প্রিয় ঝিনাইদহ
জয় বাংলা ধানের শীষ, ঘ্যানা এখন বড়ই বীষ
উচ্চকন্ঠ 19-May-2025 44
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের পূর্বাঞ্চলের ত্রাস ভয়ংকর সন্ত্রাসী যুবলীগ ক্যাডার বাবলুর রহমান ঘ্যানা এখন ভোল পাল্টিয়ে আগামী নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী এক নেতার আশ্রয় প্রশ্রয়ে আবারো স্ব মূর্তিতে আবির্ভূত হয়েছে। সে ঐ নেতার তদবিরে সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়ে তার অনুগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী পূনর্গঠন করে পূর্বের আওয়ামী সময়ের ন্যায় একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে গেলেও ভীত সন্ত্রস্ত শত শত আতঙ্কিত নারী পুরুষ জীবনের ভয়ে টু শব্দটিও করতে পারছে না। তারা অবিলম্বে সন্ত্রাসী ঘ্যানাকে গ্রেফতার করে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন। জানা যায় গত ১৬ মে রাতে উপজেলার গোপালপুর গ্রামের বাবলুর রহমান ওরফে ঘ্যানা তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আকস্মিক ভাবে নিজ গ্রামের নজির মন্ডল, বছির মন্ডল, মালেক মোল্যা, মনিরুল মোল্যা ও আকরাম মোল্যার বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাদের ঘরবাড়ির দরজা জানালা ভাংচুর করে এবং ঘরের ভিতরে ঢুকে আসবাবপত্র ভেঙ্গে চুরমার করে। এসময় সন্ত্রাসীরা বছির মন্ডলের বাড়ি থেকে ৩টি মোবাইল ফোন, নগদ ৫০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এছাড়া অন্যান্য বাড়ি থেকে ৪টি বাই সাইকেলও লুট করেছে। সন্ত্রাসীরা যাবার সময় আকরাম মোল্যার স্ত্রী ও সন্তানকে বেধড়ক মারপিট করে আহত করলেও তাদেরকে হাসপাতালে নিতে দেয়নি। পরবর্তীতে পুলিশের উপস্থিতিতে আহত মহিলাকে তার ভাইয়েরা উদ্ধার করে পিত্রালয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন। লুটপাটের ঘটনাটি কালীগঞ্জ থানা পুলিশকে জানালে তাৎক্ষণিক পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘ্যানা বাহিনী পালিয়ে যায়। পরদিন সকালে মনিরুল মোল্যা ও জাফর মোল্যা কোলা হাটে ধান বিক্রি করতে নিয়ে যাবার পথে ঘ্যানা বাহিনী সে ধান লুট করে। ঘটনাটি ঝিনাইদহ র্যাব ক্যাম্পে জানালে তাদের হস্তক্ষেপে ধান উদ্ধার হয়। একই দিন বদর মোল্যার ছেলে রিংকু মোল্যা ঘ্যানা বাহিনীর হাতে কয়েকদিন আগে আহত হয়ে যশোরে চিকিৎসাধীন তার পিতা বদর মোল্যার চিকিৎসার খরচ যোগাতে কালীগঞ্জ শহরে ধান বিক্রি করতে আসলে ঘ্যানার আপন ভাই গোপালপুর প্রাইমারি স্কুলের নাইট গার্ড আলা সেই ধান লুট করে। তবে ঐদিন সন্ধ্যায় স্থানীয়দের চাপে লুটকৃত ধানের বিক্রয়লব্ধ টাকা ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয়। বর্তমানে ঐ গ্রামের ৬/৭ টি পরিবারের পুরুষ সদস্য বাড়ি ছাড়া হলেও তারা জীবনের ভয়ে থানায় মামলা দায়ের করতে পারছেনা। এখন জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, যে ব্যক্তিরা আগে যুবলীগের ব্যানারে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বর্তমানে তারাই বিএনপির ব্যানারে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছে। তাহলে পরিবর্তনটা কিসের? বিষয়টি প্রশাসন ও দেশবাসী ভেবে দেখবেন কী?
office@ukantho.com