মঙ্গলবার | ২৮ জুলাই ২০২৬ ইং | বাংলা
Logo
ব্রেকিং নিউজঃ

রাজনীতি

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধে সব দলের সঙ্গেই কথা বলেছি: প্রেস সচিব

উচ্চকন্ঠ   12-May-2025   56

Photo

এফএনএস: আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত ‘সর্বজনীন স্বীকৃত’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, এ বিষয়টি সবাই গ্রহণ করেছে, ইউনিভার্সালি অ্যাকসেপ্টেড। দু-একটি দল-মতে ভিন্নতা থাকতে পারে। সেটা কোনো বিষয় নয়। নিষিদ্ধের বিষয় নিয়ে আমরা সব দলের সঙ্গেই কথা বলেছি। প্রেস সচিব বলেন, আওয়ামী লীগ লুট করেছে, খুন-গুম করেছে। সাড়ে তিন হাজার মানুষ গুম হয়েছেন। ধরে নিয়ে আয়নাঘরে কঠিন শাস্তি দেওয়া হয়েছে। বাচ্চারাও মুক্তি পায়নি। তারা মানুষের সব অধিকার খর্ব করেছে। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। এটা তাদের নিষিদ্ধ হওয়ার বড় কারণ। সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে প্রেস সচিব শফিকুল আলম এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল। অন্তর্বর্তী সরকারের ৯ মাসে নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত না এলেও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এসসিপি) দাবিতে তড়িঘড়ি করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলন ঠেকাতে আওয়ামী লীগ সরকারের দমন-পীড়ন নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কমিশন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা গেছে, তারা কী পরিমাণ খুন-গুম করেছে। নিষিদ্ধের জন্য বিশ্বজুড়ে সাপোর্ট ছিল। এ সিদ্ধান্তের পর পুরো দেশ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে। এটা সব দলের সঙ্গে কথা বলেই করা হয়েছে। ১৪ দল কিংবা জাতীয় পার্টির মতো দলগুলো নিষিদ্ধের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রেস সচিব বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে কিন্তু আওয়ামী লীগের মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ সুস্পষ্ট রয়েছে। অন্য দলগুলোর ভূমিকা সেভাবে আসেনি। হত্যা-গুম সবকিছু শেখ হাসিনার নির্দেশে হয়েছে। এজন্য আওয়ামী লীগ সুস্পষ্টভাবে দায়ী। শফিকুল আলম বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে আওয়ামী লীগ যে কী পরিমাণ লুটপাট করেছে সেটা আপনারা জানেন। একটি কোম্পানি ৭৫ হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে। একজন কবিতা পাঠ করেন ওই দলের, তিনিও ফারমার্স ব্যাংক থেকে কয়েক কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। এভাবে দেশের বিশাল সম্পদ লুট হয়েছে।
ড. ইউনূসের কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নেই: শফিকুল আলম বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নিজস্ব ব্যক্তিগত সম্পত্তি নেই। তিনি নিজে একটা গাড়িও ওন করেন না। ড. ইউনূসের সময় গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়, গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি, গ্রামীণ ওয়ালেটসহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অনুমোদন ও বিশেষ সুবিধা নিয়েছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, আপনি দেখেন যে এখানে (অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে) অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ বা ভূমিকা আছে কি না? আর যেসব প্রতিষ্ঠানের কথা বলছেন, সেইগুলো কোনোটাই কি ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত কি না? এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তার কোনো শেয়ার আছে? এসব প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি কোনো সুবিধা পান? আসলে কি এগুলো ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠান? তিনি বলেন, গ্রামীণ নামটা না হয় ড. ইউনূস দিয়েছেন। তিনি তো এসব প্রতিষ্ঠানের একটা শেয়ারের মালিক না। উনার ব্যক্তিগত কোনো সম্পত্তি বা শেয়ার আছে কোথাও, কেউ দেখাতে পারবে না। এসব প্রতিষ্ঠান অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকার কোনো ভ‚মিকা রাখেনি। আমি সবাইকে এসব বিষয়ে তদন্ত করার অনুরোধ জানাই। তিনি বলেন, গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি ২০০৯ সালে আবেদন করেছিল। ওই সময়ে ড. ইউনূস সৌদি আবর গিয়েছিলেন, সেখানে সৌদি ও জার্মানের একটা হাসপাতাল চেইন তাকে বলেছেন আপনি নার্স এবং হাসপাতাল স্টাফ পাঠান। তারা বাংলাদেশের নিয়মিত কর্মী পাঠানো এজেন্সির মাধ্যমে নেবে না। কারণ ড.ইউনূসের মাধ্যমে নিলে খরচ একদম সীমিত পর্যায়ে থাকবে। সেই আলোকে শেখ হাসিনার সরকারের আমলে লাইন্সেসের জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তারা অনুমোদন দেয়নি। এখন ২০২৪ সালের পর যদি লাইসেন্সের অনুমোদন পায় তাহলে দোষ কি? বাংলাদেশে এই রকম সাড়ে ৩ হাজার এজেন্সি আছে। তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় করতে চেয়েছিলেন ২০১২-১৪ সালের মধ্যে। ২০১৪ সালে পূর্বাচলে তার ২-৩ শত বিঘা জমি কেনা হয়েছিল। তখন যতবারই বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কাছে আবেদন নিয়ে গিয়েছিলেন, ততবারই তারা বলেছিলেন আবেদন জমা দিয়েন না। আমরা অনুমতি দিতে পারবো না। এখন গত ৬ মাস অডিট করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শফিকুল আলম বলেন, তিনি পুরো বিশ্বের বিখ্যাত অধ্যাপকদের আনতে চেয়েছিলেন, যে টা বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় হবে।
ভারতের টিভি চ্যানেল তামাশা বিক্রি করে: ভারতে বাংলাদেশি বেশকিছু গণমাধ্যম বন্ধ করা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেন, ভারতের টিভি চ্যানেলগুলো তামাশা বিক্রি করে প্রতিদিন। মনে হচ্ছে যে, ভারতের জিটিভিতে যে নাটক দেখি, তারই খন্ডিতাংশ ওদের সব টিভিতে দেখানো হয়। আমাদের দর্শকরা (বাংলাদেশি দর্শক) এটা নেয় না।এ সময় শফিকুল আলম আরও বলেন, ভারতে বাংলাদেশি চ্যানেল বন্ধ একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা। এতে বোঝা যায়, ভারত সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতায় কতটুকু বিশ্বাসী। আমরা এটা দেখছি। বাংলাদেশি যেসব গণমাধ্যম বন্ধ করা হয়েছে, সেগুলো সব এ দেশের দায়িত্বশীল গণমাধ্যম। এতে বোঝা যায়, ভারত সত্যটাকে এখন নিতে পারছে না। প্রেস সচিব এ-ও বলেন, তবে এ বিষটি নিয়ে আমরা কোন পাল্টা অ্যাকশনে যাবো না। তাতে তাদের এ কার্ক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হবে, বৈধতা দেওয়া হবে। আমরা বিষয়টি দেখছি।

office@ukantho.com


Photo

মহেশপুরে ব্যবসায়ীকে মারধর করে মোটরসাইকেল ছিনতাই, আটক-৪

বসির আহম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহের মহেশপুরে এক মুদি ব্যবসায়ীকে...

Photo

ঝিনাইদহে সভাপতি ও সম্পাদকসহ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ২৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, আটক তিন

বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ঝিনাইদহ শহরে জটিকা...

Photo

আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরবরাহ বন্ধ, লোডশেডিং বাড়ার শঙ্কা

এফএনএস: কারিগরি ত্রæটির কারণে ভারতের আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্র...

Photo

মানিকগঞ্জে বাসা থেকে আইনজীবীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

এফএনএস: মানিকগঞ্জ জেলা জজ আদালতের আইনজীবী শহিদুল ইসলামের ঝুলন্ত লাশ...

© 2026 উচ্চকন্ঠ কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত