প্রিয় ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহে কোরবানির পশুর ব্যাপক প্রস্তুতি, চাহিদার চেয়ে বেশি গরু পালন
উচ্চকন্ঠ 20-May-2026 52
বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: আর কিছুদিন পরই পবিত্র কোরবানির ঈদ। বাজার ধরতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন ঝিনাইদহের খামারীরা। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটছে গরুর খামারগুলোতে। এবার জেলায় কোরবানির পশু পালন হয়েছে চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। তবে ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন খামারীরা।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চরখাজুরা গ্রামের গরুর খামারী মনোয়ার হোসেন মমতামাখা হাতে তার খামারের গরুগুলোকে গোসল করাচ্ছেন। তিনি জানান, এবারের কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ৭টি গরু লালন-পালন করেছেন। খড়, গমের ভূষি, খৈলসহ দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে। আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যেই গরুগুলো বিক্রির জন্য হাটে তোলা হবে।
তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে গরু ন্যায্য দামে বিক্রি করতে পারলে লাভের মুখ দেখা সম্ভব হবে।
শুধু মনোয়ার হোসেন নন, জেলার প্রতিটি উপজেলায় খামারীরা এখন শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত। অনেকেই এখনও পশু হাটে তোলেননি। খামারেই চলছে ক্রেতাদের সঙ্গে দরদাম। ভালো বাজারমূল্য পেলে লাভের আশা করছেন তারা।
খামারী মনোয়ার হোসেন বলেন, “অনেক কষ্ট করে গরু পালন করেছি। এখন যদি ভালো দাম পাই তাহলে কিছুটা লাভ হবে।”
প্রতিবেশী খামারী পারভেজ মোশারফ জানান, “এবার জেলায় অনেক বেশি গরু পালন হয়েছে। তাই বাজারদর নিয়ে কিছুটা চিন্তায় আছি।”
এদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, খামারীদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কেউ যাতে অসাধু উপায়ে ওষুধ বা ইনজেকশন ব্যবহার করে পশু মোটাতাজা না করেন, সে বিষয়েও নজরদারি করা হচ্ছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আতিকুজ্জামান বলেন, “খামারীদের সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশু মোটাতাজাকরণে আমরা নিয়মিত তদারকি করছি।”
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ জেলায় মোট খামারীর সংখ্যা ১৮ হাজার ৭৮০ জন। এবার কোরবানির জন্য মোট ২ লাখ ৫২ হাজার ৩৯৭টি পশু পালন করা হয়েছে। জেলার চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪২০টি পশুর। সে হিসেবে উদ্বৃত্ত থাকবে ৫৬ হাজার ৯৭৭টি পশু।
office@ukantho.com