প্রিয় ঝিনাইদহ
ইন্টারপোলের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের হাতে পাচার হওয়া যুবক ফিরলেন দেশে
উচ্চকন্ঠ 25-Jan-2026 33
বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের হাতে পাচার হওয়া জুয়েল নামে এক যুবককে ইন্টারপোলের সহায়তায় উদ্ধার করেছে ঝিনাইদহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। থাইল্যান্ডে উচ্চ বেতনের চাকুরীর প্রলোভন দেখালেও তাকে জিম্মি করে করানো হতো অনৈতিক সব কাজ। বাধা দিলেই করা হতো শারিরিক ও মানসিক নির্যাতন। দীর্ঘ ৯মাস নানা নির্যাতন সহ্যের পর পুলিশের সহযোগিতায় অবশেষে বাড়ি ফিরেছেন জুয়েল।
জুয়েল মিয়া, ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে সিদ্ধান্ত নেন বিদেশ যাবার। পরিচয় হয় আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্রের এক সদস্যের সাথে। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় থাইল্যান্ডে উচ্চ বেতনের চাকুরীর। ৭ লক্ষ টাকার বিনিময়ে গত বছরের ৯ এপ্রিল জুয়েল মিয়াকে কম্বোডিয়াতে পাচার করে দেয় পাচারকারী চক্র। আটকে রাখা হয় সীমান্তবর্তী ওসমাস নামক স্থানে। সেখানে তাকে দিয়ে করানো হয় স্ক্যাম সহ নানা অনৈতিক কাজ। রাজি না হলে করা হয় শারীরিক নির্যাতন, মারপিট, কারেন্ট শক দেওয়া সহ নানা নির্যাতন। বন্ধ হয়ে যায় পরিবারের সাথে যোগাযোগও। তবে ৯মাস নানা নির্যাতন সহ্যের পর বোনের বুদ্ধিমত্তা আর পুলিশের সহযোগিতায় কম্বোডিয়ার এই মৃত্যুকুপ থেকে অবশেষে বাড়ি ফিরেছে জুয়েল মিয়া। সে মাগুরা জেলার বাসিন্দা হলেও থাকতেন ঝিনাইদহ পৌর এলাকার কাঞ্চননগর পাড়ায়। অন্যদিকে পাচারকারী চক্রের সদস্য ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী এলাকার ফয়জুল হক ও ছেলে ফয়সাল হক।
জুয়েল মিয়া জানায়, কম্বোডিয়ায় পৌছানোর পর থেকে পরিবারের সাথে একপ্রকার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। মাসে একবার কথা বলার সুযোগ পেলেও নিজের অসহায়ত্বের কথা পরিবারের কাছে বলার সুযোগ ছিল না।
সম্প্রতি থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে যুদ্ধ চলমান থাকায় বন্দিশালা থেকে পালানোর সুযোগ পান তিনি। জুয়েলকে ফিরিয়ে আনতে তার বোন রুমা খাতুন বিভিন্ন জায়গায় ধর্ণা দিলেও কোন প্রতিকার মেলেনি। পরে ঝিনাইদহ আদালতে মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে পাচারকারী চক্রের সদস্য ফয়সাল,তার পিতা ফয়জুল ও তার মাকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন বোন রুমা খাতুন। আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্ত শুরু করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। উদ্দোগ নেওয়া হয় জুয়েলকে ফেরাতে। পরে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ইন্টারপোল ও কম্বোডিয়া পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে মঙ্গলবার জুয়েল মিয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
কম্বোডিয়ায় নির্যাতনের শিকার জুয়েলের বোন রুমা খাতুন জানান, জুয়েল কম্বোডিয়ার মৃত্যুকুপ থেকে ফিরে আসবে সেটা কল্পনা করতে পারিনি বলেও জানালেন তার বোন। আমার কাছে অবিশ^াসই মনে হচ্ছে। তার পরও পুলিশের সহযোগিতাই আমার ভাই জীবিত ফিরে এসেছে এজন্য আল্লাহ্ প্রতি শুকরিয়া জানায়। আমাদের দেশের পুলিশ যে পারে
ঝিনাইদহ জেলা গোয়েন্দা শাখা (মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা) সাব ইন্সপেক্টও গোলাম মোর্শেদ জানান, ইন্টারপোলের সহায়তায় জুয়েলকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিক্ষা শেষে পরিবারের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল জানান, এই মানবপাচার চক্রের বিষয়ে তদন্ত চলছে। পরে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানালেন জেলা পুলিশের এই কর্মকর্তা।
মামলায় ছয় মাস কারাবরণ শেষে জামিনে মুক্তি পেয়ে গা ঢাকা দিয়েছে মানবপাচারকারীর চক্রের সদস্য ফয়সাল ও তার পরিবার। মানবপাচারকারীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন জুয়েলের পরিবার ও স্বজনরা।
office@ukantho.com