রবিবার | ২ আগস্ট ২০২৬ ইং | বাংলা
Logo
ব্রেকিং নিউজঃ

প্রিয় ঝিনাইদহ

প্রার্থী মনোনয়নে ভুল সিদ্ধান্ত নিলে ঝিনাইদহে বিএনপির দুর্গে ফাটলের শঙ্কা

উচ্চকন্ঠ   06-Nov-2025   100

Photo

বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহ-২ আসন বিএনপি’র ঘাটি হিসেবে পরিচিতি। স্বাধীনতার পর থেকে বিএনপি’র প্রার্থী এই আসন থেকে একাধিকবার জয়ী হয়েছেন। ফলে জেলা সদরের এই আসনটি বিএনপির হৃদস্পন্দন ধরা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৩৭টি আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হলেও ঝিনাইদহ-১, ঝিনাইদহ-২ ও ঝিনাইদহ-৪ সংসদীয় আসনে প্রার্থী ঘোষনা করেনি বিএনপি। গুঞ্জন উঠেছে ঝিনাইদহ-২ আসন মিত্রদলের জন্য ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এ খবরে তৃণমুল বিএনপিতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ-২ আসন বহুদিন ধরেই বিএনপি’র অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এই আসনের রাজনীতি মূলত ঘুরে দাঁড়িয়েছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ত্যাগ, আন্দোলন ও দীর্ঘ সংগ্রামের ওপর। কিন্তু সেই দৃঢ় সেই ঘাঁটিতেই এখন দেখা দিয়েছে শঙ্কার কালো মেঘ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঝিনাইদহ-২ আসনে যদি বিএনপির প্রার্থী না থাকে তবে এই অঞ্চলে বিএনপির অস্তিত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। গভীর সংকট দেখা দিবে মাঠের রাজনীতিতে।
তৃণমুল বিএনপির নেতা সাধুহাটী ইউনিয়নের কৃষক আলাউদ্দীন জানান, যারা বছর দশকের পর দশক ধরে রাজপথে থেকে দলকে টিকিয়ে রেখেছেন, হামলা-গ্রেপ্তার সহ্য করে সংগঠন ধরে রেখেছেন, তারা যদি মনোনয়ন বঞ্চিত হন তবে ভবিষ্যাতে আর কেউ বিএনপি করবে না।। ফলে ঝিনাইদহ ও হরিণাকুন্ডু উপজেলায় বিএনপির জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে এ্যাডভোকেট এম এ মজিদকে মনোনয়ন দিলে আসনটির মর্যাদা যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি জেলার অন্য তিনটি আসনও নেতৃত্বে সমৃদ্ধ থাকবে।
সদর উপজেলার নগরবাথান গ্রামের মোজাম্মেল হক জানান, ঝিনাইদহ এলাকার রাজনীতি গড়ে উঠেছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ত্যাগ, নিষ্ঠা ও মাঠের লড়াইয়ের ওপর ভিত্তি করে। তাই প্রার্থী নির্বাচনে যদি সেই বাস্তবতা উপেক্ষা করা হয়, তাহলে সংগঠনের ভিত নড়বড়ে হয়ে যাবে এবং দলের অভ্যন্তরে বিভক্তি অনিবার্য হয়ে উঠবে।
সদর উপজেলার সাদুহাটী ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, দীর্ঘ সময় ধরে মাঠে থাকা নেতাদের বাদ দিয়ে সমঝোতার রাজনীতি যদি হাইকম্যান্ড প্রাধান্য দেয়, তাহলে ঝিনাইদহ-২ কেবল হারানো আসন হবে না, এটি পুরো জেলার বিএনপি সংগঠনের জন্য হতাশার প্রতীক হয়ে দাঁড়াবে।
এদিকে বিএনপির প্রবীন নেতা আক্তারুজ্জামান বলেন, ঝিনাইদহ-২ আসনে এমন অনেক পরিবার আছে যাদের সদস্যরা বছর পর বছর বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কারো বাড়ি পুড়েছে, কেউ মামলা খেয়ে পালিয়ে থেকেছে, কেউ আবার জেল খেটেছে; কিন্তু দল ছাড়েনি কেউই। সেই মানুষগুলোর মনে এখন একটাই প্রশ্ন যাদের রক্ত, শ্রম আর ত্যাগে এই আসনের সংগঠন টিকে আছে, তাদের বাদ দিয়ে শরীক দলকে সিট ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে সেটা হবে নিজের কান কেটে অপরের যাত্রা ভঙ্গের সামিল।
বিষয়টি নিয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা বলেন, এই মুহূর্তে বিএনপির জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো দ্রুত, স্বচ্ছ ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া। কারণ এই আসনের প্রশ্ন কেবল একজন প্রার্থীর নয়, বরং এটি দলীয় অস্তিত্ব, তৃণমূলের সম্মান ও আন্দোলনের উত্তরাধিকার রক্ষার প্রশ্ন। সময় এসেছে দল প্রমাণ করুক, তারা ত্যাগ ও সংগ্রামের মূল্য দিতে জানে কিনা।

office@ukantho.com


Photo

বাহুবল মডেল থানার ওসিকে হুমকি, উপজেলা বিএনপি সভাপতি আটক

এফএনএস: হবিগঞ্জের বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল...

Photo

ছাত্রদের ওপর হামলায় জড়িতরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা

এফএনএস: গাজীপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতাদের ওপর হামলায় জড়িত আওয়ামী...

Photo

তিন সন্তানের জননী নিখোঁজ: অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে চলে যাওয়ার অভিযোগ, আদালতে মামলা

বসির আহাম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়ীয়া গ্রামে...

Photo

ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসককে হামিদের ফুলেল শুভেচ্ছা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের নব নিযুক্ত প্রশাসক এ্যাড. আব্দুল...

© 2026 উচ্চকন্ঠ কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত