প্রিয় ঝিনাইদহ
অভাবের তাড়নায় মহেশপুরে ১ দিনের শিশু বিক্রি করলেন অসহায় মা
উচ্চকন্ঠ 02-Oct-2025 50
মামুন হোসেন, কোটচাঁদপুর প্রতিবেদক: মাত্র একদিন বয়সী সদ্যপ্রসূত ছেলে সন্তানকে দত্তক দিতে বাধ্য হয়েছেন এক অসহায় মা। বিনিময়ে মিলেছে মাত্র ৬৫ হাজার টাকা ও হাসপাতালের বিল পরিশোধ। এ হৃদয় বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নেপার মোড়ের পিয়ারলেস প্রাইভেট হাসপাতালে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহেশপুর উপজেলার সুমাইয়া খাতুনের জীবনে নেমে আসে চরম সংকট যখন ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীন তাঁর স্বামী আল-আমিন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুরবাড়ি কিংবা বাবার বাড়ি—কোথাও ঠাঁই না পেয়ে বৃদ্ধা নানির বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রসব বেদনা উঠলে এক প্রতিবেশীর সহায়তায় স্থানীয় ক্লিনিকে সিজার অপারেশনের মাধ্যমে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন সুমাইয়া খাতুন। কিন্তু দারিদ্র্য এবং ঋণের বোঝা তাঁকে এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।
নবজাতকের মা সুমাইয়া খাতুন জানান স্বামীর মৃত্যুর পর গর্ভাবস্থায় আমি কোথাও ঠাঁই পাইনি। লোকের কাছে ধার-দেনা করে কোনো মতে চলেছি। ক্লিনিকের খরচ, সন্তান মানুষ করা আমার পক্ষে সম্ভব না। সে কারণেই নবজাতক সন্তানকে দত্তক দিতে বাধ্য হয়েছি। তিনি আরও জানান, যারা শিশুটিকে দত্তক নিয়েছেন, তাদের বাড়ি কুমিল্লায় বলে শুনেছেন, কিন্তু তাদের পরিচয় তাঁর অজানা।
এই হৃদয়বিদারক লেনদেনে সহযোগিতা করেন ক্লিনিকের নার্স ইসমোতারা। বিনিময়ে সুমাইয়া খাতুনকে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করে নগদ ৬৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
১ অক্টোবর বুধবার বিকেলে ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হেলেনা আক্তার নিপার নেতৃত্বে পিয়ারলেস প্রাইভেট হাসপাতালে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে ক্লিনিকের কাগজপত্রে ত্রুটি এবং হাসপাতালের পরিবেশ ভালো না থাকায় ক্লিনিক মালিক সেলিম রেজা বাবুকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়ে। নবজাতক বিক্রিতে সহায়তাকারী ক্লিনিকের নার্স ইসমোতারাকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
ইউএনও খাদিজা আক্তার জানান, ক্লিনিক মালিকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং শিশু বিক্রির সহযোগিতাকারী নার্সের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।
অপরদিকে, পিয়ারলেস প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক সেলিম রেজা বাবু বলেছেন, সিজারের পর রোগীর দেখাশোনা ছাড়া আমার কিছু করার নেই। রোগী যদি কারও সঙ্গে আপস করে সন্তান দিয়ে দেয়, সেটার জন্য আমি দায়ী নই।
মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (টিএইচও) হেলেনা আক্তার নিপা নিশ্চিত করেছেন, অভিযানের মাধ্যমে ক্লিনিক মালিকের জেল এবং শিশু বিক্রির সহযোগিতাকারী নার্সের বিরুদ্ধে মামলার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
office@ukantho.com