প্রিয় ঝিনাইদহ
হরিণাকুন্ডতে পল্লীবিদ্যুত কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় সড়ক মাঝেই ২৩ খুঁটি রেখে করা হয়েছে সংস্কারের কাজ
উচ্চকন্ঠ 20-Apr-2025 35
বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝিনাইদহ: চলছে গাড়ি, হেঁটে যাচ্ছেন পথচারীরা। ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার পায়রাডাঙ্গা থেকে পারফলসি সড়কে প্রতিটি মুহূর্তে ভয়াল ঝুঁকি যেন ওঁৎ পেতে রয়েছে। মাত্র সাড়ে ছয় কিলোমিটার এই সড়কে দাঁড়িয়ে আছে মৃত্যু ফাঁদের মতো ২৩টি বৈদ্যুতিক খুঁটি। সড়কে বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই করা হয়েছে সড়ক সংস্কারের কাজ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক উন্নয়নের সময় খুঁটিগুলো না সরিয়ে যেনতেন ভাবে সড়কের কাজ করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। রাস্তার দুই বা তিন ফুট ভেতরে দাঁড়িয়ে আছে খুঁটিগুলো। ফলে চলাচলকারীরা বাধ্য হচ্ছেন ঝুঁকি নিয়ে সেগুলো পাশ কাটিয়ে চলতে। কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে সড়ক সংস্কার উন্নয়নের বার্তা বয়ে আনলেও খুঁটি রেখে রাস্তা নির্মাণের এই বিপজ্জনক বাস্তবতা তৈরি করেছে চরম উদ্বেগ।
রাস্তার মাঝ বরাবর বা একেবারে প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা খুঁটিগুলো যান চলাচলের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বড় গাড়ি চলতে গেলে প্রায়ই বিপজ্জনকভাবে পাশ কাটাতে হয়। যে কোনো সময় ঘটতে পারে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।
পায়রাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা তুষার পারভেজ বলেন, রাস্তার মাঝখানে এমন খুঁটি রেখে কাজ শেষ করা মানেই মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া। আমরা প্রতিদিন আতঙ্কে চলাচল করি। শিশুরা স্কুলে যেতে ভয় পায়। বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলে হয়তো কেউ এগিয়ে আসবে না।
পায়রাডাঙ্গা এলাকার গৃহবধূ ফারজানা বেগম জানান, আমি প্রতিদিন সকালে হাঁটতে বের হয়। রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ট্রাক বা পিকআপ এলে হাঁটার জায়গা পাওয়া যায় না। সড়কে বিদ্যুতের খুঁটির কারণে পাশ কাটানোও সম্ভব হয় না ঠিকভাবে। এমনকি পায়ে হাঁটতেও ভয় লাগে।
পারফলসি এলাকার গৃহবধূ আমেনা খাতুন জানান, সকালে হাটতে যেতে হয়। রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ট্রাক বা পিকআপ এলে জায়গা পাওয়া যায় না। খুঁটির কারণে পাশ কাটানোও সম্ভব হয় না ঠিকভাবে। ভয় লাগে কোনোদিন না জান নিয়ে ফিরতে পারি না।
স্থানীয় কৃষক রহমত আলী বলেন, এত টাকা খরচ করে রাস্তা বানাল, অথচ খুঁটি রেখে দিল। এটা কোনো উন্নয়ন না, বরং আরও বড় বিপদ ডেকে আনা হয়েছে।
এ ব্যাপারে হরিণাকুন্ডু উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ রাকিব হাসান বলেন, আমরা বারবার বলেছি খুঁটিগুলো যেন আগে সরিয়ে ফেলা হয়। কিন্তু পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। আমাদের হাতে তো বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর ক্ষমতা নেই।
তবে এই বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি।
office@ukantho.com