অর্থনীতি
শৈলকুপায় পেঁয়াজ আবাদের ভরা মৌসুমে রাসায়নিক সারের চরম সঙ্কট, ফলন বিপর্যয়ের আশংকা
উচ্চকন্ঠ 19-Jan-2025 57
বসির আহাম্মেদ, ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলায় পেঁয়াজ আবাদের ভরা মৌসুমে রাসায়নিক সারের চরম সঙ্কট দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় নির্ধারিত সময়ে ডিলারের কাছে পাওয়া যাচ্ছে না সার। বাইরের দোকানে মিলছে, তাও আবার চড়া দামে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উপজেলার কৃষকরা। অপরদিকে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা খোঁজ খবর নিচ্ছেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় উৎপাদন ব্যহত হবার শঙ্কায় কৃষকেরা। তবে ডিলাররা বলছেন, তারা যা বরাদ্দ পাচ্ছেন তাতে উপজেলার কৃষকদের পুরণ হচ্ছে না চাহিদা।
উপজেলার ধাওড়া গ্রামের কৃষক শরিফুল ইসলাম। বুকভরা আশা নিয়ে ৫ বিঘা জমিতে রোপন করেছেন পেঁয়াজ। ভালো ফলনের আশায় পরিচর্যার কাজ করছেন। কিন্তু সার সংকটের ফলে ফলন বিপর্যয়ের আশংকায় চিন্তার ভাজ চোঁখে মুখে। সঠিক সময়ে পেঁয়াজ ক্ষেতে সার প্রয়োগ করতে না পারলে ফলন বিপর্যয়ে পুঁজি হারানোর চিন্তাও তার। এদিকে ডিলারদের মাধ্যমে চাহিদা মত সার পাচ্ছেন না। তবে অতিরিক্ত টাকায় খোলা বাজারে মিলছে সার, এমন অভিযোগ এই কৃষকের।
শুধু শরিফুল ইসলামী নয়, তার মতো শত শত কৃষকদের অভিযোগের তীর ডিলারদের দিকে। ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলাররা থাকেন না স্ব-স্ব স্থানে। দোকান খুলে বসেছেন পৌর এলাকায়। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে চড়া দাম দিলে খোলা বাজারে অল্প পরিমানে পাওয়া যাচ্ছে এই সার। পেঁয়াজ আবাদের ভরা মৌসুমে সার সঙ্কটে হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। তবে দ্রুত সার সঙ্কট নিরসনের দাবি তাদের ।
রফিকুল ইসলাম নামের এক কৃষক বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত দামে ডিলারের কাছে সার আনতে গেলে সার দিচ্ছে না ডিলার। বলছে আমাদেও কাছে সার নেই। আবার খোলা বাজারে গেলে সার মিলছে, তবে দাম বস্তাপ্রতি ৩ থেকে ৪ শত টাকা বেশি।
উপজেলার মদনডাঙ্গা গ্রামের কৃষক আইয়ুব হোসেন বলেন, আমি চলতি মৌসুমে ২ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ রোপন করেছি। ভালো ফলনের আশায় নিয়মিত ভাবেই পরিচর্যার কাজ করে যাচ্ছি। তবে সার সংকটের কারণে ফলন বিপর্যয়ের আশংকায় আছি। যদি সময় মতো পেঁয়াজ ক্ষেতে সার প্রয়োগ করতে না পারি তাহলে ফলন বিপর্যয়ে আমার সব পুঁজি হারাতে হবে। তবে ডিলারদের মাধ্যমে চাহিদা অনুযায়ি সার পাচ্ছি না। তাইতো অতিরিক্ত টাকায় খোলা বাজার থেকে কিনতে হচ্ছে সার।
আবুল হোসেন নামে আরেক কৃষক বলেন, ‘সার প্রয়োজন ৬ বস্তা, কাজ ফেলে রেখে ডিলারের কাছে গিয়ে সারাদিন দাঁড়িয়ে থেকে পাওয়া যাচ্ছে এক বস্তা। একবস্তা সার নিয়ে কি করবো?
ইসমালই নামের আরেক কৃষক বলেন, ‘সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ না করতে পারলে পেঁয়াজের ফলন ভাল হবে না। তাতে পুঁজি হারাতে হবে। এমন হলে পরের বছর থেকে আর পেঁয়াজ চাষ করবো না।’
এদিকে ডিলারদের দাবি, চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্ধ নেই, সেকারণেই এ সংকট দেখা দিয়েছে।
শৈলকুপা উপজেলা কৃষি অফিসার আরিফুজ্জামান জানান, কৃষকরা সার ঘরে মজুদ করে রাখায় এ সঙ্কট দেখা দিয়েছে। তা না হলে চাহিদা অনুযায়ী প্রতি কৃষক সার পেত। তবুও চেষ্টা করছি সব কৃষককেই পরিমাণমত সার দিতে। তবে ভালো ফলনের জন্য কৃষকদেও নিয়মিত নানারকম পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে শৈলকুপা উপজেলায় পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২ হাজার হেক্টর জমি। যেখানে, ইউরিয়া, টিএসপি, ডিওপিসহ রাসায়নিক সারের চাহিদা ধরা হয়েছিল ৮ হাজার মেট্টিক টন।
office@ukantho.com