প্রিয় ঝিনাইদহ
অপরুপ সৌন্দর্যের লিলাভূমি কালীগঞ্জের বামনের বিল, এ যেন মিনি টাঙ্গুয়ার হাওড়
উচ্চকন্ঠ 22-Sep-2025 51
হাবিব ওসমান, কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ: প্রাকৃতিকভাবেই শস্য ও মৎস্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার জামাল ইউনিয়নের নাটোপাড়ার বামনের বিল। বিলের সঙ্গে সংযুক্ত বেগবতি ও ফটকি নদী। কালীগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে জামাল ইউনিয়নের নাটোপাড়া থেকে শুরু বামনের বিল। নাটোপাড়া গ্রামটি কালীগঞ্জ উপজেলার পূর্বাঞ্চলের শেষ গ্রাম। এ গ্রামের অপর প্রান্তে রয়েছে মাগুরার শালিখা উপজেলার মশাখালী গ্রাম। এ বিলের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে ফটকি ও বেগবতি নদীর মিলনে। মৌসুম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পেশারও পরিবর্তন হয় এই বিল পাড়ের মানুষের। বর্ষা মৌসুমে ঝিনাইদহ, মাগুরা ও যশোরের বিভিন্ন উপজেলা থেকে মানুষ আসেন বিল ভ্রমণে। এ সময় বিল পাড়ের মানুষ ছোট ছোট ডিঙি নৌকা, ট্রলার ও স্পিডবোড চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। ছোট ছোট রকমারি দোকান পসরা বসিয়ে দর্শনার্থীদের নিকট বেচা বিক্রিও করেন অনেকে। পাশাপাশি মাছ ধরার কাজে ব্যস্ত থাকেন তারা। আবার শুষ্ক মৌসুমে অনেকে জড়িয়ে পড়েন কৃষি কাজে।
সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায় এই বর্ষায় বিলের সৌন্দর্য্য ও ¯্রােতহীন বিশাল রাশির সমাহার দেখার জন্য দুর দুরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের ভীড়। স্থানীয়রা জানান, বর্ষায় এ বিলের রূপ থাকে ভিন্ন। চারদিকে থইথই ঢেউহীন পানি। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যেমন রূপ বদলায় এ বিলের। তেমনি কাজের ধরনেরও পরিবর্তন হয় বিলপাড়ের বাসিন্দাদের। একেক সময়ে একেক কাজকে পেশা হিসেবে নিয়ে আমরা পুরো বছর কর্মব্যস্ত সময় পার করি। এর ফলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি বামনের বিল এখন কর্মসংস্থানের বড় ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। অনেকেই বিলের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট পুকুর খনন করেছেন যেটা এখন পানির নিচে। শুস্ক মৌসূমে এসব পুকুরে দেশি মাছের চাষ করা হয়। এ থেকে বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি হয় বহু মানুষের। অনেকে আবার বিলের উন্মুক্ত জলাশয়ে হাঁস পালন করছেন। বাঁশ-বেতশিল্প ও জাল বোনার মতো পুরনো পেশা আঁকড়ে রেখেছেন তারা। বামনের বিলের মাটি খুব উর্বর। বর্তমানে অতি বর্ষনে ধানসহ অন্যান্য আবাদ না হলেও এখন নৌযান চালিয়ে দর্শনার্থীদের বিল ভ্রমন এবং মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছি আমরা, কাজেই এই বিলই আমাদের আয়-রোজগারের প্রধান উৎস।
কালীগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ হাসান সাজ্জাদ বলেন, প্রাকৃতিকভাবে ও চাষের মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিকল্পিতভাবে বামনের বিলকে ব্যবহার করা গেলে আরও অনেক মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে আমি মনে করি। প্রাকৃতিকভাবেই বামনের বিল শস্য ও মৎস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত। বর্তমান সময়ে এখানে দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়েছে। বর্ষার এই সময় বিল পাড়ের মানুষ দর্শনার্থীদের বিল ভ্রমন করানো এবং মাছ শিকার করে বাড়তি আয়ের সুযোগ হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে নাটোপাড়ার বাজারের ব্রীজঘাট পাকাকরণ করে পর্যটকদের নৌকা, টলার ও স্পীড বোডে ওঠানামার ঘাটটি উপযুক্ত করা, পর্যটকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা, মৎস্য বিভাগ থেকে মৎস্যজীবিদের প্রশিক্ষন, কৃষি ও প্রাণী সম্পদ বিভাগ থেকে সঠিক তরারকি এবং নাটোপাড়া বাজারে পর্যটকদের বিশ্রামাগার ও খাওয়া-দাওয়া করার জন্য হোটেল মোটেলের ব্যবস্থার দাবি জানান দর্শনার্থী ও স্থানীয়রা।
office@ukantho.com