প্রিয় ঝিনাইদহ
কালীগঞ্জে বিএনপি কর্মী নিহতের ঘটনায় মামলা: আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দলে অন্তর্ভূক্তিই এ হতাহতের কারণ
উচ্চকন্ঠ 04-Jun-2025 55
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে মহব্বত আলী নামে এক কর্মী হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার একদিন পর মঙ্গলবার রাতে ৫৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। মামলায় এক নম্বর আসামি করা হয়েছে উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক কোলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ডাক্তার নুরুল ইসলামকে। মামলার আসামিরা সবাই কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ও ঝিনাইদহ-৪ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশি সাইফুল ইসলাম ফিরোজের অনুসারি বলে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে মামলা দায়ের করা হলেও নানা নাটকীয়তার পর বুধবার বিকালে মামলাটি রেকর্ডভুক্ত করা হয়।
এর আগে ১ জুন রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সাইফুল ইসলাম ফিরোজের অনুসারিরা উপজেলার জামাল ইউনিয়নের তালিয়ান শ্মশানঘাট এলাকায় মহব্বতকে কুপিয়ে হত্যা করে। এসময় ঠেকাতে গেলে তার ভাই ইউনুছ আলীকেও কুপিয়ে জখম করে অস্ত্রধারীরা। নিহত মহব্বত উপজেলার নাকোবাড়িয়া গ্রামের মৃত হাবিবর রহমানের ছেলে।
স্থানীয়রা বলছেন, ৫ আগষ্টের পর জামাল ইউনিয়নের চিহ্নিত আওয়ামী সন্ত্রাসী বাবলুর রহমান ওরফে ঘ্যানা সাইফুল ইসলাম ফিরোজের সাথে যোগ দেন। এরপর থেকে একের পর এক বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর হামলা করে জখম ও পঙ্গু করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছে। এরই জের ধরে ১ জুন সকালে সন্ত্রাসী ঘ্যানার নেতৃত্বে অস্ত্রধারীরা মহব্বতকে কুপিয়ে খুন করে। সন্ত্রাসী ঘ্যানা ঝিনাইদহ-৪ আসনের আওয়ামীলীগ দলীয় এমপি ভারতে খুনের শিকার আনোয়ারুল আজিম আনারের কাছের লোক ছিলেন।
মামলার বাদি নিহত মহব্বত আলী ছেলে ইনামুল হক জানান, আমি মঙ্গলবার রাতে ৫৮ জনের নাম উল্লেখ করে একটি এজাহার থানায় দাখিল করেছি। তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আমরা পারিবারিকভাবে বিএনপির কর্মি। গত ১৭ বছর আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাতে নির্যাতিত হয়েছি। এখন সে সব সন্ত্রাসীরা বিএনপির একটি গ্রুপে যুক্ত হয়ে আমাদের খুন জখমসহ ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তারা আমার বাবাকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমরা এমন বিএনপি চাইনি, আমরা শান্তি চাই।
কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ন সাধারন সম্পাদক ও ঝিনাইদহ-৪ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশি সাইফুল ইসলাম ফিরোজ জানান, আমার কোন অনুসারিরা বিএনপি কর্মীকে হত্যা করেনি। সামাজিক কোন্দলে বিএনপির ওই কর্মী খুনের শিকার হয়েছে। আওয়ামী সন্ত্রাসী বাবলুর রহমান ঘ্যানাকে দলে ভিড়িয়ে খুন জখম ও এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির প্রশ্নে এ নেতা বলেন, ঘ্যানা বিএনপির কেউ না। সে বিএনপিতে যোগদানও করেনি।
কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম হাওলাদার মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ কাজ করছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
আপডেট: ৪ জুন ২০২৫ বুধবার সকালে যশোরে চিকিৎসাধীন অবস্থা মৃত্যুবরণ করেন মহব্বতের বড় ভাই ইউনুচ আলী। ফলে এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ২ জন।
office@ukantho.com