাজনীতি করেননি বলে দাবি করেন উপাচার্য। এদিন বিকেলে সিনেট ভবনে একটি মিটিং চলাকালীন সেখানে ঢুকে পড়েন ছাত্রদল নেতারা। তারা ডাকসু নির্বাচন ঘিরে শিবিরের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসের আশপাশে বহিরাগত (জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী) জড়ো করার অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে উপাচার্যের মুখোমুখি হন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এরপর সেখানে কিছুটা উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। ছাত্রদল নেতারা ক্যাম্পাসের আশপাশে জড়ো হওয়া লোকদের জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী দাবি করে উপাচার্যকে উপর্যুপরি প্রশ্ন করতে থাকেন। উপাচার্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানালেও তারা তা মানতে রাজি হননি। সেখানে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব উপাচার্যকে বলেন, আমরা আজকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে আপনাকে জামায়াতি প্রশাসন হিসেবে আখ্যা দিলাম। আমরা আজ থেকে আপনাদের বিষয়ে কোনো সহযোগিতা করবো না। যদি আপনি এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেন তাহলে আমরা আর আপনাকে কোনো সহযোগিতা করবো না। এসময় উপাচার্য বলেন, আমি কোনো দলের নই এবং কখনো রাজনীতি করিনি।
office@ukantho.com