প্রিয় ঝিনাইদহ
‘এয়ার ফ্লো’ পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ
উচ্চকন্ঠ 07-Jul-2025 34
বসির আহম্মেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পেঁয়াজ সংরক্ষণে সাড়া ফেলেছে কৃষকের এসি হিসেবে খ্যাত ‘এয়ার ফ্লো’ মেশিন। মেশিনটি স্থাপনে খরচও অনেক কম। চাষি ও ব্যবসায়ীরা নিজেই অল্প যায়গায় এ পদ্ধতিতে অধিক পরিমাণ পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারছেন। এ পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করলে কমবে পঁচনের হার। একইসঙ্গে সুবিধাজনক সময়ে বিক্রি করলে লাভবান হবেন চাষি।
পেঁয়াজ চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, উপজেলায় চাষাবাদে আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহারে উৎপাদন বাড়লেও সংরক্ষণের আধুনিক পদ্ধতি না থাকায় মৌসুমের শুরুতেই উৎপাদিত ফসলের অধিকাংশ হাটে বাজারে পাইকারদের কাছে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয় চাষি। মৌসুম শেষ হতেই ফসলের দাম বেড়ে গেলেও তার সুফল চাষি পায় না। প্রচলিত পদ্ধতিতে টিনের ঘরের বাঁশের মাচায় এতদিন কৃষক মসলা জাতীয় ফসল পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে আসছিল। এতে মাত্র কয়েক মাসের মাথায় পেঁয়াজ পচতে শুরু করে এবং রোদের তাপে দ্রুত ওজন কমে যায়।
স্থানীয় চাষিরা জানান, একটি ‘এয়ার ফ্লো’ মেশিনে মাত্র ১০ ফুট থেকে ১২ ফুট জায়গায় তিন থেকে সাড়ে তিন শ’ মণ পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা যায়। সনাতন পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করলে সেই পেঁয়াজ বেশিদিন ভাল থাকে না। শুকিয়ে ওজন কমে যায় প্রতি মণে দশ থেকে বারো কেজি। তবে এই পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করলে ঘাটতি কম। সংরক্ষণও করা যায় ৮ থেকে ৯ মাস। প্রতিদিন দশ থেকে বারো ঘন্টা চালু রাখতে হয় এই মেশিন। মাসে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বিদ্যুৎ খরচের বাইরে আর কোনো অতিরিক্ত ব্যয় নেই।
নাদপাড়া গ্রামের লিটন হোসেন মন্ডল জানান, ফরিদপুরে এই এয়ার ফ্লো যন্ত্র পাওয়া যায় শুনে সেখানে যোগাযোগ করে দুটি যন্ত্র ৪০ হাজার টাকায় কেনেন। এটির মাধ্যমে তিনি পৌর এলাকার শাহী মসজিদ পাড়াতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করছেন। এ পদ্ধতি ব্যাপকভাবে চালু হলে চাষি ও ব্যবসায়ীরা লাভের মুখ দেখবে।
শৈলকুপা বাজারের ব্যবসায়ী অরুপ সাহা ও খবির উদ্দিন বলেন, প্রচলিত পদ্ধতিতে মণপ্রতি ১২ থেকে ১৫ কেজি পেঁয়াজ নষ্ট বা শুকিয়ে গেলেও এয়ার ফ্লো পদ্ধতিতে তার হার মাত্র ৪ থেকে ৫ কেজি। ফলে তা চাষি বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ির জন্যও লাভজনক। আর বহুদিন পরও তা তরতাজা থাকায় দামও ভালো পাওয়া যায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান জানান, এয়ার ফ্লো পদ্ধতিতে অল্প জায়গায় অধিক পরিমাণ পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা যাবে। কেউ কেউ এ পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ শুরু করেছেন। সাধারণ পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণে বছরে পচন ও শুকিয়ে ঘাটতি হয় ৩০ শতাংশ। নতুন পদ্ধতিতে ঘাটতি হবে মাত্র ৫ শতাংশ। সারাদেশে এ পদ্ধতি চালু হলে আমদানি নির্ভরতা কমবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ষষ্টি চন্দ্র রায় জানান, এ বছর এয়ার ফ্লো প্রযুক্তিটি সম্প্রসারণের জন্য আমরা কাজ করছি। এ পদ্ধতি ব্যবহার করতে আমরা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি। আশা করছি, দিন দিন এ পদ্ধতিটির চাহিদা বৃদ্ধি পাবে।
office@ukantho.com